ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo এক জাহাজ থেকেই ২০ লাখ ডলার টোল আদায় করলো ইরান Logo বঙ্গভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি Logo জীবিত ছেলেকে মৃত দেখিয়ে মামলা: শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি Logo ইউনূসের মতো অযোগ্য ও বাটপার শাসক হাজার বছরেও আসেনি-আনিস আলমগীর Logo নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ চায় আওয়ামী লীগ Logo আরব মিত্রদের কাছে ২৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের Logo বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের আভাস Logo পারমাণবিক হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে জরুরি সরঞ্জাম বিতরণ Logo যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী Logo সউদি আরব যুদ্ধে জড়ালে ব্যবহার হবে পাকিস্তানের পরমাণু

ইউনূসের মতো অযোগ্য ও বাটপার শাসক হাজার বছরেও আসেনি-আনিস আলমগীর

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২২ বার পড়া হয়েছে

ইউনূসের মতো অযোগ্য ও বাটপার শাসক হাজার বছরেও আসেনি-আনিস আলমগীর

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কারামুক্ত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “হাজার বছরেও ইউনূসের মতো এমন অযোগ্য, অধর্ম এবং বাটপার শাসক এই বাংলায় আর আসেনি।” সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামালের ‘অন্য মঞ্চ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জেলজীবনের অভিজ্ঞতা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন।

গত ১৪ তারিখ কারামুক্ত হওয়া এই সাংবাদিক জানান, ড. ইউনূসের শাসনামলে তাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার করে মাসের পর মাস জেল খাটানো হয়েছে।

জেলজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মুক্তি
সাক্ষাৎকারে আনিস আলমগীর বলেন, “আমাকে জিম থেকে তুলে নেওয়ার পর কোনো মামলা ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা ডিবি অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে টেলিভিশন টকশোর ভাইরাল ক্লিপ ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়। কমিশনার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন আমাকে জেলে পাঠাতে।”

তিনি আরও জানান, কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারে তাকে অবর্ণনীয় পরিবেশে রাখা হয়েছিল। প্রথম এক মাস তাকে ‘নন-ডিভিশন’ এলাকায় রাখা হয়, যেখানে সাধারণ বন্দিদের চেয়েও কঠিন পরিসর এবং নির্জনতায় সময় কাটাতে হয়েছে। আনিস আলমগীর দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের বিশেষ হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

ড. ইউনূসের কঠোর সমালোচনা
ড. ইউনূসকে ‘বিশ্ব বেহায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আনিস আলমগীর বলেন, “তিনি প্রত্যেকটি সেক্টরে নিজের লাভের জন্য কাজ করেছেন। জনগণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়ে পরে তা নিজে নিজে মাফ করে দিয়েছেন। নিজেকে নিজে ভিআইপি ঘোষণা করে এসএসএফ নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি ইতিহাসের ‘৭১-কে বিতর্কিত করার এবং ‘২৪ দিয়ে ‘৭১-কে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন।”

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সমালোচনা
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আদালত যখন জামিন দিচ্ছিল, তখন আসিফ নজরুল আদালতকে তিরস্কার করেছেন। তার মাধ্যমেই জামিন না দেওয়ার এক অসভ্য সংস্কৃতির শুরু হয়েছে। অপরাধের বিচার হওয়ার আগেই মানুষকে বছরের পর বছর জেলে আটকে রাখা হচ্ছে।”

বিএনপিকে সতর্কবার্তা
নতুন সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি যদি সফল হতে চায়, তবে তাদের দল ও সংবাদপত্রের ভেতর লুকিয়ে থাকা ‘গুপ্ত জামাতী’ চক্রকে চিহ্নিত করে বের করতে হবে। যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও তলে তলে রাজনীতি করেছে, তারা এখন বিএনপির ভেতরেও ঢুকে বসে আছে।”

ব্যক্তিগত মোবাইল ও ‘নিহারী’ বিতর্ক
সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পুলিশ তার দামি মোবাইল ফোনটি এখনো ফেরত দেয়নি। তারা বলছে, ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ফেসবুকে তার নিহারী খাওয়ার ছবি নিয়ে বিতর্কের জবাবে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “আমি গত ৩-৪ বছর ধরে ডিজিটাল ডায়েরি হিসেবে প্রতিদিন কী খাই বা করি তা পোস্ট করি। ঐদিন নিহারী খাওয়াটাও তার অংশ ছিল, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উদযাপন নয়। কিন্তু একদল লোক বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

