জাতীয়

২০৩০ সালের মধ্যে রাজধানীতে ১২৮ কিমি মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক

২০৩০ সালের মধ্যে রাজধানীতে ১২৮ কিমি মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক।২০৩০ সালের মধ্যে রাজধানীজুড়ে নির্মিত হবে ১২৮ কিলোমিটার উড়াল ও পাতাল রেল। সরকারের শীর্ষ মেগাপ্রকল্পগুলোর মধ্যে রাজধানীতে ছয় ধাপে নির্মিত হচ্ছে মেট্রো রেল। এর মধ্যে রয়েছে উড়াল রেল ৬৭.৫৬৯ কিলোমিটার এবং পাতাল রেল ৬১.১৭২ কিলোমিটার। ‘সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা-২০৩০’ শিরোনামে এ প্রকল্পের আওতায় ছয় ধাপের প্রথম ধাপে এমআরটি-৬ অবকাঠামো নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান। নতুন করে প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সাল। দ্বিতীয় ধাপে এমআরটি-১-এর কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সাল। এমআরটি-৫-এর আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—এ দুটি রুটের কাজ শেষ করতে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সাল। তৃতীয় ও শেষ ধাপ এমআরটি-২ ও ৪-এর কাজ শেষ হবে ২০৩০ সালে।

এমআরটি-৬ : মেঘাপ্রকল্প মেট্রো রেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগেই মেট্রো রেলের প্রথম ধাপ এমআরটি-৬ উড়াল রেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হবে। করোনা মোকাবেলা করেই দ্রুত এগিয়ে চলেছে এ প্রকল্পের কাজ।  উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত উড়াল রেলের অবকাঠামো দৃশ্যমান। আগারগাঁও পর্যন্ত পিয়ারের ওপর বসানো হয়েছে ভায়াডাক্ট। বর্তমানে চলছে স্টেশনের ছাদ নির্মাণের কাজ। দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ৬৫৯টি পিয়ারের মধ্যে এরই মধ্যে নির্মিত হয়েছে ৫৯৬টি।

মেট্রো রেল সংশ্লিষ্টরা জানান, দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৭৬.৩৭ শতাংশ। উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দূরত্ব্ব ২০.১০ কিলোমিটার।

দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেলের নির্মাণকাজ করছে সরকারি মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি’ (ডিএমটিসিএল)। দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত উন্নয়নকাজ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায় দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও ১১.৭৩ কিলোমিটার, দ্বিতীয় পর্যায় আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার ৩.১৯৫ কিলোমিটার, তৃতীয় পর্যায় কারওয়ার বাজার থেকে মতিঝিল ৪.৯৯২ কিলোমিটার।

নবীগঞ্জে নারী নির্যাতন মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী মিলাদ গ্রেফতার

মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ৭৬.৩৭ এবং অন্য দুই পর্যায়ে ৪৩.৪৬ শতাংশ। সার্বিক অগ্রগতি ৫০.৪০ শতাংশ। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্ক রেলকোচসহ সার্বিক সরঞ্জামাদির অগ্রগতি ৩৬.৭৫ শতাংশ। মেট্রো রেলের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১ আগস্ট। প্রথম পর্যায়ে দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো রেল চালুর সম্ভাব্য তারিখ ২০২০ সাল ধরা হলেও মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে কাজের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। অবশ্য বর্তমানে করোনা সংকট কাটিয়ে ফের দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে।

মেট্রো রেল প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মেট্রো রেলের কাজ শুরু হলেও তার আগে নির্ধারিত সময়ে ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ করে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ডিপো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ডিপো এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ।

আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত উন্নয়নকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১ আগস্ট। বর্তমানে চলছে ফার্মগেটে স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণকাজ। কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত শেষ হয়েছে ১১৩টি পিয়ারের নির্মাণকাজ। মোট কাজের অগ্রগতি ৪৯.০৮ শতাংশ। মেট্রো রেলে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে টঙ্গী ও মানিকনগর এলাকায় গ্রিড সাবস্টেশন এবং উত্তরায় রিসিভিং সাবস্টেশন নির্মাণকাজ শেষ।

এমআরটি-১ : এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের প্রথম পাতাল রেল নির্মাণ করা হবে। দুই পর্যায়ে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯.৮৭২ কিলোমিটার পাতাল রেল এবং নতুন বাজার থেকে রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ পর্যন্ত ১১.২৬৯ কিলোমিটা উড়াল রেল নির্মাণ করা হবে। এই রুটে যাত্রীদের জন্য নতুন বাজার স্টেশনে রেল পরিবর্তনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যাতে কমলাপুর রুটের যাত্রীরা সহজে পূর্বাচল রুটে এবং পূর্বাচল রুটের যাত্রীরা সহজে কমলাপুর রুটে যেতে পারেন। এ প্রকল্পের সার্বিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় ধাপের নর্দান রুটে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ১৩.৫০ কিলোমিটার পাতাল এবং ৬.৫০ কিলোমিটার উড়াল রেল মিলে ২০ কিলোমিটার মেট্রো রেলের কাজ শেষ করতে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সাল। এতে ব্যয় হবে ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের ১২ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করেছে।

তৃতীয় ধাপের এমআরটি-৫ গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত  সাউদার্ন রুটে ১২.৮০ কিলোমিটার পাতাল, ৪.৬০ কিলোমিটার উড়াল রেলের কাজ শেষ করতে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সাল। এরই মধ্যে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঋণ নিয়ে চুক্তিও হয়েছে। একই ধাপের এমআরটি-২ গাবতলী থেকে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার উড়াল এবং পাতাল রেল নির্মাণ করতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে দিয়েছে। এর আওতায় পিপিপি পদ্ধতিতে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রেলওয়ে ট্রাকের পাশ দিয়ে ১৬ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণ করা হবে। এ কাজ শেষ করতে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সাল।

এসব বিষয় নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মেট্রো রেল এমআরটি-৬ প্রকল্পের কাজ প্রায় ৫২ শতাংশ শেষ হয়েছে। অন্য ধাপগুলোর কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে। করোনা প্রাদুর্ভাবে কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হলেও এখন তা পুষিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’