খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে কোনো তথ্য জানা নেই : ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই নিয়মতান্ত্রিকভাবে যা করার দরকার, তা করছি। প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, তাঁকে বাঁচাতে চাই।’

এ সময় সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের জন্য আবেদন করা হয়েছে কি না, সেটা আমার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।’

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে এক যৌথ সভা শেষে এ কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করবে বিএনপি। সেই কর্মসূচির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতেই এই যৌথ সভায় বসেন দলটির নেতারা।

পরে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী শনিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যাবে বিএনপি।

বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমরা বারবার বলেছি, এটা অনুমতির বিষয় না। তবে এ কর্মসূচি পালনে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।’

‘খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার’

দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে এবং এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে—এমনটা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দেশের রাজনীতি ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সরকার এটা করেছে। আমি বিশ্বাস করি, দেশের মানুষ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমাদের বিক্ষোভ মিছিলে শরিক হবে। আমি দেশপ্রেমিক সবাইকে মিছিলে অংশ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘সরকার সুপরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যা করার জন্য বেআইনিভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। তাঁর মুক্তির জন্য সাংবিধানিকভাবে যত রকমের চেষ্টা করার, আমরা সবই করছি। আইনগতভাবেও যত রকম পথ আছে, সব রকম চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে এটা আইনের মধ্যে নেই। সে জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর মুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘এখন পুরো ইচ্ছেটাই সরকারের হাতে। অন্যায়ভাবে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য সরকারই দায়ী। এ ধরনের মামলায় সাত দিনের মধ্যে জামিন হওয়ার কথা। সাধারণ নাগরিকও সাত দিনে জামিন পায়। কিন্তু ওনাকে দুই বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা নেসারুল হক, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন