ফরিদপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতন-পুলিশের উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ মে ২০২৩
- / ১০৪৯ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতন-পুলিশের উদ্ধার
মামুনুর রশীদ/ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে আরিফা নামের এক গৃহবধূকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক নির্যাতন করায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নে। গুরুতর অসুস্থ আরিফা ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোববার গভীররাতে পুলিশ গুরুতর অবস্থায় গৃহবধুকে উদ্ধার করে। আরিফার স্বামীর বাড়ি সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদি গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিবিরকান্দি গ্রামের স্কুলশিক্ষক আবুল কাশেম মাতব্বরের মেয়ে আরিফার সঙ্গে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদি গ্রামের কৃষক মফিজুর শেখের ছেলে হাসান শেখের (২৫) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে হাবিবা আক্তার নামে দেড় বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান আছে।
সূত্রে জানা যায়, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুক হিসেবে বিভিন্ন সময় টাকার জন্য প্রায় আরিফাকে চাপ দিত। নিজের সংসারে শান্তির লক্ষ্য বাবার কাছ থেকে কয়েক দফায় কয়েক লাখ টাকা এনে দেয় স্বামীর হাতে। কিন্তু তাদের লোভের মাত্রা নির্ণয় হওয়া কঠিন হয়ে উঠে আরিফার জন্য। কিছুদিন যেতে না যেতেই পর আবার যৌতুকের দাবী। টাকা আনতে না চাইলে শুরু হয় তার উপর নির্যাতন।প্রতিনিয়ত এভাবেই টাকার জন্য প্রায় ৩ বছর ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আসছিল আরিফা।
গতকাল রোববার বিদেশ যাওয়ার জন্য স্ত্রী আরিফার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন হাসান ও তার পরিবার। আপত্তি জানায় আরিফা। এতেই শারীরিক নির্যাতন চালায় স্বামী পরিবারের লোকজন। ফলে আরিফার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্বক জখম হয়। ঘটনাটি জানার পর প্রতিবেশীরা গোপনে ফোন করে আরিফার বাবাকে জানান।
মেয়ের উপর নির্যাতন করার খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধারে আরিফার বাবা সালথা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর গভীর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরিফাকে উদ্ধার করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফা আক্তার বলেন, আমার একমাত্র সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকজনের শত নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর সংসার করে আসছি। কিন্তু আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের লোভের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছিল। এবার বিদেশ যাওয়ার নামে আবার ৫ লাখ টাকার জন্য রোববার রাতে আমাকে ঘরে আটকে রেখে প্রচণ্ডভাবে মারপিট করে বন্দি করে রাখে। আমার বাবা খবর পেয়ে, পুলিশের সহযোগিতায় আমাকে উদ্ধার করে।
আরিফার স্বামী হাসান শেখ বলেন, বিয়ের সময় মেয়ের বাবার পক্ষ থেকে আমাকে বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়ার কথা থাকলেও তেমন কিছু দেয়নি। তবে এটি একটি সাংসারিক বিষয় এর বেশী আমার কিছুই বলার নেই।
এ বিষয়ে সালথা থানার এসআই রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে উদ্ধার করার পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।















