মহাসড়ক অবরোধ করে বিচার চাইল বেরোবি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ওপর দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। পৃথক দুই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতম জখম হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী পরাগ মাহমুদ। পরে শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আকাশপথে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়েছে।
 
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর বেলাল উদ্দীন বলেন, পরাগ মাহমুদের হাতে যে জখম হয়েছে তাতে ভাসকুলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রংপুরে তার সার্জারি করা সম্ভব নয়। এজন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সরদারপাড়ায় বন্ধুর ছাত্রাবাসে যাওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে তিনজন দুর্বৃত্তের হাতে চাপাতির আঘাতে জখমের শিকার হয় শিক্ষার্থী পরাগ মাহমুদ। এসময় তিনজনের একজন প্যান্টের ভেতর হতে একটি চাপাতি বের করে পরাগের ডান হাতে কোপ মেরে তার ফোন ও মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে চলে যায়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুব্রত ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানীকে অবহিত করলে প্রক্টরের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এছাড়া, একই দিন ভোর সাড়ে ৫টায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতম জখম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নগরীর আদর্শপাড়া থেকে সাইকেল চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সময় কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুলের সামনে দুজন ব্যক্তি মনিরুজ্জামানকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে। এরপর মোবাইল এবং পকেটে থাকা ৩ হাজার ১শ’ টাকা নিয়ে চলে যায়। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
পরাগের সহপাঠী লাবণি আক্তার বলেন, একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ওপর হামলা একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইজার আলী।

এর আগে গত ২০ আগস্ট মেসের তালা ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের সময় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা।
আরো পড়ুন :  গাইবান্ধার হরিনাবাড়ীতে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