অ্যালজাইমার রোগ কি

অ্যালজাইমার রোগে স্মৃতিশক্তি সহ মস্তিষ্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। অ্যালজাইমার রোগে আক্রান্তরা প্রথমে সামান্য বিভ্রান্ত হয় এবং অনেক কিছু ভুলে যেতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তাদের চরিত্রের আমূল পরিবর্তন হয় এবং আপনজনকে চিনতে পারে না।

অ্যালজাইমার রোগ ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের সবথেকে প্রচলিত কারণ। মস্তিষ্কের নানা রকমের বিকৃতি বা বিকারের লক্ষণ হল স্মৃতিভ্রংশ, যা সামাজিক মেলামেশায় সমস্যা সৃষ্টি করে এবং বুদ্ধি ও বিচারবিবেচনার ক্ষমতা লোপ পায়। মস্তিষ্কের কোষ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে স্মৃতিশক্তি লোপ পায় এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা প্রভাবিত হয়।

লক্ষণ বা উপসর্গ
অ্যালজাইমার রোগের মুখ্য লক্ষণের অন্যতম হল, কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা ভুলে যাওয়া বা স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, বিভিন্ন ঘটনা মনে রাখতে গেলে গুলিয়ে যায় বা ভুল-ভ্রান্তি হয়।

অ্যালজাইমার রোগের লক্ষণ:

একই প্রশ্ন বারংবার জিজ্ঞেস করা কিংবা একই কথা বহুবার বলা এবং কখনই মনে হয় না যে এটা তারা আগেও বলেছে বা জিজ্ঞাসা করেছে।
কথাবার্তা, ঘটনা কিংবা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভুলে যাওয়া এবং সেগুলো পরবর্তীকালে মনে না রাখতে পারা।
রোজকার কাজের জিনিষ হারিয়ে ফেলা কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভাবে অন্যস্থানে রাখা।
পরিচিত জায়গায় হারিয়ে যাওয়া।
পরিচিতদের নাম ভুলে যাওয়া অথবা রোজকার কাজের জিনিষ মনে না রাখা।
জিনিষ শনাক্ত করতে বা মনের ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে কিংবা আলাপচারিতার সময়ে সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া।
সংখ্যার মতন কঠিন বিষয়ে মনঃসংযোগ করতে এবং চিন্তাভাবনায় সমস্যা।
সমস্যায় সাড়া দিতে গিয়ে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হওয়া।
স্নান করা কিংবা জামা পড়ার মতন মুখ্য কাজ করতে ভুলে যাওয়া।
বিষণ্ণতা, মেজাজের বদল, সবার প্রতি অবিশ্বাস, নিজেকে সামলাতে না পারা, সামাজিকভাবে নিজেকে সরিয়া নেওয়া, অস্বস্তি, ঘুমের গোলমাল, আক্রমণাত্মক হয়ে যাওয়া, প্রলাপ বকা, বিভ্রান্তি, যেমন কিছু চুরি হয়ে গিয়েছে বলে ধারনা করা ইত্যাদি।
কারণ
নার্ভের দুধরনের রোগের জন্য অ্যালজাইমারস হয়:

প্লেকেঃ মস্তিষ্কের মধ্যে প্রোটিনের জমে যাওয়াকে বিটা-অ্যামিলয়েড প্লেকে বলে, যা নানাভাবে মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং নষ্ট করতে পারে এবং এর ফলে কোষের সমন্বয়ে ব্যাঘাত ঘটে।

ট্যাঙ্গেলস: নার্ভ কোষের জট পাকিয়ে যাওয়াকে নিউরোফাইব্রিলারি বলে। টাউ প্রোটিনের তন্তু, মস্তিষ্কের কোষের ভেতরে পাক খাওয়ার কারণে অস্বাভাবিক জট পাকিয়ে যায়, এবং পরিবহণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে যায়। এটা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় এবং নষ্ট হয়ে যাবার সাথেও জড়িত।

রোগ নির্ণয়
অ্যালজাইমার রোগ নির্ণয় করবার সেই অর্থে নির্দিষ্ট কোন টেস্ট নেই। ডাক্তার কিন্তু অন্যান্য কিছু সমগোত্রীয় টেস্টের মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করেন।

নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা: প্রতিবর্ত ক্রিয়া, পেশীর দৃঢ়তা এবং ক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি এবং শ্রবণশক্তির অনুভূতি, সমন্বয় ও ভারসাম্য পরীক্ষা করে দেখা হয়।

নিউরো-সাইকোলজিক্যাল টেস্ট: স্মৃতিশক্তি এবং ভাবনা-চিন্তার ক্ষমতা বোঝবার জন্য মানসিক স্থিরতার পুর্নাঙ্গ পরীক্ষা করা হয়।

ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা এমআরআইঃ রেডিও তরঙ্গ এবং শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ডের সাহায্যে মস্তিষ্কের বিস্তারিত ছবি নেওয়া হয়, যার দ্বারা অ্যালজাইমার রোগের লক্ষণ, অর্থাৎ মস্তিষ্কের কোন অংশ সঙ্কুচিত হয়েছে কি না জানা যায়।

পোসিট্রন এমিশান টোমোগ্রাফি (পিইটি): এই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, রক্তবাহের ভেতরে কম মাত্রার রেডিওঅ্যাকটিভ ট্রেসার ঢোকানো হয়। এই ট্রেসার বিশেষ ধরণের গ্লুকোজ (চিনি) হতে পারে, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সার্বিক ক্রিয়া এবং কোন অংশ যদি একদমই কাজ না করে, তাহলে সেটা দেখিয়ে দেয়। নতুন পিইট প্রযুক্তি মস্তিষ্কে প্লেকে (অ্যামলোয়েড) এবং টাউয়ের পরিমাণ শনাক্ত করতে সাহায্য করে, যা অ্যালজাইমারের সাথে জড়িত অস্বাভাবিকতা।
চিকিৎসাঃ জিঙ্কগো বিলোবা মস্তিষ্ক সহ সারা শরীর জুড়ে রক্ত ​​সঞ্চালন বৃদ্ধিতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। যখন এটি ঘটে তখন আরও রক্ত ​​মস্তিষ্কে চলে আসে এবং রক্তের পুষ্টি সরবরাহ করে।

জিঙ্কগো বিলোবা মস্তিষ্কের কোষগুলিকে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সহায়তা করে এবং এর ফলে মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধি করে। এটি মস্তিষ্কের কোষ সংক্রমণ এবং মস্তিষ্ক তরঙ্গ ট্রেসিং উন্নত করতে সহায়তা করে। এটি মস্তিষ্কের কোষের প্রবণতাগুলিকে গতি বাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে সহায়তা করে। স্মৃতিচারণ ও আলঝাইমারগুলির জন্য জিঙ্কগো বিলোবা ব্যবহার কার্যকর।