ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬

কপোতাক্ষ নদের বাঁশের সাঁকো যেন মরণ ফাঁদ

Md Elias
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২
  • / ১০৮১ বার পড়া হয়েছে

কপোতাক্ষ নদের বাঁশের সাঁকো যেন মরণ ফাঁদ

কলারোয়া প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার কলারোয়া ও যশোরের কেশবপুর উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা-ত্রিমোহনী বাজার বিভক্তকারী কপোতাক্ষ নদের ওপর নেই কোনো সংযোগ সেতু। উপজেলার ৩০ গ্রামের মানুষদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারপারে তারা ২৭৫ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো ব্যভহার করছেন। এই সাঁকো যেন এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কলারোয়া ও কেশবপুর উপজেলার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে যোগাযোগের মাধ্যম ও বাণিজ্যিক সুবিধা থাকায় দুই উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেন। কিছুদিন পর পর স্থানীয়রা সাঁকোটি সংস্কার করলেও সপ্তাহ না যেতেই পুনরায় নড়বড়ে হয়ে পড়ে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সাঁকো দিয়ে কাশিয়াডাঙ্গার ২টি ও ত্রিমোহনীর ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াতের পাশাপাশি স্থানীয়দের জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে সংযোগ সেতু না থাকায়।

কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের লিয়াকত আলী জানান, স্থানীয় মানুষের চলাচলের জন্য ২০০১ সালে তিনি স্থানীয় যুবকের সহায়তায় কপোতাক্ষ নদের ওপর কাশিয়াডাঙ্গা-ত্রিমোহনী বাজারে ২৭৫ফুট দীর্ঘ বাঁশের ওই সাঁকোটি তৈরি করেন। সে সময় সাঁকো তৈরিতে তাদের ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। সাঁকোটি তৈরির পর কয়েকবার সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সংস্কার করলেও সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ওই সাঁকো দিয়ে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ ছোট যান চলাচল করায় ঘটছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি করলেও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

কলারোয়ার ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, কাশিয়াডাঙ্গা-ত্রিমোহনী বাজারে সংযোগ সেতু না থাকায় আমাদের সাতক্ষীরা জেলার অধিবাসীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কারণ কলারোয়া বাজার থেকে কেশবপুরের দূরত্ব কম হওয়ায় উৎপাদিত ফসল কেশবপুর মোকামে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু বাঁশের সাঁকো দিয়ে ভ্যান চলাচল করতে না পারায় এসব মালামাল নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়।

দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবর রহমান মফে জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কপোতাক্ষ নদের ওপর কাশিয়াডাঙ্গা-ত্রিমোহিনী পাকা সেতু নির্মাণের। এছাড়া এখানে সেতু নির্মাণ হলে কলারোয়া উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির উন্নয়ন হবে।

কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, কাশিয়াডাঙ্গা ও কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের ওপর পাকা সংযোগ সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, উপজেলার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ দূর করতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

[irp]

ট্যাগস :

কপোতাক্ষ নদের বাঁশের সাঁকো যেন মরণ ফাঁদ

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২

কপোতাক্ষ নদের বাঁশের সাঁকো যেন মরণ ফাঁদ

কলারোয়া প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার কলারোয়া ও যশোরের কেশবপুর উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা-ত্রিমোহনী বাজার বিভক্তকারী কপোতাক্ষ নদের ওপর নেই কোনো সংযোগ সেতু। উপজেলার ৩০ গ্রামের মানুষদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারপারে তারা ২৭৫ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো ব্যভহার করছেন। এই সাঁকো যেন এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কলারোয়া ও কেশবপুর উপজেলার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে যোগাযোগের মাধ্যম ও বাণিজ্যিক সুবিধা থাকায় দুই উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেন। কিছুদিন পর পর স্থানীয়রা সাঁকোটি সংস্কার করলেও সপ্তাহ না যেতেই পুনরায় নড়বড়ে হয়ে পড়ে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সাঁকো দিয়ে কাশিয়াডাঙ্গার ২টি ও ত্রিমোহনীর ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াতের পাশাপাশি স্থানীয়দের জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে সংযোগ সেতু না থাকায়।

কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের লিয়াকত আলী জানান, স্থানীয় মানুষের চলাচলের জন্য ২০০১ সালে তিনি স্থানীয় যুবকের সহায়তায় কপোতাক্ষ নদের ওপর কাশিয়াডাঙ্গা-ত্রিমোহনী বাজারে ২৭৫ফুট দীর্ঘ বাঁশের ওই সাঁকোটি তৈরি করেন। সে সময় সাঁকো তৈরিতে তাদের ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। সাঁকোটি তৈরির পর কয়েকবার সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সংস্কার করলেও সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ওই সাঁকো দিয়ে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ ছোট যান চলাচল করায় ঘটছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি করলেও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

কলারোয়ার ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, কাশিয়াডাঙ্গা-ত্রিমোহনী বাজারে সংযোগ সেতু না থাকায় আমাদের সাতক্ষীরা জেলার অধিবাসীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কারণ কলারোয়া বাজার থেকে কেশবপুরের দূরত্ব কম হওয়ায় উৎপাদিত ফসল কেশবপুর মোকামে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু বাঁশের সাঁকো দিয়ে ভ্যান চলাচল করতে না পারায় এসব মালামাল নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়।

দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবর রহমান মফে জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কপোতাক্ষ নদের ওপর কাশিয়াডাঙ্গা-ত্রিমোহিনী পাকা সেতু নির্মাণের। এছাড়া এখানে সেতু নির্মাণ হলে কলারোয়া উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির উন্নয়ন হবে।

কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, কাশিয়াডাঙ্গা ও কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের ওপর পাকা সংযোগ সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, উপজেলার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ দূর করতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

[irp]