পবিপ্রবিতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হল দ্বিতীয় সমাবর্তন

গত বুধবার (৫ই ফেব্রুয়ারি) দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ করে দক্ষিন বঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় সমাবর্তন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আবদুল হামিদ।

আরো উপস্থিত ছিলেন এমিরেটস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন -অর-রশিদ,প্রো- ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, জেলা প্রশাসক,বিভিন্ন স্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার মাঠে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ হারুন -অর-রশিদ এবং প্রো- ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী।অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রপতি বহুল আলোচিত একটি বৈশ্বিক সমস্যা উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন,আধুনিকতার নামে আজ সকল স্থানে পলিথিন এবং প্লাস্টিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যাবহার হচ্ছে। তরুণদের ফাস্টফুড এর প্রতি আগ্রহ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তুলছে।

প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যাবহার পরিহারের মাধ্যমে জাতি ও পরিবেশকে বাচাতে সকলকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি আরো বলেন সাধারন মানুষ যাতে এগুলো পরিহার করে সে বিষয়ে সকলকে সোচ্চার করতে শিক্ষার্থীদেরকেই এই মহান দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা সম্বন্ধে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দী তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। এ যুগে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গুরুত্ব উপলব্ধি করে পাঠ্য কারিকুলাম যুগোপযোগী করে সাজানো উচিত। যা শিক্ষার্থীকে একজন যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সেই শিক্ষার কোন মূল্য নেই। প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত হতে হলে মানসম্পন্ন জ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই। গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার বাস্তবায়ন বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে এতদিন রাষ্ট্রের কাছে তারা অনেক কিছু পেয়েছে, এখন সময় দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করে দেখানোর।

এছাড়াও বক্তব্যে তিনি হাস্যরসাত্মক ভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে বলেন, ‘বয়স চল্লিশের আগে স্বামী -স্ত্রী, আর চল্লিশের পর ভাই-বোন, তাও আবার আপন ভাই-বোন না সৎ ভাই-বোন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার বিকেলে সপরিবারে কুয়াকাটা সৈকতে আসেন। সূর্যাস্ত উপভোগ করেন এবং পর্যটন ইয়্যুত কমপ্লেক্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ও রাত্রিযাপন করেন বলে জানান তিনি।

উক্ত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পোস্ট গ্রাজুয়েট ও গ্রাজুয়েট সহ প্রায় ৩৭০৬ জন শিক্ষার্থীকে সনদ পত্র প্রদান করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ৬৩ জনকে রাষ্ট্রপতি স্বর্নপদক এবং ১১ জনকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

পবিপ্রবির প্রতি সন্তষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন গত বছর দেশের সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় তিনি আনন্দিত।

এছাড়াও গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি তার আশা ব্যক্ত করে বলেন, একমাত্র তোমরাই পারো বঙবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে ” সোনার বাংলা” গড়তে।তথ্য ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ভিশন -২১’ বাস্তবায়ন করতে।

সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা বহুদিন পর তাদের চিরচেনা ক্যামপাসে প্রিয় মুখগুলো একসাথে পেয়ে বিভিন্ন কায়দায় ফ্রেমে বন্দী করে নিজেদেরকে। এভাবে তাদের শিক্ষা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।এভাবেই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় পবিপ্রবির দ্বিতীয় সমাবর্তন।

আপনার মন্তব্য লিখুন