ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি নির্মাণে বাধা, ভূমি দখলচেষ্টা ও হত্যার হুমকির Logo ইকরা গার্মেন্টসের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ Logo আবার মাইনাস তৎপরতায় ডিপ স্টেট: মাসুদ কামাল Logo বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র Logo পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন Logo পানছড়িতে অবৈধ কাঠ আটক করেছে বিজিবি Logo পানছড়িতে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়, উপহার ও চিকিৎসা সেবা প্রদান Logo কিশোরগঞ্জে রওজা মনি হত্যার বিচার দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে রেজাউল করিম খান চুন্নুর সমর্থকদের গণমিছিল Logo পানছড়িতে শিক্ষার্থীর হাতে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের অনুদান তুলে দিলো স্বেচ্ছা সেবক দল

ইটিআইএম’কে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০
  • / ১১০৫ বার পড়া হয়েছে

ইটিআইএমকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র। ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামি মুভমেন্টকে (ইটিআইএম) সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জিনজিয়ানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চীনের চালানো ভয়াবহ নৃশংসতাকে ন্যায্যতা দিতে ইটিআইএম’কে বরাবরই দোষারোপ করে আসছে বেইজিং।

মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টার নতুন একটি নোটিশ জারি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন নিয়মনীতি তুলে ধরা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইটিআইএম’কে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইটিআইএম’কে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কারণ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে এবং চীনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে ২০০৪ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন ইটিআইএম ছাড়াও তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।

জিনজিয়ানে চীনের বর্বরতার পক্ষে সাফাই দেয়ার জন্য বরাবরই ইটিআইএমকে দোষারোপ করছে বেইজিং। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, জিনজিয়ানের আটক কেন্দ্রে ১০ লাখের বেশি মানুষকে বন্দি করেছে শি জিনপিং প্রশাসন। যাদের অধিকাংশ সংখ্যালঘু উইঘুর এবং তুর্কি ভাষি মুসলমান।

জিনজিয়ানকে পূর্ব তুর্কিস্তান বলে ইটিআইএম-এর সদস্যরা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চীন কিছু প্রমাণ হাজির করেছে। যাতে বলা হয়েছে ইটিআইএম একটি সংঘবদ্ধগোষ্ঠী। জিনিজিয়ানে হামলার জন্য তাদের দায়ী করা হয়।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্ট মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘বিলম্বিত সফলতা’ আখ্যা দিয়েছে। বলেছে, ইটিআইএমের বিরুদ্ধে চীনের তোলা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যখ্যান মার্কিন এ সিদ্ধান্ত।

প্রেসিডেন্ট পদের আরও কাছে পৌঁছলেন জো বাইডেন

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ওমের ক্যানাত বলেন, ইটিআইএম-এর কাল্পনিক হুমকি মোকাবিলার দোহাই দিয়ে গেল ২০ বছর ধরে উইঘুরদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন সিদ্ধান্তে তীব্র নাখোশ এবং কঠোর বিরোধিতা করেছে চীন। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু না হটার আহ্বান জানান।

জিনজিয়ানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় চীন কয়েক দশক চেষ্টা করেছে। এর অংশ হিসেবে উইঘুরদের বিরুদ্ধে নৃশংতা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে কথিত সন্ত্রাসবাদের জন্য ধর্মীয় কঠোর অনুশাসনকে দায়ী করতে থাকে ওয়াশিংটন। বলা হয়, উইঘুরের তরুণ চরম উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকছে।

‘শতাব্দীর কলঙ্ক’

সন্ত্রাসী হামলায় ইটিআইএম’র ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষকরা সন্দিহান। চীন ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি হামলার শিকার হয়েছে। যার জন্য উইঘুরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

২০১৪ সালে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুমিংয়ে ট্রেনে ছুরি হামলায় ৩১ যাত্রী নিহত হয়। জিনজিয়ানের উরুমকিতে ২০০৯ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ হানগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া দাঙ্গায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনা কর্তৃপক্ষ উইঘুরদের ইসলামি রীতিনীতি ত্যাগে বাধ্য করছে। তাদেরকে জোরপূর্বক সমাজতন্ত্রের দীক্ষা দেয়া হচ্ছে। 

