পাল্টে গেছে ভালোবাসার গোলাপ!

গোলাপ চাষের জন্য নাম আছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর। প্রতিবছর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বাড়ে এই এলাকার গোলাপচাষি ও ব্যবসায়ীদের। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জোগান দেওয়া মুশকিল হয়ে ওঠে চাষিদের পক্ষে। তবে এ বছর চিত্রটা উল্টো। গত বছরের অর্ধেক গোলাপেরও বিক্রির আদেশ পাননি চাষিরা। সারা বছর যে ভালোবাসা দিবসের অপেক্ষায় থাকেন তাঁরা, এবার সেই দিনটিও তাঁদের নিরাশ করেছে। চাষিরা বলছেন, প্রায় আসলের মতো দেখতে কৃত্রিম গোলাপে বাজার ছেয়ে গেছে। এ কারণে আসল গোলাপের বিক্রি কমে গেছে।

হাটহাজারীর ফুল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানত চট্টগ্রাম শহরের ফুলের চাহিদাকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সাল থেকে উপজেলায় গোলাপের ব্যবসা শুরু হয়। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গোলাপের চাষ ও চাষির সংখ্যাও বেড়েছে। এখন উপজেলার প্রায় এক শ একর জমিতে গোলাপ চাষ হচ্ছে। গোলাপ চাষে জড়িত আছেন ৪০ জন চাষি।

হাটহাজারী পৌরসভার আলমপুর গ্রামের গোলাপচাষি মোহাম্মদ আবছার বলেন, ‘গত বছর এই সময় ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে আমি একাই ৬০ হাজার গোলাপের বিক্রি আদেশ (অর্ডার) পেয়েছি। কিন্তু এবার তার অর্ধেকও পাইনি। ছয়-সাত টাকার গোলাপ এবার বিক্রি করছেন পাঁচ টাকা দামে।’

মোহাম্মদ আবছার আরও বলেন, তাঁর বাগানে ৫০ হাজার গোলাপ গাছ আছে। মৌসুমে দৈনিক ১৬ থেকে ১৮ হাজার ফুল পাওয়া যায়। গত চার বছর প্লাস্টিক ও কৃত্রিম ফুল বাজার দখল করে নিচ্ছে। এতে গোলাপের চাহিদা দিন দিন কমছে।

গতকাল বুধবার সকাল আটটার দিকে পৌরসভার আলমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলচাষিরা কেউ ফুল সংগ্রহে ব্যস্ত, কেউ বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন। এ সময় চাষি মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, খালে পানি না থাকায় বাগানে সেচ দিতে পারেননি। সে কারণে বাগানে পোকা ধরেছে। পাশাপাশি কমে গেছে গোলাপের বিক্রি।

হাটহাজারী উপজেলা ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল খায়ের গতকাল বলেন, উপজেলায় ৪০ জন ব্যক্তি বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। গোলাপের অনেক জাত থাকলেও তাজমহল, প্যারাডাইসসহ বেশ কয়েকটি জাতের চাষ হয়। গত চার বছর এই ব্যবসার মন্দা চলছে।

হাটহাজারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ ওয়াহেদ গতকাল বলেন, উপজেলায় এক শ একর জমিতে গোলাপ চাষ হচ্ছে। এখানে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ শুরু হয় ১৯৮২ সাল থেকে। সবচেয়ে বেশি গোলাপ চাষ হয় পৌরসভার আলমপুর গ্রামে।

তিনি আরও বলেন, বছরে এই উপজেলায় গোলাপ ফুল বিক্রি হয় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। খুচরা বাজারে এর দাম কয়েকগুণ। প্লাস্টিক ও কাপড়ের ফুল বের হওয়ায় গোলাপচাষিরা সমস্যায় পড়েছেন।