ফরিদপুরে মাথার খুলিসহ ৭০ হাড়গোড়ের রহস্য উদ্ঘাটন
- আপডেট সময় : ১০:৫১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩
- / ১০৯৪ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরে মাথার খুলিসহ ৭০ হাড়গোড়ের রহস্য উদ্ঘাটন
মামুনুর রশীদ/ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
সৎ ছেলে শিশু মুরসালিন। এ কারণে তাকে হত্যা করে ঘাতক পিতা মিজানুর রহমান। মাথার খুলিসহ ৭০ পিস হাড় কৌশলে নদীর ঘাটের কালীমন্দিরে ধারে সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ফেলে রাখে। নিজেকে অপরাধ মুক্ত নিশ্চিত ভেবে পালিয়ে যায় মিজানুর। প্রায় একটি বছর পর মন্দিরের পাশে শিশুরা খেলাধুলা করতে গিয়ে দেখে ফুটবল গোলাকার মাটির কুণ্ডলি। উৎসাহী হয়ে লাথি মারলে বেরিয়ে আসে মানবমাথার খুলি। খবর পেয়ে পুলিশ বস্তা থেকে মানুষের মাথার খুলি ও ৭০টি হাড়গোড় উদ্ধার করে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ফরিদপুরের মধুখালী সরদারপাড়ার ১১ বছর বয়সের শিশু মুরসালিন নৃশং হত্যাকাণ্ড ও উদ্ধার করা মাথার খুলি ও হাড়গোড় টুকরো টুকরোর রহস্য কাণ্ডের নেপথ্যর ঘটনা। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ। সৎ পিতার হাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু মুরসালিন মধুখালী উপজেলার আশাপুর এলাকার ইতি খাতুন ও মোঃ আশরাফুল শেখের ছেলে।
পিবিআই ফরিদপুর পুলিশ সুপার জানান, শিশু মুরসালিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত শিশুটির সৎ বাবা মিজানুর রহমানের ওপরে সন্দেহ্র সূত্রতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৩ জুলাই মাগুরার শ্রীপুর থানার ওয়াবদা মোড় এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে বিজ্ঞআদালতে সোপর্দ করা হয়। এসময় মিজানুর রহমান নিজের সৎ ছেলে মুরসালিনকে হত্যার স্বীকারক্তিতে ১৬৪ ধারায় ৫নং আমলি আদালতের বিচারক মোঃ ফরিদ উদ্দীনের কাছে জবানবন্দী দেন। ওই জবানবন্দী থেকেই বেড়িয়ে আসে শিশু মুরসালিন হত্যার রহস্য।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় মানুষের মাথার খুলিসহ ৭০ পিস হাড় উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। পরে মধুখালী থানার উপপরিদর্শক সৈয়দ তোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্তের পরেও মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্ত পিবিআই এর ওপর ন্যাস্ত করেন।ফরিদপুরের পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ মামলাটির তদন্তের দ্বায়িত্ব দেন চৌকস এস আই রামপ্রসাদ ঘোষকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুখালী উপজেলার আশাপুর এলাকার ইতি খাতুন ও মোঃ আশরাফুল শেখের ছেলে হারানোর জিডির সূত্র ধরে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তাদের দুজনের পরীক্ষা করান। উদ্ধারকৃত হাড়গোড়ের ডিএনএ সঙ্গে পরীক্ষা করেন। এতে শিশু মুরসালিনের সেই হাড়গোড়গুলোর সাথে ইতি খাতুন ও মোঃ আশরাফুল শেখের সাথে পরিক্ষায় মিলে যাওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় ঘটনার মূল অভিযুক্ত মুরসালিনের সৎ বাবা মোঃ মিজানুর রহমানকে ২৩ জুলাই মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার ওয়াবদা মোড় থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ফরিদপুরের উপপরিদর্শক (এস আই) রামপ্রসাদ ঘোষ বলেন, হাড়গোড়ের পরিচয় সনাক্তের জন্য শিশু মুরসালিনের নিখোঁজ হওয়ার জিডির সূত্র ধরে মা ইতি ও বাবা আশরাফুল শেখের ডিএনএ টেস্টের জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে মুরসালিনের পরিচয় মিলে। তিনি আরও বলেন, মামলা তদন্তের পর্যায়ে বড় ক্লু ছিল মুরসালিনের বাড়ির সামনের একটি চানাচুর ফ্যাক্টরির দারোয়ানের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সূত্রে ঘটনার দিন সৎবাবা মিজানকে মুরসালিনকে ডেকে নিতে দেখেছিলেন। সেই সুত্র ধরে আরও এগিয়ে যায় পিবিআইর তদন্ত।
নিজের স্বীকারোক্তিতে আসামি মিজান বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি মরিচ ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এসময় ঘর হতে মুরসালিনকে বের হতে দেখে তাকে ডেকে নিয়ে তার মা কোথায় গিয়েছে বলে জানতে চান। প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না পেয়ে মুরসালিনের কানে সজোরে তিনি থাপ্পড় মারেন। ফলে কানের পর্দা ফেটে রক্তাক্ত মুরসালিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। এরপর সড়কের পাশে বড় ঘাসের আড়ালে মুরসালিনের লাশ লুকিয়ে রাখেন মিজান। রাতে ঘর থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে মুরসালিনের লাশ বস্তাবন্দি করে ঘাড়ে করে প্রায় চার কিলোমিটার দুরে নিয়ে নদীর পাড়ে মাটির নিচে পুঁতে রেখে এসেছিল বলে পিবিআইকে জানায় পিতারুপী এক ঘাতক আসামি মিজান।















