পানছড়িতে কুসুম প্রিয় ও প্রদীপ লাল চাকমার স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
প্রতিহিংসার বলি যুবনেতা ও ৩নং পানছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুসুম প্রিয় চাকমা ও প্রদীপ লাল চাকমাকে হত্যার ২৭ তম বার্ষিকী খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে পালিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল/২৫) সকাল ১১টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম যৌথ আয়োজন করা হয়।
পিসিপির পানছড়ি উপজেলা সভাপতি সুনীল ময় চাকমার সভাপতিত্বে ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক পরান্তু চাকমার সঞ্চালিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, কনক বরন চাকমা, মনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, নন্দ দুলাল চাকমা, পানছড়ি সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা, শহীদ পরিবারের সদস্য নিকাঞ্চন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক পরিণীতা চাকমা, পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা, ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনীল চন্দ্র চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুন চাকমা ও ইউপিডিএফ পানছড়ি ইউনিট সমন্বয়ক আইসুক ত্রিপুরা প্রমূখ।
“শারীরিকভাবে খুন করা যায়, চেতনা ধ্বংস করা যায় না” এই শ্লোগানে স্মরণসভা শুরুর আগে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
অসেতু চাকমা বলেন, কুসুম প্রিয় চাকমার সাথে আমার ভারতে ঠাকুমবাড়িতে শেষ দেখা হয়, তখন তিনি শান্তিবাহিনীর সাথে ছিলেন। ২রা ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি নামে আপোষ চুক্তির বিরোধীতা করার কারণে ১৯৯৮ সালে ৪ এপ্রিল তাকে হত্যা করা হয়। আমার চিন্তা হয় জাতি হিসেবে আমরা কিভাবে টিকে থাকবো, চলমান সংঘাত আমাদের অবশ্যই বন্ধ হওয়া দরকার।
২নং চেঙ্গী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অনীল চন্দ্র চাকমা বলেন, আমরা শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করতে পারি না। আমাদের পানছড়িবাসী সবসময় প্রতিবাদী ছিলাম। যার কারণে শাসকশ্রেণির অনেক ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আজ যারা অনেকেই টাকার বিনিময়ে পকেটে ঢুকে শান্ত পাহাড়কে অশান্ত করে রক্তাক্ত করছে, তারা যদি নিজের বিবেককে পরিবর্তন করতে না পারে তাহলে বিপদে পড়বে। চলমার ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ হওয়া জরুরি।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮ টায় পূজগাং মুখ উচ্চবিদ্যালয়ে কুসুমপ্রিয় ও প্রদীপ লাল চাকমার স্মরণে নির্মিত স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পিসিপি ও যুব ফোরামের সদস্যরা।