কি ভাবে এ্যাকোস্টিক গিটারের এ্যালাইনমেন্ট ঠিক রাখবেন ?

প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে, ৫০০০ টাকা হতে ১৪০০০-১৫০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ কিছু তথাকথিত ব্রান্ড আছে যা পারলে চোখ বুজে চিনি এবং কিনি। যেমন AXE, TGM, FLODA, SX, ROCKJAM, CUSTOM, DEVISER – এরকম হাজারো ব্রান্ড আছে। আমরা ভয়ানক সাধু ব্যবসায়ী যারা আছি তারা এসব ব্রান্ডকে কোরিয়া, তাইওয়ান, সিংগাপুর বলে চালিয়ে দেই। এর সবই আসলে চাইনিজ বা চায়না থেকে আমদানিকৃত গিটার।

-কি ভাবে চিনবেন?
কোথাকার গিটার তা সহজে চেনার উপায় হলো গুগলে সার্চ দিলে প্রথমেই ওইসব ব্রান্ডের নাম আসবে না। অন্যান্য দেশে এসব ব্রান্ডগুলোর নাম অনেক গিটারিস্টই জানবেনা। অথবা শুধু মাত্র আমরা বাংলাদেশিরাই এ ব্রান্ডগুলোকে চিনি। আর কিছু গিটার ব্রান্ডের ওয়েব সাইটে ঢুকলে সরাসরি চাইনিজ ভাষাতেই ওয়েব সাইট চলে আসে৷ ওয়েব ব্রাউজারের ট্রান্সলেট করার অপশনে গেলে সেটাকে ইংরেজিতে পড়ে নেয়া যাবে।

-মনে রাখেবন
এই গিটার গুলো আপনি যদি না বাজিয়ে ফুল 440 mhz বা E major বা standard টিউন করে রাখেন তবে দুইদিন সময় লাগবে নাহ ফ্রেট বোর্ড বাকা হতে। কারন আমাদের দেশের হুট করে আবহওয়ার পরিবর্তন একটা বিশাল ফ্যাক্ট ( গরমে ফ্রেট ও তারের মাঝে বিশাল গ্যাপ থাকে, বৃষ্টির সময় উলটো তার ও ফ্রেট লেগে যায়, শীতে গিটার বডির ব্রিজ অংশে সামনের দিকে দেবে পেছনে দিককার অংশ উচু হয়ে যায় এতে ব্রিজ উঠেও যায় অনেক সময়) তাই কোন কাজ বা ছুটিতে গেলে বা গিটার বাজানোর সময় না পেলে গিটারের টিউন দুই ফ্রেট নিচে D major scale এ রাখতে পারেন তাহলে ফ্রেট বোর্ডের পরিবর্তন বেশি একটা আসবে নাহ।

-আপনিও কি এরকম ?
অনেকেই ফ্রেট থেকে তার একটু উঁচু হলে ব্রিজ বের করে ঘষা শুরু করেন। এতে সাময়িক ভাবে সমাধান হলেও আসল কাজের কাজ কিছু হয় না। পরবর্তীতে ব্রিজটাই নষ্ট হয়ে গিটার অচল হয়ে বসে থাকে। আরেকটা কথা ভুল করেও শিরিষ কাগজ দিয়ে ফ্রেট ঘষবেন না। এতে ফ্রে নষ্ট হয়ে যাবে আর অরিজিনাল সেইম ফ্রেট আমাদের দেশে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

অনেকেই আবার না জেনে এ্যালাইন কী ব্যবহার করে অনভিজ্ঞভাবে ট্রাস রড ডান বামে ঘুরান অত কিছু না জেনেই। আসল কাজ হলে টিউনার ধরে প্রতি ফ্রেটের ইন্টোনেশন দেখে ট্রাসরডে এ্যালাইন কী কমবেশি কমিয়ে বাড়িয়ে ফ্রেট বোর্ড সোজা করাকে বোঝায়। এই কাজ একদম অভিজ্ঞ লোক ছাড়া না করাই উত্তম।

গিটার সাইজ আর বাজানো অনুযায়ী গিটারে তার (string) লাগানো উচিত। আমার মতে, স্বল্পমূল্যের তথাকথিত চাইনিজ তার (strings) (১৫০-৪০০) টাকার মধ্যে না লাগিয়ে এক সেট অরিজিনাল তার (D’addrio, Earniball, Martin, Elixer) (৫৫০-১২০০) টাকার মধ্যে লাগিয়ে নেয়া ভালো, যা ৬ মাসে অন্তত পরিবর্তন করা লাগে নাহ। এতে বারবার তার কেনা লাগেনা বলে টাকাও বাঁচে, গিটার ও অনেক সফট আর সেইফ থাকে।

সেমি জাম্বো গিটারের জন্য .১১ আর জাম্বোর জন্য .১২ গজ তার হলে ভালো হয়। অনেকে আবার আরেকটু সফটের জন্য .১০ গজের তার (string) লাগায় এতে সলো ভালো হলেও লো ফ্রিকোয়েন্সি টা কম থাকে আর রেকর্ডিং এর ক্ষেত্রে একটু ভারি টোনের জন্য ১৩ গজ তার (string) দারুন কাজ করে।

প্রতিবার তার (string) চেঞ্জের সময় ফ্রেট ওয়েল বা লেমন ওয়েল ব্যবহার করা উত্তম। এতে ফ্রেট বোর্ডের ময়েশ্চার ঠিক থাকে আর ফ্রেট স্মুথলি কাজ করে আর ভালো থাকে।

-এভাবেও পরিষ্কার রাখতে পারেন
গিটারের বডি পরিষ্কারের জন্য বিশেষ কোন কিছু ন কিনলেও চলবে। একটা সুতির গেঞ্জি দিয়ে প্রতিবার গিটার ব্যবহারের আগে আর পরে গিটার বডি ও স্ট্রিং এর ওপর মুছে নিতে পারেন এতে তারের জং ও অনেক দেরি করে ধরে।

-পরিশেষে
গিটারের টিউনিং কীতে তার রিবাইন্ড করার সময় তিন চার প্যাচের বেশি দরকার নেই, অতিরিক্ত তার রেখে কি রিবাইন্ড করতে গেলে টিউনিং কী’র প্যাচ কেটে নষ্ট হয়ে যায়।

সৈকত বিশ্বাস টুটুল
-এ্যাকোস্টিকা

আপনার মন্তব্য লিখুন