Football খেলাধুলা

কলম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল উরুগুয়ে, পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারাল ফ্রান্স

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জয় পেয়েছে উরুগুয়ে। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে তারা ৩-০ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়াকে। এমন জয়ে গোলের দেখা পেয়েছেন এডিনসন কাভানি ও লুইস সুয়ারেজ। অপর গোলটি করেছেন দারউইন নুনেস।

লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের এটা তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয়। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে। সমান ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে কলম্বিয়া রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে।

শনিবার ভোরে ম্যাচের ৫ মিনিটেই লিড নেয় উরুগুয়ে। এ সময় এডিনসন কাভানি গোল করেন। তাকে গোলে সহায়তা করেন নাহিতান নান্দেজ। কাভানির গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় উরুগুয়ে।

বিরতির পর ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান লুইস সুয়ারেজ। এ সময় রদ্রিগো বেন্তাকুরকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন কলম্বিয়ার জেইসন মুরিলো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

এটি ছিল উরুগুয়ের হয়ে সুয়ারেজের ৬৩তম গোল। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এটি ছিল তৃতীয় ম্যাচে তার চতুর্থ গোল। এর আগে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২টি ও চিলির বিপক্ষে ১টি গোল করেছিলেন তিনি।

৭৩ মিনিটে তৃতীয় গোলটি আসে উরুগুয়ের। এ সময় নুনেস ২৫ গজ দূর থেকে শট নিয়ে বল জালে জড়ান। তার নেওয়া শট ডাইভ দিয়েও ফেরাতে পারেননি কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ডেভিড ওসপিনা।

ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব: ভেনেজুয়েলাকে হারিয়ে শীর্ষে ব্রাজিল

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে দশজনের দলে পরিণত হয় কলম্বিয়া। এ সময় ইয়েরি মিনা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

উরুগুয়ে মঙ্গলার চতুর্থ ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে। আর কলম্বিয়া মুখোমুখি হবে ইকুয়েডরের।

এদিকে,

লিসবনে শনিবার রাতে নেশন্স লিগে ‘এ’ লিগের তিন নম্বর গ্রুপে ১-০ গোলে জিতেছে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন এনগোলো কঁতে।

এই হারে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই থেকে ছিটকে পড়ল পর্তুগাল। আর গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে আসরের ফাইনালসে জায়গা করে নিল ফ্রান্স।

পাঁচ ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ফ্রান্সের পয়েন্ট হলো ১৩। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে পর্তুগাল। দুই দলের পয়েন্ট সমান হলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় শীর্ষেই থাকবে দিদিয়ে দেশমের দল।

প্রথম চার রাউন্ডে তিনটি করে জেতা ও একটি করে ড্র করা দল দুটির লড়াই শুরু থেকে রোমাঞ্চ ছড়ায়। শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠা পর্তুগাল গোলের উদ্দেশে মোট ১৮টি শট নেয়, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু পোস্টের নিচে উগো লরিসের দারুণ নৈপুণ্য আর ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। সমান তালে আক্রমণ করে যাওয়া ফরাসিদের ১৩ শটের সাতটি ছিল লক্ষ্যে।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ডি-বক্সের অনেক বাইরে থেকে আচমকা শটে গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেন রোনালদো। বলে চোখ রেখে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে সহজেই ফেরান লরিস।

খানিক পর দুই মিনিটে ভালো দুটি সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। দুবারই তাদের বিমুখ করেন পর্তুগাল গোলরক্ষক। একাদশ মিনিটে কিংসলে কোমানের জোরাল শট কর্নারের বিনিময়ে ফেরানোর পর অঁতনি মার্সিয়ালের শট এগিয়ে পা দিয়ে ঠেকান পাত্রিসিও।

৩০তম মিনিটে ভাগ্যের ফেরে এগিয়ে যেতে পারেনি ফ্রান্স। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে আদ্রিওঁ রাবিওর উঁচু করে বাড়ানো বলে গোলমুখ থেকে মার্সিয়ালের হেড ক্রসবারে বাধা পায়। ৪১তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সুযোগ নষ্ট হয় সফরকারীদের। ছয় গজ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মার্সিয়ালের স্লাইড শট রুখে দেন পাত্রিসিও।

বিরতির ঠিক আগে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগালও। কিন্তু রোনালদোর লাফিয়ে নেওয়া জোরালো শট ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

প্রথমার্ধে দারুণ নৈপুণ্যে জাল অক্ষত রাখা পাত্রিসিওর ভুলেই পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। রাবিওর বাঁ দিক থেকে নেওয়া শটে তেমন কোনো হুমকি ছিল না। কিন্তু বল ধরতে গিয়ে তালগোল পাকান উলভারহ্যাম্পটন ওয়ানডারার্সের গোলরক্ষক, আলগা বল গোলমুখে পেয়ে টোকায় লক্ষ্যে পাঠান কঁতে।

পাঁচ ম্যাচ পর গোল হজম করল ইউরো ও নেশন্স লিগের শিরোপাধারী পর্তুগাল।   

৬০তম মিনিটে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে রাফায়েল গেররেরোর জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান লরিস। খানিক পরেই হোসে ফন্তের হেড পোস্টে লাগলে সমতায় ফেরা হয়নি স্বাগতিকদের।

৭৫তম মিনিটে পর্তুগালকে আবারও বিমুখ করেন লরিস। রোনালদোর ক্যাটব্যাক পেয়ে জোয়াও মৌতিনিয়োর বুলেট গতির শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। বাকি সময়েও একইভাবে আক্রমণ করে যায় দলটি; কিন্তু সাফল্যের দেখা মেলেনি।

গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে আগামী মঙ্গলবার ক্রোয়েশিয়ার মাঠে খেলবে পর্তুগাল। আর সুইডেনের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে ইউরোর গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স।