ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার ক্ষমতাই নাই মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের!
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
- / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার ক্ষমতাই নাই মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের!
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চলতি বছরের ১৯ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ঘটে যাওয়া এক নাটকীয় ঘটনা বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর গর্ব এবং বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ লাইটনিং-টু ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন এই ঘটনাটি তথাকথিত স্টিলথ (অদৃশ্য) প্রযুক্তির অভেদ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে, তবে চালক অক্ষত রয়েছেন।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি ভিডিও প্রকাশে দেখা যায়, একটি ইনফ্রারেড সেন্সর দিয়ে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমানটি কোনো ধরণের প্রতিরক্ষামূলক কৌশল বা ডজ না নিয়েই উড়ছিল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সেবাস্টিয়ান রোবলিন মনে করেন, এফ-৩৫ মূলত রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য তৈরি করা হলেও অপটিক্যাল বা ইনফ্রারেড সেন্সরের কাছে এটি পুরোপুরি অদৃশ্য নয়। বিশেষ করে যখন স্বল্প পাল্লার লক্ষ্যভেদে বিমানটিকে নিচু দিয়ে উড়তে হয়, তখন মাটির কাছাকাছি থাকা মোবাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর জন্য এটি সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায়। ইরানের মজিদ বা রা’আদ-১ এর মতো সিস্টেমগুলো মূলত তাপ বা দৃশ্যমান ইমেজিং ব্যবহার করে কাজ করে, যা বিমানের রাডার ওয়ার্নিং রিসিভারকে সংকেত পাঠায় না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এফ-৩৫ এর এন/এএকিউ-৩৭ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাপারচার সিস্টেমের (ডিএএস) কার্যকারিতা। এই সিস্টেমে থাকা ছয়টি ইনফ্রারেড ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি সুরক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও কেন সেটি ফ্লেয়ার বা ডেকয় ব্যবহার করতে পাইলটকে সতর্ক করেনি, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। কারিগরি ত্রুটি নাকি ইরানের উন্নত জ্যামিং প্রযুক্তির ক্যারিশমা, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে তাকে পরাস্ত করার কৌশলও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন এবং ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে কয়েক দফা জোরালো হামলা চালিয়েছে। তবে ইরান তাদের বিশাল অস্ত্রাগারকে সুকৌশলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিশাল ভৌগোলিক আয়তন এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডকে কাজে লাগিয়ে ইরানি কমান্ডাররা তাদের মোবাইল লঞ্চারগুলোকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিমা ও সোভিয়েত প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি তাদের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন স্টিলথ বিমানের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই হামলার রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্বও অপরিসীম। মার্কিন বিমানবাহিনী গত কয়েক দশকে আকাশযুদ্ধে কোনো মনুষ্যবাহী বিমান হারায়নি বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইরানি সেনাদের মনোবল যেমন বাড়িয়ে দেবে, তেমনি মার্কিন মিশন পরিকল্পনাকারীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ভবিষ্যতে স্বল্প পাল্লার বোমা বা জেডিএএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন পাইলটদের এখন অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যা অভিযানের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
তবে একটি ইতিবাচক দিক হলো এফ-৩৫ এর স্থায়িত্ব। সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যেকোনো যুদ্ধবিমান আকাশেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টার বা শার্পনেলের আঘাতে চালনাশক্তি আংশিক হারালেও নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে। এটি বিমানের কাঠামোগত সক্ষমতা এবং পাইলটের দক্ষতারই পরিচয় দেয়। পেন্টাগন এই ক্ষতিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ





