সবশেষে তিনি নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে বিনা বিচারে আটকে থাকা অন্য সাধারণ বন্দিদেরও দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা করা হয়। আনিস আলমগীর স্পষ্টভাবে বলেন, সাংবাদিকরা কথা বলতে চায়, তারা ক্ষমতা দখল করতে চায় না; কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা থামাবেন না। (সূত্র-কালের কন্ঠ)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইউনূসের মতো অযোগ্য ও বাটপার শাসক হাজার বছরেও আসেনি-আনিস আলমগীর

আপডেট সময় : ১১:৫৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ইউনূসের মতো অযোগ্য ও বাটপার শাসক হাজার বছরেও আসেনি-আনিস আলমগীর

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কারামুক্ত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “হাজার বছরেও ইউনূসের মতো এমন অযোগ্য, অধর্ম এবং বাটপার শাসক এই বাংলায় আর আসেনি।” সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামালের ‘অন্য মঞ্চ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জেলজীবনের অভিজ্ঞতা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন।

গত ১৪ তারিখ কারামুক্ত হওয়া এই সাংবাদিক জানান, ড. ইউনূসের শাসনামলে তাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার করে মাসের পর মাস জেল খাটানো হয়েছে।

জেলজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মুক্তি
সাক্ষাৎকারে আনিস আলমগীর বলেন, “আমাকে জিম থেকে তুলে নেওয়ার পর কোনো মামলা ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা ডিবি অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে টেলিভিশন টকশোর ভাইরাল ক্লিপ ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়। কমিশনার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন আমাকে জেলে পাঠাতে।”

তিনি আরও জানান, কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারে তাকে অবর্ণনীয় পরিবেশে রাখা হয়েছিল। প্রথম এক মাস তাকে ‘নন-ডিভিশন’ এলাকায় রাখা হয়, যেখানে সাধারণ বন্দিদের চেয়েও কঠিন পরিসর এবং নির্জনতায় সময় কাটাতে হয়েছে। আনিস আলমগীর দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের বিশেষ হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

ড. ইউনূসের কঠোর সমালোচনা
ড. ইউনূসকে ‘বিশ্ব বেহায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আনিস আলমগীর বলেন, “তিনি প্রত্যেকটি সেক্টরে নিজের লাভের জন্য কাজ করেছেন। জনগণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়ে পরে তা নিজে নিজে মাফ করে দিয়েছেন। নিজেকে নিজে ভিআইপি ঘোষণা করে এসএসএফ নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি ইতিহাসের ‘৭১-কে বিতর্কিত করার এবং ‘২৪ দিয়ে ‘৭১-কে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন।”

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সমালোচনা
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আদালত যখন জামিন দিচ্ছিল, তখন আসিফ নজরুল আদালতকে তিরস্কার করেছেন। তার মাধ্যমেই জামিন না দেওয়ার এক অসভ্য সংস্কৃতির শুরু হয়েছে। অপরাধের বিচার হওয়ার আগেই মানুষকে বছরের পর বছর জেলে আটকে রাখা হচ্ছে।”

বিএনপিকে সতর্কবার্তা
নতুন সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি যদি সফল হতে চায়, তবে তাদের দল ও সংবাদপত্রের ভেতর লুকিয়ে থাকা ‘গুপ্ত জামাতী’ চক্রকে চিহ্নিত করে বের করতে হবে। যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও তলে তলে রাজনীতি করেছে, তারা এখন বিএনপির ভেতরেও ঢুকে বসে আছে।”

ব্যক্তিগত মোবাইল ও ‘নিহারী’ বিতর্ক
সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পুলিশ তার দামি মোবাইল ফোনটি এখনো ফেরত দেয়নি। তারা বলছে, ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ফেসবুকে তার নিহারী খাওয়ার ছবি নিয়ে বিতর্কের জবাবে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “আমি গত ৩-৪ বছর ধরে ডিজিটাল ডায়েরি হিসেবে প্রতিদিন কী খাই বা করি তা পোস্ট করি। ঐদিন নিহারী খাওয়াটাও তার অংশ ছিল, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উদযাপন নয়। কিন্তু একদল লোক বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

সবশেষে তিনি নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে বিনা বিচারে আটকে থাকা অন্য সাধারণ বন্দিদেরও দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা করা হয়। আনিস আলমগীর স্পষ্টভাবে বলেন, সাংবাদিকরা কথা বলতে চায়, তারা ক্ষমতা দখল করতে চায় না; কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা থামাবেন না। (সূত্র-কালের কন্ঠ)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