ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় কক্সবাজারে মা-মেয়ের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০১:২৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
- / ১০০৫ বার পড়া হয়েছে
ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় কক্সবাজারে মা-মেয়ের কারাদণ্ড
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিচার প্রার্থী কলেজ শিক্ষার্থী ও তার মাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) পেকুয়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লব ওই পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও নানা অজুহাত দেখিয়ে টাকা আদায় করলেও পল্লব সেই প্রতিবেদন প্রতিপক্ষের পক্ষে জমা দেন।
পরিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) ও তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাত (২৩)। এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে এসআই পল্লব ক্ষিপ্ত হয়ে মা-মেয়েকে থানা কম্পাউন্ডে মারধর করেন এবং আটকে রাখেন।
সূত্র মতে, এমন পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষণের মধ্যে পুলিশের তথ্যে থানায় আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।
স্বজনেরা অভিযোগ, ‘ঘুষ লেনদেনের ফলে পল্লবের সাথে তৈরি হওয়া বিরোধের কারণ বর্ণনা করলেও ইউএনও তা আমলে না নিয়ে উল্টা রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা জান্নাতের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার মিথ্যা অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসে সাজা ঘোষনা করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুবাইদার প্রতিবেশী মনজিলা বেগম বলেন, ‘আমি তাদের সাথে থানায় গিয়েছিলাম, এসআই পল্লবের কাছে জুবাইদা টাকা ফেরত চাইলে তিনি চড়াও হয়ে তেড়ে যান। পরে পুলিশ সদস্যরা জুবাইদা ও তার মাকে আটকে রাখেন এবং সেখানে উপস্থিত আমাদের কয়েকজনকে চলে যেতে বলেন।’
ভুক্তভোগী জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল বলেন, ‘আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলছে। এসআই পল্লব নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। ন্যায় বিচারের পরিবর্তে আমার মা ও বোনকে দোষী বানিয়েছেন ইউএনও। ওসি ও এসআই পল্লবের যোগসাজশে তিনি এমন অন্যায় করেছেন।’
রেহেনা মোস্তফা রানুর বোন আমেনা মুন্নী (জুবাইদার খালা) বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার বোন ও বোনের মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে, আমরা অবিলম্বে তাদের মুক্তি চাই।’
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান,‘ মা-মেয়ে থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন, তাই ইউএনও মহোদয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উপযুক্ত সাজা প্রদান করেছেন। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে এসআই পল্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসবে। খারাপ আচরণের কারণে তাৎক্ষণিক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
দৈনিক আস্থা/এমএইচ
















