খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে তৎপর কুটনৈতিক পাড়া

আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ১১ ডিসেম্বর সেই রিপোর্টে জমা দেবে কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সকল ডাক্তাররা বেগম খালেদা জিয়ার যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন তা করতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়া এখন চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের সহযোগিতা করছেন না।

এর ফলে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছেন যে শেষ পর্যন্ত হয়তো ১১ তারিখের মধ্যেই মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে আপিল বিভাগে জমা দেবেন।

এদিকে বিএনপিও ১১ ডিসেম্বরের আগে মেডিকেল রিপোর্টে না পেলে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যেই বিএনপি আজ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

তবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মানুষের অংশগ্রহণ এবং বিএনপির নেতা কর্মীদের অংশগ্রহণ তেমন ছিল না বললেই চলে। আর জন জীবনে এই বিক্ষোভ কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

তবে একাধিক কুটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে হঠাৎ তৎপর হয়ে পড়েছে কুটনৈতিক পাড়া। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চীন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কথা-বার্তা বলা শুরু করেছে।

মার্কিন দূতাবাসের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা খালেদা জিয়ার মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। এ ব্যাপারে বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করেছে।

একটি সূত্র বলছে, মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার সাথে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেখা করেছেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্টগুলো হস্তান্তর করেছে। যুক্তরাজ্য বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয়টি নিয়ে ইদানীং আগ্রহী বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কি প্রক্রিয়ায় হচ্ছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা কতটুক গভীর এবং তাঁর বিদেশে যাওয়া প্রয়োজন কিনা ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। যুক্তরাজ্য দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মইন খান গতকাল বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

ড. মইন খান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে এবং সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা হচ্ছেনা বলে তিনি তথ্যাদি হাজির করেছেন।

উল্লেখ্য যে, দূতাবাসগুলো এই তথ্য সংগ্রহ করলেও এখন পর্যন্ত এসব নিয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা বা অনুরোধ করা- এ পথে যায়নি বরং তাঁরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছে এবং বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা কতটুকু গুরুত্বর তা পর্যালোচনা করছে।

উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশগুলো খালেদা জিয়ার ব্যাপারে এখন আগের চেয়ে অনেক নমনীয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা যদি আসলেই খারাপ হয় এবং তিনি যদি শারীরীকভাবে অসুস্থ হন এবং তার যদি সুচিকিৎসার প্রয়োজন হয় তাহলে ‘মানবিক’ কারণে তাকে জামিন দেওয়া উচিত বলেও নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মনে করছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বক্তব্য পেশ করেননি।

খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে ভারতের ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়। ভারত এ বিষয়টি নিয়ে মাথাও ঘামাচ্ছে না বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে চীন। যদিও চীনের কূটনৈতিক নীতি অনুযায়ী তারা অন্য দেশের অভ্যান্তরীন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় চীনও এ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা উদ্যোগী হয়েছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে সরকারের একাধিক প্রভাবশালী ব্যাক্তি এবং মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারাধীন বিষয়। এখানে সরকার বা আওয়ামী লীগের কোন ভূমিকা নেই। কাজেই খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে কূটনৈতিকরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রশ্নই আসে না। যদি জামিন নিয়ে কথাই উঠে অতীতে যেমন বলেছেন তেমনি বলা হবে এটা আদালতের এখতিয়ারাধীন বিষয়। কাজেই এ নিয়ে আওয়ামী লীগ উদ্বিগ্ন বা চিন্তিত নয়।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা হঠাৎ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের মত প্রভাবশালী দেশগুলো খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে আগ্রহকে অন্য চোখে দেখছে। এটা সরকারের ওপর প্রত্যক্ষ চাপ সৃষ্টি কিনা সেটাও একটা দেখার বিষয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন