DoinikAstha Epaper Version
ঢাকারবিবার ২৩শে জুন ২০২৪
ঢাকারবিবার ২৩শে জুন ২০২৪

আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফরিদপুরে দালালের খপ্পড়ে নিঃস্ব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

Abdullah
মে ২০, ২০২৩ ১০:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফরিদপুরে দালালের খপ্পড়ে নিঃস্ব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

 

মামুনুর রশীদ/ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

আলমগীর ও ফারুক সরদার দুই সহোদর। জীবন জীবিকার তাগিদে দুজনেই মালয়েশিয়ায় প্রবাসী জীবন কাটিয়েছেন প্রায় ৪০ বছরের অধীক সময়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জনের অর্থ দিয়ে সংসারের খরচ মিটিয়ে সম্মিলিতভাবে ৩০ লাখ টাকা জমা করেন। সেই টাকায় উন্নত জীবনের আশায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ইতালি যাওয়ার। কিন্ত দুই ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ আজ দেখা দিয়েছে বিষাদে। দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব ও সর্বশান্ত হয়ে গেছে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের স্বপ্ন। অবশেষে ফরিদপুরের ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিকুর রহমান সরদারের ছেলে প্রবাসী দুই ভাই ন্যায় বিচারের আশায় শরণাপন্ন হয়েছেন আদালতের।

 

জানা গেছে, অভিযুক্ত দালাল নিবিড় একই এলাকার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের হরিনা গ্রামের মৃত ননী গোপাল সরকারের ছেলে। নিরব কুমার সরকার ওরফে নিবিড় দালালের মাধ্যমে বৈধপথে ইতালি যাওয়ার জন্য ৩০ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন আলমগীর ও ফারুক সরদার। কিন্তু দালাল নিবিড় তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও । কোন সন্ধান মিলছে না তার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তাদের টাকায় দালাল নিজেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দালালের খপ্পড়ে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছেন তারা। টাকার ফেরত পেতে গ্রামের মাতুব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্ত কোনো লাভ না হওয়ায় আদালতের দারস্থ হয়েছেন।

ফারুক সরদার সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারের অভাব ঘোচাতে আমার ৫৩ বছরের জীবনের ২৭ বছর মালয়েশিয়ায় থেকেছি। আমার ভাই আলমগীর তার ৪১ বছরের জীবনে ১৬ বছর মালয়েশিয়ায় কাটায়। দুই ভাই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করে সংসার চালিয়েছি। আমাদের (তাদের) সারাজীবনের কষ্টের অর্জিত টাকার মধ্যে ৩০ লাখ টাকা জমিয়ে ছিলাম ইউরোপ কানট্রিতে যাওয়ার আশায়। এজন্য গত বছর দেশে ফিরে এসেছিলাম। এসময় পাশ্বর্বর্তী হরিনা গ্রামের নিরব কুমার নিবিড় (দালাল) ইতালি যাওয়ার পরামর্শ দেয়। নিরব আমাদের পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাধে এলাকার একাধিক যুবক বিভিন্ন দেশে গেছে বলে তার প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস জন্মেছিল।

 

যে কারণে আমাদের দুই ভাইকে ইতালি নেওয়ার জন্য নিবিড় সর্বমোট ৩০ লাখ টাকা চায়। সমপরিমাণ টাকায় আমাদের ইতালি নিয়ে যাবেন এবং ৯০ হাজার টাকা বেতনে চাকরী দেওয়ার চুক্তি হয় তার সাথে। চুক্তি অনুযায়ী কয়েক দফায় আমরা দুই ভাই ৩০ লাখ টাকা দেই। এসবের মধ্যে ২০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিবিড়ের ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে যে টাকা পাঠিয়েছি তার জমা রশিদের কাগজ আমাদের কাছে আছে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকে নিবিড় শুরু বিবিধ উপয়ায়ে আমাদের সাথে টালবাহানা করে।

 

আরো পড়ুন :  রাসেলস ভাইপার মারলে পুরস্কার, আইনের পরিপন্থী-বলছে বনবিভাগ

তার সাথে কথা বা দেখা হলেই ইতালি নেওয়ার ব্যাপারে বলতেই আজ-কাল করতে করতে শুধু সময় পার করেন। পরে লক মারফতে জানা যায় একপর্যায় নিবিড় দালাল নিজেই বিদেশে চলে যায়। অবশেষে বাধ্য হয়ে আমরা দুই ভাই নিবিড় ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে আদালতে দুটি মামলা করি। মামলা দুটি আদালত আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এবিষয়ে ফারুকের সাথে কথা বললে একই সুর মিলিয়ে দালাল নিবিড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আলমগীর।

 

তাদের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিকুর রহমান সরদার বলেন, ইতালি যাওয়ার জন্য আমার দুই ছেলে নিবিড়কে ৩০ লাখ টাকা দেয়। টাকা নেওয়ার পর থেকে নিবিড়ের কোন খোঁজ নেই। ছেলে দুটি নিঃশ্ব হয়ে গেছে। অপরদিকে ছেলেরা মামলা করার পর থেকে নিবিড় বিদেশে বসে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগন্ডা ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-থামকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় সালথা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি যেই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ সেই দেশে আমিসহ আমার পরিবার হুমকিতে আছি। এমতাবস্থায় দালাল নিবিড়ের কাছে থাকা টাকা ফেরত পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

 

অভিযুক্ত নিরব কুমার সরকার ওরফে নিবিড় তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বলেন, আলমগীর আর ফারুকের কাছ থেকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে আমি কোনো টাকা-পয়সা নেয়নি। আমার সাথে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক। ব্যবসার জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের সাথে আমার অনেক টাকা লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেনের জমা রশিদ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আদালত আমাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। আমরা আদালতে গিয়ে আইনের মাধ্যমে মোকাবেলা করবো। আমি ভুয়া আইডি খুলে ফেসবুকে কারো বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি বা গালমন্দ করিনি। এটাও একটি বানানো গল্প বলে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবী করেন তিনি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সেহরির শেষ সময় - ভোর ৩:৪১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:৫২
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৬
  • ১২:০৩
  • ৪:৪০
  • ৬:৫২
  • ৮:১৮
  • ৫:১১