এর আগে পম্পেও চীনের গণগ্রেফতারকে ‘শতাব্দীর কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দেন। উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা বর্বরতাকে গণহত্যা আখ্যা দেয়ার দাবিও জানান বেশ কয়েকজন মার্কিন সিনেটর।

ইটিআইএম’কে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০

ইটিআইএমকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র। ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামি মুভমেন্টকে (ইটিআইএম) সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জিনজিয়ানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চীনের চালানো ভয়াবহ নৃশংসতাকে ন্যায্যতা দিতে ইটিআইএম’কে বরাবরই দোষারোপ করে আসছে বেইজিং।

মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টার নতুন একটি নোটিশ জারি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন নিয়মনীতি তুলে ধরা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইটিআইএম’কে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইটিআইএম’কে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কারণ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে এবং চীনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে ২০০৪ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন ইটিআইএম ছাড়াও তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।

জিনজিয়ানে চীনের বর্বরতার পক্ষে সাফাই দেয়ার জন্য বরাবরই ইটিআইএমকে দোষারোপ করছে বেইজিং। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, জিনজিয়ানের আটক কেন্দ্রে ১০ লাখের বেশি মানুষকে বন্দি করেছে শি জিনপিং প্রশাসন। যাদের অধিকাংশ সংখ্যালঘু উইঘুর এবং তুর্কি ভাষি মুসলমান।

জিনজিয়ানকে পূর্ব তুর্কিস্তান বলে ইটিআইএম-এর সদস্যরা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চীন কিছু প্রমাণ হাজির করেছে। যাতে বলা হয়েছে ইটিআইএম একটি সংঘবদ্ধগোষ্ঠী। জিনিজিয়ানে হামলার জন্য তাদের দায়ী করা হয়।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্ট মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘বিলম্বিত সফলতা’ আখ্যা দিয়েছে। বলেছে, ইটিআইএমের বিরুদ্ধে চীনের তোলা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যখ্যান মার্কিন এ সিদ্ধান্ত।

প্রেসিডেন্ট পদের আরও কাছে পৌঁছলেন জো বাইডেন

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ওমের ক্যানাত বলেন, ইটিআইএম-এর কাল্পনিক হুমকি মোকাবিলার দোহাই দিয়ে গেল ২০ বছর ধরে উইঘুরদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন সিদ্ধান্তে তীব্র নাখোশ এবং কঠোর বিরোধিতা করেছে চীন। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু না হটার আহ্বান জানান।

জিনজিয়ানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় চীন কয়েক দশক চেষ্টা করেছে। এর অংশ হিসেবে উইঘুরদের বিরুদ্ধে নৃশংতা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে কথিত সন্ত্রাসবাদের জন্য ধর্মীয় কঠোর অনুশাসনকে দায়ী করতে থাকে ওয়াশিংটন। বলা হয়, উইঘুরের তরুণ চরম উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকছে।

‘শতাব্দীর কলঙ্ক’

সন্ত্রাসী হামলায় ইটিআইএম’র ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষকরা সন্দিহান। চীন ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি হামলার শিকার হয়েছে। যার জন্য উইঘুরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

২০১৪ সালে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুমিংয়ে ট্রেনে ছুরি হামলায় ৩১ যাত্রী নিহত হয়। জিনজিয়ানের উরুমকিতে ২০০৯ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ হানগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া দাঙ্গায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনা কর্তৃপক্ষ উইঘুরদের ইসলামি রীতিনীতি ত্যাগে বাধ্য করছে। তাদেরকে জোরপূর্বক সমাজতন্ত্রের দীক্ষা দেয়া হচ্ছে। 

এর আগে পম্পেও চীনের গণগ্রেফতারকে ‘শতাব্দীর কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দেন। উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা বর্বরতাকে গণহত্যা আখ্যা দেয়ার দাবিও জানান বেশ কয়েকজন মার্কিন সিনেটর।