ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo দেড় বছর পর কার্যালয়ে আ.লীগের নেতাকর্মীরা Logo বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় পানছড়ির জিয়ানগরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল Logo রমজানে স্কুল বন্ধের বিষয়ে আগামীকাল আলোচনা করব-সাইদুর রহমান Logo শপথ অনুষ্টানে ঢাকায় আসছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা Logo পার্বত্যবাসীর স্বপ্ন পূরণে ওয়াদুদ ভূইয়াকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় পাহাড়বাসী Logo হাতিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ সঠিক নয়, দাবি পুলিশের Logo বিক্ষোভের ডাক দিল ১১ দলীয় জোট Logo চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নবনির্বাচিত এমপি Logo গনদাবীতে পরিণত হচ্ছে ওয়াদুদ ভুইয়াকে মন্ত্রী করার দাবী Logo এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের জন্য শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি

আমি পরীমনির ফ্যান

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ মার্চ ২০২২
  • / ১০৮২ বার পড়া হয়েছে

আমি পরীমনির ফ্যান ! কী গো সুশীল মুরুব্বি, ঘাবড়ে গেলেন? বলুন-না, চুপ করে আছেন কেনো? ঘাবড়ে গেলেন আমার কথা শুনে? শুনুন আবারও বলছি। আমি পরিমণির ফ্যান, বিশাল বড় ভক্ত। খুব ভালোবাসি তাকে। মন থেকে ভালোবাসি।

সে আমার কাছে সিনেমার নায়িকার চেয়েও বেশী কিছু। আমার চোখে সে একজন বিপ্লবী। রাজনৈতিক সামাজিক সংকটের এই ক্রান্তিকালে যখন সবাই নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত তখন একজন বিদ্রোহী নারী একটি নিরব বিপ্লবের খেলা দেখিয়ে দিলো। সারা বাংলা আলোড়ন করে দিলো। তাই আমি তার বিশেষ ভক্ত। একটু ব্যাখ্যা করে বলি। তাহলেই বিষয়টা ক্লিয়ার হবে।

আমি পরীমনির ভক্ত কেননা সে একজন প্রতিবাদী। নষ্টভ্রষ্ট অসভ্য সমাজের গালে চড় দিয়েছে সে। সুইফট পাখির মতো দুর্বার গতিতে দেখাতে পেরেছে আত্নমহিমা।

আমি পরীমনির ফ্যান কেননা সে স্বনির্ভরশীলা। মিথ্যে অহংকারে ফুলে থাকা আর দশজন পরনির্ভরশীল নারীর মতো সে না। তার ক্ষমতা আছে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে দেয়ার।

আমি পরীমনির ভক্ত কেননা সে জীবন যোদ্ধা। জীবনকে আইসক্রিমের মতো চুষে চুষে খেয়ে চলছেন সে। ভয় পেয়ে বোরকার নিচে আত্নগোপনের মানুষ পরীমনি না।

আমি পরীমনির ফ্যান কেননা সে আমার কাছে একটি আয়না। মানে? মানে বলছি।বাংলাদেশের এদিকে-সেদিকে আনাচে-কানাচে রাস্তা-ঘাটে চিপায়-চাপায় প্রচুর স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে। শিক্ষার আলোয় এক্কেবারে জ্বলে যাচ্ছে সমাজ। খুব ভালো কথা। খুব খুব ভালো কথা। কিন্তু বিবেকের শিক্ষা কী মানুষ পাচ্ছে? প্রকৃত শিক্ষা কী পাচ্ছে মানুষ? আমার তো মনে হয় না।

এখন এমন একটা সময় চলছে যে বাবা মা বাচ্চাদের পাগল করে ফেলে ভালোভাবে পড়ালেখা করার জন্য, এমনকি রিশকাওয়ালা পিয়নের পোলারাও শিক্ষার আলোতে আলোকিত হবার জন্য বাপের পকেটটা ফাঁকা করছে। কিন্তু শিক্ষা কী তারা পাচ্ছে? শিক্ষার আলো দেখতে পাওয়া কী এতোই সহজ? কুকুর ডিগ্রি নিলেই কী একজন প্রকৃত ডিগ্রিধারী মানুষের সমতূল্য হবে? হবে না। সম্ভব না।

এ কারণেই স্যার ফ্রান্সিস বেকন তাঁর বিখ্যাত Of Studies – এ একটি ল্যাটিন স্টেটমেন্ট ব্যবহার করেছিলেন — “abeunt studia in mores” এর মানে Studies pass on into character। প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন সুশিক্ষায় স্বশিক্ষিত হবার কথা।

