পটিয়ার বিসিক শিল্প এলাকায় আবর্জনার ভাগাড়, দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ায় দূর্বিষহ জনজীবন!

দক্ষিন চট্টগ্রামের মূল কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে পটিয়াকে। যে পটিয়া ছাড়া চট্টগ্রামের উন্নয়ন চিন্তা করা যায় না, সেই পটিয়ার বিসিক শিল্পের সামনে যখন এই ময়লা আবর্জনার ভাগাড় তখন প্রশ্নবিদ্ধ হয় উন্নয়নের ধারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার অাওতাধীন বিসিক শিল্প নগরীর রাস্তার দুই পাশে বিশাল বিশাল ময়লা আবর্জনার স্তুপ।

এই ময়লা আবর্জনার স্তুপের পঁচা দুর্গন্ধ এবং আগুনে আবর্জনা পোড়ানোর ফলে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে৷ আর আবর্জনা পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন হওয়া কার্বন মনো-অক্সাইড বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের এলাকায়। যার দরুন শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানায়, গত তিন বছর ধরে পটিয়া পৌর এলাকার কয়েকটি শিল্প- কারখানার ময়লা আবর্জনা ফেলার ফলে সেসব ময়লা পঁচে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষন যেমন হচ্ছে ঠিক অপরদিকে দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষ, পথচারী ও পরিবহন যাত্রীদের নাকে হাত দিয়ে নিশ্বাস বন্ধ করে চলতে হচ্ছে।

স্থানীয় এক যুবক জানান, এই ময়লা আবর্জনার স্তুপের ফলে রাস্তার দুই পাশে ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। এই সরকারী খাস জায়গায় এক শ্রেণির ভূমিদস্যু ও সিন্ডিকেট দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালানোর পায়তারা চালাচ্ছে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ প্রতিদিন সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা চলাচল করলেও তারা নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু এর পরেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের মনে বিরাজ করছে ক্ষোভ। প্রায়ই অনেক পথচারী এই দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ায় অতিষ্ট হয়ে গালমন্দও করে।

উল্লেখ্য কয়েকদিন আগেও এই আবর্জনা পুড়িয়ে দেওয়ার ফলে চারিদিকে ধোঁয়ার সঞ্চার হয় এবং এক বাস চালক দেখতে না পেয়ে অপরদিক থেকে আসা একটি সিএনজি কে ধাক্কা দিলে কয়েকজন খুব গুরুতর ভাবে আহত হয়।

এ ব্যাপারে স্যানিটেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। তারা রহস্যজনক ভাবে নিরবতা পালন করে যাচ্ছে।

এখন এই এলাকার স্থানীয়দের একটাই দাবি মহাসড়কের পাশ থেকে এই ময়লা আবর্জনা গুলো সরিয়ে নিয়ে নিরাপদ কোন স্থানে যেন এই ময়লা আবর্জনা গুলো সংরক্ষন করা হয়।