অপরাধ

শাহজালাল বিমানবন্দরে এক কোটি ৭০ লাখ টাকায় এই গেট!

গেটে শুধু নামফলক বসানোর পেছনেই ব্যয় হয়েছে ১২ লাখ টাকার বেশি; নামফলকের প্রতিটি হরফের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। গেটে ব্যবহূত এসআই পাইপের প্রতিটি টুকরোর দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকার ওপর! নকশা করতে খরচ হয়েছে ৩৩ লাখ টাকা।এমন কাণ্ড ঘটেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্টিলের একটি গেট নির্মাণে। মাত্র ৩০ ফুট উঁচু এই গেট নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ১৭৩ টাকা!

দীর্ঘ তিন বছর পর এই গেট নির্মাণের নানা অনিয়ম ও অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) শীর্ষ কর্মকর্তাদের চোখে। বিষয়টি তদন্তের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোশাররফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ৪ নভেম্বর গঠিত এই তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ত) মাহমুদ কবীর ও মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলাম। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

পুলিশের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে, কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না

প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্ম সচিব মোশাররফ হোসেন বলেন, এরই মধ্যে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কর্তৃপক্ষকে এ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিভিল সার্কেলের প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন কোয়ালিটি সার্ভিসের (পিঅ্যান্ডডি কিউএস) প্রবেশপথে এই গেট নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি এই গেট নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, গেট নির্মাণের সঙ্গে অর্থ ব্যয়ের বাস্তব মিল আকাশ-পাতাল। অসাধু ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর যোগসাজশে এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি ঘটেছে।

এ ব্যাপারে গেট নির্মাণের সময় বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকারী, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক মাকসুদুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে রাজধানীতে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বিমানবন্দরের পিঅ্যান্ডডি কিউএস প্রবেশপথে এই গেট নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান করছে বলে জেনেছি।

সমকাল