ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাবুলে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৩

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অগাস্ট ২০২১
  • / ১০৮১ বার পড়া হয়েছে

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০৩ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, নিহতদের মধ্যে ৯০ জনই বেসামরিক আফগান নাগরিক ও ১৩ জন মার্কিন সেনা রয়েছেন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০৩ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, নিহতদের মধ্যে ৯০ জনই বেসামরিক আফগান নাগরিক ও ১৩ জন মার্কিন সেনা রয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কাবুল বিমানবন্দরে হওয়া ভয়াবহ ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা ও চাকরিজীবী রয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মেরিন কমান্ডার জেনারেল ফ্রাংক ম্যাকেঞ্জি সাংবাদিকদের কাছে জানান বৃহস্পতিবারের হামলার পর বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আরও হামলার আশঙ্কা করছেন তারা।


আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরে অ্যাবেই গেটের কাছে পরপর দু’টি বিস্ফোরণ ঘটে। যেখানে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী বিমানবন্দরের দায়িত্বে ছিল। হামলার পর গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরেই দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে ব্যারন হোটেলের পাশে। যেখানে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ প্রত্যাশী আফগানদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছিল।

আফগান সাংবাদিক বিলাল সারওয়ারি এক টুইটে জানান, বিমানবন্দরের অ্যাবেই গেটের বাইরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি পয়ঃনিষ্কাশন খালের পাশে নারী শিশুসহ অনেক আফগান অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই ভিড়ের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দেয়। বিস্ফোরণের পর আরেক হামলাকারী গুলিবর্ষণ শুরু করে।

এদিকে আল জাজিরা জানায়, আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট তথা আইএস। বৃহস্পতিবার রাতে আইএস তাদের নিজস্ব বার্তা সংস্থা আমাকের মাধ্যমে বিষয়টি জানায়। পাশাপাশি তারা ওই আত্মঘাতীর ছবিও প্রকাশ করে।

এদিকে আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে তালেবানদের বোমা হামলায় ১৩ মার্কিন সেনা হত্যা ও ৬০ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় কঠিন প্রতিশোধ নেবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশের সময় এ কথা বলেন তিনি।

বোমা হামলার ঘটনায় মার্কিন সেনা ছাড়াও নিহত হয়েছেন আফগান সেনারা। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বাইডেন। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারা দেশে পতাকা অর্ধনমিত ও কিছু সময়ের জন্য নীরবতা পালন করে হোয়াইট হাউসে উপস্থিতরা। এরপর দুঃখভারাক্রান্ত বাইডেন বলেন, ‘কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা অজানা নয়। আমরাও প্রতিক্রিয়াশীল হব, যখন আমাদের সময় আসবে। ক্ষমা করব না, আমরা এই হামলার কথা ভুলেও যাব না। হামলাকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করব এবং কঠোর প্রতিশোধ নেব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘জঙ্গিরা জিতবে না, এই লড়াইয়ে আমরাই জিতব। কারণ আমরা তাদের ভয় পাই না। ওরা আমাদের কিছুই করতে পারবে না। এর আগেই আমরা সেনাদের সেখান থেকে সরিয়ে আনব।’যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব মতে, ১৪ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজারের বেশি মার্কিন ও আফগান নাগরিক কাবুল ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। এখনো আফগানিস্তান ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। যতই দিন গড়াচ্ছে ততই আফগানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উত্তাল আফগানিস্তান থেকে নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে মেক্সিকো, লিথুয়ানিয়াসহ বিভিন্ন দেশ।
[irp]

কাবুলে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৩

আপডেট সময় : ১২:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অগাস্ট ২০২১

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০৩ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, নিহতদের মধ্যে ৯০ জনই বেসামরিক আফগান নাগরিক ও ১৩ জন মার্কিন সেনা রয়েছেন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০৩ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, নিহতদের মধ্যে ৯০ জনই বেসামরিক আফগান নাগরিক ও ১৩ জন মার্কিন সেনা রয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কাবুল বিমানবন্দরে হওয়া ভয়াবহ ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা ও চাকরিজীবী রয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মেরিন কমান্ডার জেনারেল ফ্রাংক ম্যাকেঞ্জি সাংবাদিকদের কাছে জানান বৃহস্পতিবারের হামলার পর বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আরও হামলার আশঙ্কা করছেন তারা।


আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরে অ্যাবেই গেটের কাছে পরপর দু’টি বিস্ফোরণ ঘটে। যেখানে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী বিমানবন্দরের দায়িত্বে ছিল। হামলার পর গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরেই দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে ব্যারন হোটেলের পাশে। যেখানে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ প্রত্যাশী আফগানদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছিল।

আফগান সাংবাদিক বিলাল সারওয়ারি এক টুইটে জানান, বিমানবন্দরের অ্যাবেই গেটের বাইরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি পয়ঃনিষ্কাশন খালের পাশে নারী শিশুসহ অনেক আফগান অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই ভিড়ের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দেয়। বিস্ফোরণের পর আরেক হামলাকারী গুলিবর্ষণ শুরু করে।

এদিকে আল জাজিরা জানায়, আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট তথা আইএস। বৃহস্পতিবার রাতে আইএস তাদের নিজস্ব বার্তা সংস্থা আমাকের মাধ্যমে বিষয়টি জানায়। পাশাপাশি তারা ওই আত্মঘাতীর ছবিও প্রকাশ করে।

এদিকে আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে তালেবানদের বোমা হামলায় ১৩ মার্কিন সেনা হত্যা ও ৬০ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় কঠিন প্রতিশোধ নেবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশের সময় এ কথা বলেন তিনি।

বোমা হামলার ঘটনায় মার্কিন সেনা ছাড়াও নিহত হয়েছেন আফগান সেনারা। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বাইডেন। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারা দেশে পতাকা অর্ধনমিত ও কিছু সময়ের জন্য নীরবতা পালন করে হোয়াইট হাউসে উপস্থিতরা। এরপর দুঃখভারাক্রান্ত বাইডেন বলেন, ‘কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা অজানা নয়। আমরাও প্রতিক্রিয়াশীল হব, যখন আমাদের সময় আসবে। ক্ষমা করব না, আমরা এই হামলার কথা ভুলেও যাব না। হামলাকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করব এবং কঠোর প্রতিশোধ নেব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘জঙ্গিরা জিতবে না, এই লড়াইয়ে আমরাই জিতব। কারণ আমরা তাদের ভয় পাই না। ওরা আমাদের কিছুই করতে পারবে না। এর আগেই আমরা সেনাদের সেখান থেকে সরিয়ে আনব।’যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব মতে, ১৪ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজারের বেশি মার্কিন ও আফগান নাগরিক কাবুল ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। এখনো আফগানিস্তান ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। যতই দিন গড়াচ্ছে ততই আফগানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উত্তাল আফগানিস্তান থেকে নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে মেক্সিকো, লিথুয়ানিয়াসহ বিভিন্ন দেশ।
[irp]