পানছড়িতে জরাজির্ণ ঘরে বসবাস করছে বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা ৭ পরিবার
- আপডেট সময় : ১২:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১
- / ১১১১ বার পড়া হয়েছে
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউনিয়নের ১নং মোল্লাপাড়া ওয়ার্ডে জরাজির্ণ ঘরে বসবাস করেছে অসহায়, গরিব, বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা ৭ মহিলার পরিবার। তার মধ্যে স্বামী পরিত্যাক্তা সালমার ঘরের বাস করছে গবাদী পশু গরু। দীর্ঘ দিন থেকে জরাজির্ণ ঘরে বসবাস করলেও এদের ভাগ্যে জুটেনি সরকারী সহায়তায় কোন ঘর।
অনুসন্ধানে জানাযায়, মোল্লাপাড়া (লবণব্যাপারী ঘাট) এর বাসিন্দা গরীব, অসহায়, বিধবা মোছাঃ সমলা খাতুন (৬৩) স¦ামী মৃত মোঃ সোলাইমান মিয়া, মাতা মৃত কিতাব জান বিবি। মোছাঃ আমেনা খাতুন (৬৪) স্বামী মৃত আমির উদ্দিন দেওয়ান, মাতা মোছাঃ কবুল জান দুই নাতী-নাতনী নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে মানবেতর জিবণ যাপন করছে। মোল্লাপাড়া (বয়রাতলা) এর বাসিন্দা বিধবা মোছাঃ ভানু বিবি (৫৫) স্বামী মৃত মোঃ আব্দুল করিম, মাতা মৃত অমলা বিবি তিন সন্তান নিয়ে ভাঙ্গা ও কুঁড়ে ঘরে মানবেতর জিবণ যাপন করছে। সালমা আক্তার (২৮) (মধ্যমোল্লাপাড়া) পিতা মোঃ সামছুল হক, মাতা মোছাঃ মজিরন (স্বামী পরিত্যাক্তা) দুই সন্তান নিয়ে বাবা ভিটায় একচালায় অর্ধহারে-অনাহারে মানবেতর জিবন যাপন করছে। মোল্লাপাড়া (মোস্তাফার টিলা) এর মোছাঃ নুরজাহান বেগম (৫৫) ম্বামী মৃত বাদশা মিয়া মাতা মাফিয়া খাতুন ১৫-১৬ বছর পূর্বে স্বামী হারিয়ে জরাজির্ন ঘরে বসবাস করছে। মোল্লাপাড়া (মাদ্রাসা টিলা) এর মোছাঃ ছালমা খাতুন (২৯) পিতা মোঃ জানু মিয়া, মাতা মালেকা খাতুন, (স্বামী পরিত্যাক্তা) দুই সন্তান নিয়ে বাবার ভিটায় একচালায় অর্ধহারে-অনাহারে মানবেতর জিবন যাপন করছে এবং ছালমার একচালা ঘরের পাশের রুমেই থাকেন গবাদী পশু গরু। মোছাঃ শিউলী আক্তার শিলা (৪৫) স্বামী আবুল খায়ের (স্বামী পরিত্যাক্তা), মাতা মৃত রোকেয়া বেগম খাবার হোটেলে কাজ করে চার সন্তান লালন পালন করেছেন। তার মধ্যে দুই সন্তানকে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জিবণ যাপন করছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা ও জানাযায়, এদের সবার ঘর গুলোই কুঁড়ে ঘর। দীর্ঘ দিন পূর্বে ঘর গুলো নির্মান করা হলেও সময়ের বির্বতনে ঘর গুলো জরাজির্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। অর্থভাবে নতুন করে নির্মান করার মতো অর্থনৈতিক সার্মথ নেই।
বিধবা মোছাঃ সমলা খাতুন (৬৩), মোছাঃ আমেনা খাতুন (৬৪), মোছাঃ ভানু বিবি (৫৫), মোছাঃ নুরজাহান বেগম (৫৫) বলেন, আমাদের স্বামী মারা যাওয়ার সময় আমাদেরকে যে কুঁড়ের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছিল সে ঘর এখন ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে, সামনে আমাদের কি অবস্থা হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। শুনছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায় গরীব, বিধবা, নিরিহ মানুষদের ঘর করে দিতেছে তাই প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে একটি ঘর দিলে আমরাও শেষ বয়সে একটু আরাম করে থাকতে পারতাম। একই কথা গুলো বলেন স্বামী পরিত্যাক্তা সালমা আক্তার (২৮), মোছাঃ ছালমা খাতুন (২৯), মোছাঃ শিউলী আক্তার শিলা (৪৫)। তারা আরো বলেন, আমাদের স্বামী আমাদেরকে ফেলে চলে গেছে তারপরও দুঃখ-কষ্টে দুই সন্তান দিয়ে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদেরকে বুকে আগলে রেখে বসবাস করছি।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অসহায়, গরীব, হতদরিদ্র মানুষকে অত্যান্ত ভালবাসেন বিধায় তাদেরকে গৃহ নির্মাণ করে দিবেন বলে অয়াদা করেছেন, তারই ধারা বাহিকতায় বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মতো খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় অত্যান্ত পরিশ্রমী, সৎ, সুদক্ষ ও নিষ্টাবান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম মহোদয় এর নেতৃত্বে এসকল হতদরিদ্র মানুষ সুবিধা পাচ্ছে উল্লেখ করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম মোমিন বলেন, এই ৭জন অসহায়, দরিদ্র, বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা মা ও বোনেরা, যাহাতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুদানকৃত ঘর গুলো পায় তার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সম্মানীত সভাপতি, ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়াক ট্রার্সফোর্স এর চেয়ারম্যান, মাননীয় সংসদ সদস্য ও আমাদের অভিবাবক বাবু কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিধবা, প্রতিবন্ধি, অসহায় মানুষদের প্রতি অত্যান্ত আন্তরিক। তাই যে কোন ঘর বা ভাতা বলেন সকল ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকার তাদের রয়েছে। তাই জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব হলো প্রশাসনকে অবগত করে সহযোগীতা করতে হবে উল্লেখ করে ৫নং উল্টাছড়ি ইউপি‘র সাবেক চেয়ারম্যান সুভ্রত চাকমা বলেন, অসহায়, দরিদ্র, বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তাগন যাহাতে অনুদানকৃত ঘর গুলো পায় তার জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য বাবু কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।



















