Bangladesh

পঞ্চগড়ে ট্রাক-পুলিশ ভ্যান সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬

পঞ্চগড়ে ট্রাক-পুলিশ ভ্যান সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬       দেলোয়ার হোসাইন নয়ন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় পুলিশের গাড়ির সাথে ট্রাকের সংঘর্ষে ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৩৮) নিহত হয়েছে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন আরো ছয়জন। আহতদের উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত এক পুলিশ সদস্যকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়-বোদা মহাসড়কের ময়দানদিঘী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ার হোসেনের বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ভোমরদহ এলাকায়। সে ওই এলাকার মৃত মোকাদ্দেস বিশ্বাসের ছেলে। আহতরা হলেন পঞ্চগড় জেলা পুলিশের কনস্টেবল আব্দুল্লাহ, কনস্টেবল এরশাদ হক ও গাড়িচালক (কনস্টেবল) মোরশেদ আলম, পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনই হাট ইউনিয়নের জুগিগছ এলাকার নুরুল ইসলাম গলি (৪০), বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকার ফজলুর রহমান (৪৫) ও একই এলাকার বাবুল হোসেন (৩৭)। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে ময়দানদিঘী বাজারে পুলিশের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পুলিশের গাড়িতে (পিকআপ ভ্যান) করে ময়দানদিঘী যাচ্ছিলেন পুলিশের কয়েকজন সদস্য। যাওয়ার পথে গাড়িটি ময়দানদিঘীর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়াগতিতে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুমড়ে-মুচড়ে যায় পুলিশের গাড়িটি। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ এসে একই জায়গায় ধাক্কা খায়। স্টিয়ারিং বুকে চাপা লেগে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন মারা যান। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গুরুতর আহত পুলিশের গাড়িচালক মোরশেদ আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার কাজে সহায়তা করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সায়েম মিয়া বলেন, নিহত ট্রাকচালকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। ট্রাকটি আটক রয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।                                                           মায়ের প্রেমিককে নিজ হাতে কুপিয়ে মারলেন ছেলে   মায়ের প্রেমিককে নিজ হাতে কুপিয়ে মারলেন ছেলে।মাদারীপুরের কালকিনিতে মায়ের পরকীয়ার জের ধরে ছেলের হাতে মো. জাহিদ মীর(২০) নামের এক যুবক খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত ছেলের বসতঘরসহ ৬টি ঘরে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। এদিকে খুনের ঘটনায় ওই এলাকা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাস্থলে সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকালে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকা, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালীগ্রাম এলাকার ঘুঙ্গিয়াকুল গ্রামের মজিবর মীরের ছেলে টাইলস মিস্ত্রি জাহিদ মীরের সঙ্গে মাদারীপুর জেলার ঝাউদি এলাকার কালাইমারা গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলে আসছিল। এ নিয়ে প্রবাসীর ছেলে সাকিব ও জাহিদের মাঝে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

গত শনিবার দিবাগত রাতে জাহিদ মীর ওই প্রবাসীর বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে নাচতে যায়। এ সময় জাহিদকে প্রবাসীর ছেলে সাকিব তার বাড়ির একটি নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে সেখানে বসে সাকিবের নেতৃত্বে সাগর, সামচুল হক, লোকমান, খবির ও জীবনসহ বেশ কয়েকজন মিলে জাহিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার রাতে জাহিদ মীর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

গাজীপুর শ্রীপুরে প্রাইভেট হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা

তার মৃত্যুর খবর এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে সাকিব, শাহ আলম, নুর, সামচু, সাজু ও হালিসহ ৬টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে সমস্ত ঘরসহ সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কালকিনি ও ডাসার থানা-পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের ভাবি পিপাষা বেগম বলেন, বিয়ে অনুষ্ঠানে আমার দেবর জাহিদ নাচতে গেলে তাকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে সাকিব ও তার লোকজন। আমরা তাদের সঠিক বিচার চাই। নিহতের ভাই আসাদ মীর বলেন, হত্যাকারী সাকিবের মামা লোকমানের প্রভাবেই আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার অভিযুক্ত সবাই পলাতক রয়েছেন।

মাদারীপুর সদর থানা ওসি মো. কামরুল হাসান জানান, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বলেন, আমরাও পরকীয়ার কথা শুনেছি আর এই নিয়েই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়া চলছে। তবে মামলা এজাহার হলে বিস্তারিত জানতে পারবো।