ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আহবানে কুমার নদের কচুরিপানা অপসারণ শুরু
- আপডেট সময় : ০৭:২০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩
- / ১০৫৩ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আহবানে কুমার নদের কচুরিপানা অপসারণ শুরু
ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদ বাঁচলে শহর বাঁচবে। কুমার নদকে রক্ষা করতে যা করা দরকার সবই করা হবে। যত দূর যাওয়া যায় পর্যায়ক্রমে তত দূর যাব শহরবাসীকে সাথে করে। এমন চেতনা ও উদ্দীপনা নিয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন প্রধান ফরিদপুরে কুমার নদ রক্ষায় কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা পরিষদ, ফরিদপুর পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় শনিবার সকাল সাতটায় স্থানীয় বির্সজন ঘাটে ফরিদপুরের কুমার নদের কচুরিপানা অপসারণ কর্মসূচীর উদ্ধোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার।
এসময় বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটসসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও সাধারণ জেলে সম্প্রদায় ও বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কচুরিপানা অপসারণের একাজে অংশ নেন। শহরের চরকমলাপুর থেকে শুরু করে আলীপুর ১০টি পয়েন্টে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত কুমার নদের কচুরিপানা অপসারনের কাজ প্রাম্ভে শুরু করা হয়। ফরিদপুরের নদী দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় কুমার নদের কচুরিপানা অপসারণে জেলা প্রশাসকের এউদ্যোগ শহরবাসীর মাঝে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান পিপিএম (সেবা) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার, ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক,সাধারণ সম্পাদক শাহ মোঃ ইশতিয়াক আরিফ,ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম কুমার সাহা, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ফরিদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বৃন্দ,বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাসিন এর নির্বাহী পরিচালক আসমা আক্তার মুক্তা। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইয়াছিন কবীরের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন শহরের প্রাণ হচ্ছে কুমার নদ। এনদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে নদীর দূষণরোধ ও নদীর দুই পাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন। ফরিদপুর শহরকে নান্দনিক সাজে সজ্জিত করার লক্ষ্যে কুমার নদ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা অপরিহার্য উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের আমলে ফরিদপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমার নদের কচুরিপানা অপসারণ করে মৎস্যচাষসহ নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে এ কাজের সূচনা হলেও এরপর নদীকে দখল ও দূষণ মুক্ত করা হবে। আমরা এ কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে চাই। যাতে কুমার নদ রক্ষায় সবার মাঝে একটি বার্তা পৌঁছে যায়। সবাই যাতে নিজ নিজ পাড়ের ময়লা অপসারণে আগ্রহী হন। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কচুরিপানা অপসারণের পর কুমার নদে যাতে কেউ ময়লা আবর্জনা না ফেলে সে জন্য প্রচার চালানো হবে। এরপর যারা নিষেধাজ্ঞা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর পাড়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে আমরা কিছু দখলদারকে উচ্ছেদ করেছি। অন্যদের বিরুদ্ধেও আমরা পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেব। কুমার নদের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো বাঁধ আমরা রাখব না।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) লিটন আলী, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক আহমেদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ, সহকারী কমিশনার (গোপনীয়) মো. বদরুজ্জামান রিশাদসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াছিন কবির জানান, শহরের আলিমুজ্জামান বড় ব্রিজ থেকে চরকমলাপুর ব্রিজ পর্যন্ত দশটি স্পটে নদীর উভয় পাড়ে এ কার্যক্রম চলবে। শনিবার তিনটি স্পট উদ্বোধনী আয়োজন। ফরিদপুরের সব সরকারি দপ্তর, জেলা পরিষদ, পৌরসভার প্রতিনিধিসহ শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রোভার স্কাউটস, গার্লস গাইড, রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিভিন্ন এলাকায় পৌর কাউন্সিলররা এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভাও করেন। প্রায় ১ হাজার জেলে ২০০ নৌকা নিয়ে কচুরিপানা সরানোর কাজে অংশ নেয় এবং জেলা প্রশান প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।
প্রসঙ্গত গত ১৪ জুন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী ফরিদপুরের জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমার নদের দখল ও দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্খননের পরেও কুমার নদে নাব্য না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কুমার নদ খননের বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

















