বিয়ে করতে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন রোহিঙ্গা নারীরা

সাগর পথে নৌকায় চেপে মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে বেশির ভাগই রোহিঙ্গা যুবতী নারী। এদের অনেকের বিয়ে ঠিক হয়েছে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে। তাদের স্বামীরা দালালের মাধ্যমে নিয়ে যাচ্ছেন মালয়েশিয়াতে।

গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সেন্ট মার্টিনস সংলগ্ন রোহিঙ্গা বোঝাই মালয়েশিয়াগামী যে ট্রলারটি ডুবেছিল উদ্ধার অভিযানে সেখানে ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। জীবিত উদ্ধার রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৪৮ জন নারী রয়েছে। এদের ৪০ জনই যুবতী। কারো সদ্য বিয়ে হয়েছে, কারো বিয়ে হয়েছে বছর দুয়েক আগে। তবে তাদের প্রত্যেকের স্বামী মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছে।

দুর্ঘটনার শিকার ট্রলার থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া কুতুপালংক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রাজুমা আকতার (১৭) জানান, মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমার পাসপোর্ট করার কোনো সুযোগ না থাকায় স্বামী সাগর পথে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রথম দফায় দালালদের ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি।

টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী সাফিয়া বেগম জানান, আমার বিয়ে হয়েছে ১০ বছর আগে, কিন্তু গত সাত বছর ধরে স্বামী মালয়েশিয়াতে থাকে। আট বছরের এক মেয়েকে নিয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে যাচ্ছিল স্বামী। ট্রলার দুর্ঘটনায় আমি প্রাণে বাঁচলেও আমার মেয়েটিকে বাঁচাতে পারিনি। তার সঙ্গে এক ননদও হারিয়েছি আমি। তবে জানতামনা, ছোট একটি ট্রলারে গাধাগাধি করে এত লোক ওঠানো হবে।

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের নুর কাজল বলেন, দুই বছর আগে বিয়ে করে স্বামী মালয়েশিয়াতে চলে যায়। এখন আমাকেও সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য দালালদের মাধ্যমে সব কিছু ঠিক করে আমাকে জানায়। স্বামীর কথায় আমি বাধ্য হয়ে ট্রলারে ওঠেছি মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য।

নৌবাহিনীর সেন্ট মার্টিনস ইনচার্জ লেফট্যানেন্ট জায়েদ জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে আমরা ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী, যাদের বয়স অনূর্ধ্ব ২২ এর মধ্যে। তাদের অনেকে মালয়েশিয়াতে তাদের স্বামীর কাছে যাচ্ছেন এবং কেউ মালয়েশিয়াতে থাকা রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে বিয়ের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন