Bangladesh

সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর দাফন সম্পন্ন

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আগরতলা মামলার ২৬তম অভিযুক্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর মরদেহ দাফন করা হয়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে।মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ দাফনের উদ্দেশে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়।  

এ সময় তার মরদেহ গ্রহণ করেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি, শরীয়তপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু ও জেলা ও নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠেনর নেতাকর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

পরে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিজ উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নড়িয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। পরে প্রয়াত এ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এরপর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নড়িয়া উপজেলা পরিষদ, নড়িয়া উপজেলা প্রশাসনসহ জেলা ও নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাদ জোহর মরহুমের জানাজা শেষে নিজ বাড়ি নড়িয়ার স্বাধীনতা ভবনের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

করোনায় মারা গেছেন প্রধানমন্ত্রীর চাচী

এ সময় তার জীবন আদর্শ তুলে ধরে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন গুণী নেতা ছিলেন। এ সময় তার রুহের মাগেফিরাত কামনা করে দোয়া চান তিনি।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্ট থাকা অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয় বলে জাতীয় সংসদের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. তারিক মাহমুদ জানান।

৮৪ বছর বয়সী শওকত আলী কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। এসব কারণে বেশ কিছুদিন ধরে সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে হচ্ছিল তাকে।
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার লোনসিং বাহের দিঘীরপাড় গ্রামে ১৯৩৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন শওকত আলী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৫৯ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল, তাতে শওকত আলীকে ২৬ নম্বর আসামি করা হয়। ১৯৬৮ সালের ১০ জানুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে থাকা অবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তানে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আটক করার পর ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শওকত আলী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর আবার সেনাবাহিনীতে ফেরেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর শওকত আলীকে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়া হন এবং ১৯৭৯ সালে শরীয়তপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের হুইপের দায়িত্ব পান তিনি।