ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে দুদিন আগে একযোগে দেশব্যাপী ”সারপ্রাইজ অভিযান”

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০৩৩ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনে দুদিন আগে একযোগে দেশব্যাপী ‘’সারপ্রাইজ অভিযান’’ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পর যে কোনো দিন, যে কোনো সময় এই অভিযান শুরু হতে পারে। আগামীকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মোতায়েন শুরু হচ্ছে, যা মঙ্গলবার নাগাদ জেলা-উপজেলা পর্যায়েও পৌঁছাবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো দিন, তারিখ ও সময় নেই, যে কোনো সময় একযোগে শুরু হবে এ অভিযান। যে কোনো অপরাধী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, খুনি ও মাদক ব্যবসায়ী এবং অস্ত্রধারীদের গ্রপ্তার করা হবে। এই অভিযানের ফলে কেউ নির্বাচনে কোনো ধরনের সন্ত্রাস কিংবা কোনো বিশৃঙ্খলা করার সাহস পাবে না। তবে নির্বাচনের দুইদিন আগে একযোগে দেশব্যাপী ‘’সারপ্রাইজ’’ অভিযানের ছক আঁকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা বা আইনবিরোধী তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী স্ব স্ব বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, গত বছরের ১৯ জুলাই থেকেই সেনাবাহিনী সারাদেশে মোতায়েন রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং সহিংসতা প্রতিরোধে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভোটকেন্দ্র দখল, কেন্দ্রে সহিংস ঘটনাসহ যে কোনো ধরনের আইনবিরোধী কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এদিকে সকল বাহিনীর প্রধানগণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্ব-স্ব বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকছে।

ইতিমধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন ক্যাম্প সেনা ও পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করেছেন। সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিনি আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিক বান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের দিক-নির্দেশনা দেন তিনি।

এ ছাড়া নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করেন। নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিক-নির্দেশনা দেন।

পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে একটি কঠোর ও সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

ট্যাগস :

নির্বাচনে দুদিন আগে একযোগে দেশব্যাপী ”সারপ্রাইজ অভিযান”

আপডেট সময় : ১০:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে দুদিন আগে একযোগে দেশব্যাপী ‘’সারপ্রাইজ অভিযান’’ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পর যে কোনো দিন, যে কোনো সময় এই অভিযান শুরু হতে পারে। আগামীকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মোতায়েন শুরু হচ্ছে, যা মঙ্গলবার নাগাদ জেলা-উপজেলা পর্যায়েও পৌঁছাবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো দিন, তারিখ ও সময় নেই, যে কোনো সময় একযোগে শুরু হবে এ অভিযান। যে কোনো অপরাধী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, খুনি ও মাদক ব্যবসায়ী এবং অস্ত্রধারীদের গ্রপ্তার করা হবে। এই অভিযানের ফলে কেউ নির্বাচনে কোনো ধরনের সন্ত্রাস কিংবা কোনো বিশৃঙ্খলা করার সাহস পাবে না। তবে নির্বাচনের দুইদিন আগে একযোগে দেশব্যাপী ‘’সারপ্রাইজ’’ অভিযানের ছক আঁকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা বা আইনবিরোধী তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী স্ব স্ব বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, গত বছরের ১৯ জুলাই থেকেই সেনাবাহিনী সারাদেশে মোতায়েন রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং সহিংসতা প্রতিরোধে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভোটকেন্দ্র দখল, কেন্দ্রে সহিংস ঘটনাসহ যে কোনো ধরনের আইনবিরোধী কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এদিকে সকল বাহিনীর প্রধানগণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্ব-স্ব বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকছে।

ইতিমধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন ক্যাম্প সেনা ও পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করেছেন। সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিনি আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিক বান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের দিক-নির্দেশনা দেন তিনি।

এ ছাড়া নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করেন। নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিক-নির্দেশনা দেন।

পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে একটি কঠোর ও সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।