আপনারা মাথা দিয়ে না বিবেক দিয়ে চিন্তা করে দেখুন, নায়িকা পরীমনি মা হতে যাচ্ছে। সে একজন মা হতে যাচ্ছে। নতুন একটি বাচ্চা দেখতে যাচ্ছে পৃথিবীর আলো। অথচ আমাদের এই নষ্ট সমাজ তাকে ছিঁড়ে ফেলছে রীতিমতো কমেন্ট বক্সে। এদের মধ্যে পুরুষরা তো আছেই সাথে নারীরাও আছে।

আচ্ছা, নারীরা, আপনাদের কী বিন্দু মাত্র লজ্জা হয় না আরেকজন নারীকে নিয়ে এসব উল্টাপাল্টা কথা বলতে? একটু কী বিবেকে বাজে না? কতোটা ছোটলোক আপনারা? একজন মানুষ মা হতে যাচ্ছে আর তাকে নিয়ে আপনারা এমন বিশ্রী নোংরা ভাষায় প্রকাশ অযোগ্য কথা বলে যাচ্ছেন! ভাবতেই বমি এসে পড়ে।

আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আপনার কাছে কে স্বয়ংসম্পূর্ণ পরীমনি না কি মাস্টার্স পাশ করা একজন বড় অফিসারের বউ? আমি এক কথায় উত্তর দিবো, পরীমনি। কেনো জানেন? কারণ পরীমনি আমার কাছে একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন যোদ্ধা নারী, সে নিজের জীবনকে খুব কাছে থেকে সংগ্রামের মাধ্যমে গড়ে তুলছে। সে নিজের পায়ে দাঁড়ানো একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ।

বিয়ের বাজারে বিজয়ী হওয়া তথাকথিত শিক্ষিত লোকের বউ বা সামাজিক জীব না। স্বামীর কাছে নিচের তলা বন্ধক রেখে উপরের তলা বড় করা মহিলা না। সব নারীই বিয়ে করে কিন্তু পরীমনি হতে পারে না। পরীমনি একজনই।

আর কিছুই বলতে পারছি না, সব আউলাঝাউলা হয়ে যাচ্ছে। শুধু একটা কথাই বলবো, নারীরা যতোদিন পরীমনিদের দেখতে পারবে না, হাসাহাসি করবে ততোদিন নারীদের মুক্তি হবে না, সামাজিক বেশ্যাবৃত্তি দূর হবে না।

পরীমনি আমার কাছে একটি আয়নার মতো যেখানে সমাজের আসল চেহারার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায়। সামাজিক বেশ্যাবৃত্তি বলতে আমি যা বুঝিয়েছি তার মানে অনেক সহজ অনেক কঠিন।

এসব কারণেই সুশীলদের চোখে নির্লজ্জের মতো আকাশ কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলছি — আমি পরীমনিকে ভালোবাসি। আমি পরীমনির ফ্যান।

অপরাজিতা তুমি উঠে দাঁড়াও
অংকুরে ঝরে যেও না,
একটি কথাই শুধু মনে রেখো
পরীরা কখনো হারে না।

লেখকঃ সিয়াম সরকার জান

আমি পরীমনির ফ্যান

আপডেট সময় : ০২:৫২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ মার্চ ২০২২

আমি পরীমনির ফ্যান ! কী গো সুশীল মুরুব্বি, ঘাবড়ে গেলেন? বলুন-না, চুপ করে আছেন কেনো? ঘাবড়ে গেলেন আমার কথা শুনে? শুনুন আবারও বলছি। আমি পরিমণির ফ্যান, বিশাল বড় ভক্ত। খুব ভালোবাসি তাকে। মন থেকে ভালোবাসি।

সে আমার কাছে সিনেমার নায়িকার চেয়েও বেশী কিছু। আমার চোখে সে একজন বিপ্লবী। রাজনৈতিক সামাজিক সংকটের এই ক্রান্তিকালে যখন সবাই নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত তখন একজন বিদ্রোহী নারী একটি নিরব বিপ্লবের খেলা দেখিয়ে দিলো। সারা বাংলা আলোড়ন করে দিলো। তাই আমি তার বিশেষ ভক্ত। একটু ব্যাখ্যা করে বলি। তাহলেই বিষয়টা ক্লিয়ার হবে।

আমি পরীমনির ভক্ত কেননা সে একজন প্রতিবাদী। নষ্টভ্রষ্ট অসভ্য সমাজের গালে চড় দিয়েছে সে। সুইফট পাখির মতো দুর্বার গতিতে দেখাতে পেরেছে আত্নমহিমা।

আমি পরীমনির ফ্যান কেননা সে স্বনির্ভরশীলা। মিথ্যে অহংকারে ফুলে থাকা আর দশজন পরনির্ভরশীল নারীর মতো সে না। তার ক্ষমতা আছে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে দেয়ার।

আমি পরীমনির ভক্ত কেননা সে জীবন যোদ্ধা। জীবনকে আইসক্রিমের মতো চুষে চুষে খেয়ে চলছেন সে। ভয় পেয়ে বোরকার নিচে আত্নগোপনের মানুষ পরীমনি না।

আমি পরীমনির ফ্যান কেননা সে আমার কাছে একটি আয়না। মানে? মানে বলছি।বাংলাদেশের এদিকে-সেদিকে আনাচে-কানাচে রাস্তা-ঘাটে চিপায়-চাপায় প্রচুর স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে। শিক্ষার আলোয় এক্কেবারে জ্বলে যাচ্ছে সমাজ। খুব ভালো কথা। খুব খুব ভালো কথা। কিন্তু বিবেকের শিক্ষা কী মানুষ পাচ্ছে? প্রকৃত শিক্ষা কী পাচ্ছে মানুষ? আমার তো মনে হয় না।

এখন এমন একটা সময় চলছে যে বাবা মা বাচ্চাদের পাগল করে ফেলে ভালোভাবে পড়ালেখা করার জন্য, এমনকি রিশকাওয়ালা পিয়নের পোলারাও শিক্ষার আলোতে আলোকিত হবার জন্য বাপের পকেটটা ফাঁকা করছে। কিন্তু শিক্ষা কী তারা পাচ্ছে? শিক্ষার আলো দেখতে পাওয়া কী এতোই সহজ? কুকুর ডিগ্রি নিলেই কী একজন প্রকৃত ডিগ্রিধারী মানুষের সমতূল্য হবে? হবে না। সম্ভব না।

এ কারণেই স্যার ফ্রান্সিস বেকন তাঁর বিখ্যাত Of Studies – এ একটি ল্যাটিন স্টেটমেন্ট ব্যবহার করেছিলেন — “abeunt studia in mores” এর মানে Studies pass on into character। প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন সুশিক্ষায় স্বশিক্ষিত হবার কথা।

আপনারা মাথা দিয়ে না বিবেক দিয়ে চিন্তা করে দেখুন, নায়িকা পরীমনি মা হতে যাচ্ছে। সে একজন মা হতে যাচ্ছে। নতুন একটি বাচ্চা দেখতে যাচ্ছে পৃথিবীর আলো। অথচ আমাদের এই নষ্ট সমাজ তাকে ছিঁড়ে ফেলছে রীতিমতো কমেন্ট বক্সে। এদের মধ্যে পুরুষরা তো আছেই সাথে নারীরাও আছে।

আচ্ছা, নারীরা, আপনাদের কী বিন্দু মাত্র লজ্জা হয় না আরেকজন নারীকে নিয়ে এসব উল্টাপাল্টা কথা বলতে? একটু কী বিবেকে বাজে না? কতোটা ছোটলোক আপনারা? একজন মানুষ মা হতে যাচ্ছে আর তাকে নিয়ে আপনারা এমন বিশ্রী নোংরা ভাষায় প্রকাশ অযোগ্য কথা বলে যাচ্ছেন! ভাবতেই বমি এসে পড়ে।

আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আপনার কাছে কে স্বয়ংসম্পূর্ণ পরীমনি না কি মাস্টার্স পাশ করা একজন বড় অফিসারের বউ? আমি এক কথায় উত্তর দিবো, পরীমনি। কেনো জানেন? কারণ পরীমনি আমার কাছে একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন যোদ্ধা নারী, সে নিজের জীবনকে খুব কাছে থেকে সংগ্রামের মাধ্যমে গড়ে তুলছে। সে নিজের পায়ে দাঁড়ানো একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ।

বিয়ের বাজারে বিজয়ী হওয়া তথাকথিত শিক্ষিত লোকের বউ বা সামাজিক জীব না। স্বামীর কাছে নিচের তলা বন্ধক রেখে উপরের তলা বড় করা মহিলা না। সব নারীই বিয়ে করে কিন্তু পরীমনি হতে পারে না। পরীমনি একজনই।

আর কিছুই বলতে পারছি না, সব আউলাঝাউলা হয়ে যাচ্ছে। শুধু একটা কথাই বলবো, নারীরা যতোদিন পরীমনিদের দেখতে পারবে না, হাসাহাসি করবে ততোদিন নারীদের মুক্তি হবে না, সামাজিক বেশ্যাবৃত্তি দূর হবে না।

পরীমনি আমার কাছে একটি আয়নার মতো যেখানে সমাজের আসল চেহারার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায়। সামাজিক বেশ্যাবৃত্তি বলতে আমি যা বুঝিয়েছি তার মানে অনেক সহজ অনেক কঠিন।

এসব কারণেই সুশীলদের চোখে নির্লজ্জের মতো আকাশ কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলছি — আমি পরীমনিকে ভালোবাসি। আমি পরীমনির ফ্যান।

অপরাজিতা তুমি উঠে দাঁড়াও
অংকুরে ঝরে যেও না,
একটি কথাই শুধু মনে রেখো
পরীরা কখনো হারে না।

লেখকঃ সিয়াম সরকার জান