ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র Logo পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন Logo পানছড়িতে অবৈধ কাঠ আটক করেছে বিজিবি Logo পানছড়িতে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়, উপহার ও চিকিৎসা সেবা প্রদান Logo কিশোরগঞ্জে রওজা মনি হত্যার বিচার দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে রেজাউল করিম খান চুন্নুর সমর্থকদের গণমিছিল Logo পানছড়িতে শিক্ষার্থীর হাতে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের অনুদান তুলে দিলো স্বেচ্ছা সেবক দল Logo পানছড়িতে অসহায়, গরীব ও দুস্থের মাঝে ৩ বিজিবির মানবিক সহায়তা বিতরণ Logo সীমান্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রেস বিফ্রিং করেছে পানছড়ি বিজিবি Logo শেখ হাসিনার প্লট দুর্নীতির মামলায় রায় ঘোষণা আজ

ফুলবাড়িয়ায় সালিশে না আসায় পিতা-পূত্রকে কুপিয়ে হত্যা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / ১০৬৩ বার পড়া হয়েছে

ফুলবাড়িয়ায় সালিশে না আসায় পিতা-পূত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের নাওগাঁও দক্ষিণপাড়া গ্রামে সালিশকারীরা বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সালিশ থেকে গিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে নিজ ঘরে বাবা আব্দুল গফুর (৪০) ও ছেলে মেহেদী হাসানকে (১৫) কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যা করার পর রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে গিয়ে হারুন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি, দোকান ও একটি মাজার ভাঙচুর করা হয়।

বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। যারা গ্রামে আছেন তারাও ভয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হয়নি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও চুরি ঘটনায় গোষ্ঠীর পাশাপাশি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে গ্রামের মানুষ। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে গ্রামে সালিশ বসার কথা ছিল। দুপুরে গফুরের বাড়ি সংলগ্ন নাওগাঁও হোসেনীয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সামনে গ্রামের শতশত মানুষের সালিশ বসে।

সালিশে আব্দুল গফুর ও মেহিদী হাসান উপস্থিত না হয়ে নিজ ঘরে বসে থাকে। এদের খোঁজে সালিশের লোকজন বাড়িতে গেলে ঘর থেকে বের হয়ে আসে আব্দুল গফুর। এসময় সালিশে উপস্থিত বিক্ষুব্দ লোকজন দা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গফুর ও তার ছেলে মেহেদী হাসানকে হত্যা করে। বাবা-ছেলেকে হত্যা করার পর শত শত মানুষ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে গিয়ে হারুন অর রশিদ নামের একজনের বাসা, দোকান ঘর ও একটি মাজার ভাঙচুর করে।

নিহত আব্দুল গফুরের স্ত্রী শিল্পি আক্তার বলেন, স্থানীয় হাবিবুর রহমানসহ শতশত মানুষ সালিশের নামে আমার স্বামী ও ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। যত অপরাধই করে থাকুক দেশে আইন আছে, আইনের মাধ্যমে বিচার হতো। বাবা-ছেলেকে কেন নির্মমভাবে হত্যা করল।

বাবা ছেলে নিহত হওয়ার পর পরই সালিশকারীরা গা ঢাকা দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশ বসেছিল। সালিশ থেকে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগস :

ফুলবাড়িয়ায় সালিশে না আসায় পিতা-পূত্রকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০৯:১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৫

ফুলবাড়িয়ায় সালিশে না আসায় পিতা-পূত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের নাওগাঁও দক্ষিণপাড়া গ্রামে সালিশকারীরা বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সালিশ থেকে গিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে নিজ ঘরে বাবা আব্দুল গফুর (৪০) ও ছেলে মেহেদী হাসানকে (১৫) কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যা করার পর রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে গিয়ে হারুন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি, দোকান ও একটি মাজার ভাঙচুর করা হয়।

বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। যারা গ্রামে আছেন তারাও ভয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হয়নি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও চুরি ঘটনায় গোষ্ঠীর পাশাপাশি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে গ্রামের মানুষ। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে গ্রামে সালিশ বসার কথা ছিল। দুপুরে গফুরের বাড়ি সংলগ্ন নাওগাঁও হোসেনীয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সামনে গ্রামের শতশত মানুষের সালিশ বসে।

সালিশে আব্দুল গফুর ও মেহিদী হাসান উপস্থিত না হয়ে নিজ ঘরে বসে থাকে। এদের খোঁজে সালিশের লোকজন বাড়িতে গেলে ঘর থেকে বের হয়ে আসে আব্দুল গফুর। এসময় সালিশে উপস্থিত বিক্ষুব্দ লোকজন দা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গফুর ও তার ছেলে মেহেদী হাসানকে হত্যা করে। বাবা-ছেলেকে হত্যা করার পর শত শত মানুষ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে গিয়ে হারুন অর রশিদ নামের একজনের বাসা, দোকান ঘর ও একটি মাজার ভাঙচুর করে।

নিহত আব্দুল গফুরের স্ত্রী শিল্পি আক্তার বলেন, স্থানীয় হাবিবুর রহমানসহ শতশত মানুষ সালিশের নামে আমার স্বামী ও ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। যত অপরাধই করে থাকুক দেশে আইন আছে, আইনের মাধ্যমে বিচার হতো। বাবা-ছেলেকে কেন নির্মমভাবে হত্যা করল।

বাবা ছেলে নিহত হওয়ার পর পরই সালিশকারীরা গা ঢাকা দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশ বসেছিল। সালিশ থেকে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।