উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া অপেক্ষায়
- আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১
- / ১০৬৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক:
শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি নেই। সব কিছু আগের মতোই আছে। কারও সাহায্য ছাড়া নিজে কাজ করতে পারছেন না। এর মধ্যে কোমর এবং পায়ের ব্যথা বেড়ে গেছে। ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছিলেন রোদে বসতে। কিন্তু সিঁড়ি বেয়ে ছাদে যেতে পারেন না। ছাদ ছাড়া বাসায় রোদও আসে না। আর কতকাল এভাবে থাকবেন তিনি? মুক্তি পেলে উন্নত চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যেতে পারতেন। বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে এমনটাই জানান তার মেঝ বোন সেলিমা ইসলাম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসায় লন্ডনই পছন্দ খালেদা জিয়ার। সর্বশেষ তিনি লন্ডনই ডাক্তার দেখিয়েছেন। চোখের অপারেশন করিয়েছেন। এখনো লন্ডনের ডাক্তারের নিয়মিত ফলোআপে আছেন। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দিতে সরকারের কাছে পারিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জমা দেওয়া আছে। সরকারের পক্ষ থেকে ‘গ্রিন সিগনাল’ চূড়ান্ত হলেই তিনি বিদেশ যেতে পারবেন। সারা বিশে^ করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এখন বিদেশযাত্রায় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে কবে নাগাদ খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যাবে তা নির্ভর করছে সরকারের ‘মানবিক’ সিদ্ধান্তের ওপর।
এর আগেও লন্ডন, সৌদি আরব এবং সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়েছেন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই লন্ডন সফর করেন খালেদা জিয়া। সে সময় তার পায়ের ও চোখের চিকিৎসা করা হয়। তিনি লন্ডনেই চোখের অপারেশন করিয়েছিলেন। অস্টিও আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন খালেদা জিয়া। তার মেরুদণ্ড, বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে শক্ত হয়ে যায়। দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা আছে। তিনি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান। বাম চোখেও একটু সমস্যা রয়েছে।
দুর্নীতি মামলায় দ-প্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। দীর্ঘ কারাভোগের পর গত বছরের ২৫ মার্চে করোনা মহামারীতে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয় সরকার। বিএনপি প্রধানের মুক্তির পর এক দফা সময় বাড়ানো হয়। আগামী ২৫ মার্চ এ মেয়াদ শেষ হবে। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার বার্ধক্যজনিত নানা রোগব্যাধি শরীরে দেখা দিয়েছে। ডায়াবেটিস মাঝে-মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু বাসার চিকিৎসায় এখন খুব একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবাষির্কীতে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হন। খালেদা জিয়া পরিবারিক আবহে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মুক্তির পর থেকে খালেদা জিয়া অবশ্য পারিবারিক আবহেই আছেন। তিনি পরিবারের সদস্য এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করেন না। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কয়েকবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, হাত-পা এবং কোমরের ব্যথা আগের চেয়ে বেড়েছে। যেহেতু ঠাণ্ডা একটু বেশি। সে কারণে ব্যথাও একটু বেশি। মাঝে-মধ্যে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিসের জন্য শুধু ওষুধ খেলে হবে না। ফিজিক্যাল ওয়ার্ক দরকার আছে। যেহেতু তিনি হাঁটতে পারেন না। সে কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না। জয়েন্টের ব্যথাও বেড়েছে। এ ছাড়া শারীরিক অবস্থার উন্নতি নিয়ে বলার মতো কিছু নেই।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া মুক্তির পর থেকে গুলশানে ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় আছেন। বাসায় থেকেই তিনি আপাতত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসায় মূল দায়িত্বে আছেন লন্ডনে অবস্থানরত পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান। তার পরামর্শেই মূলত খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন এবং ডা. মামুন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। ডা. মামুন প্রায় প্রতিদিনই তার শরীরিক অবস্থা জানতে বাসায় যান। মাঝে-মধ্যে ডা. জাহিদ হোসেনও বাসায় যান।

















