বাগেরহাটের চিতলমারীর চিতল মাছ আজ বিলুপ্তির পথে

74

বাগেরহাটের চিতলমারীর চিতল মাছ আজ বিলুপ্তির পথে

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ চিতল মাছের বহুল পরিচিত আধিক্য ও সহজলভ্যতায় জায়গাটির নাম হয়ে ওঠে চিতলমারী।হযরত খাজা খানজাহান আলীর পূন্যভুমি বাগেরহাট জেলার একটি উপজেলা এটি।আয়তন ১৯২ বর্গকিলোমিটার ২০১১ সালের আদমসুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮১০ জন। মৎস্যাকূলের মধ্যে চিতল অত্যান্ত একটি সুস্বাদু মাছ। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় চিতল মাছের পেটি একটি লোভনিয় খাবার বটে।মাছটির দেহ লম্বা চ্যাপ্টা।পিঠের অগ্রভাগ দৃড়ভাবে কুঁজো,পেটটা বেশ চর্বিযুক্ত ভাব নরম।এ মাছের মুখ বড় আর পিঠের পাখনা হলুদাভ ধুসর বর্ণের। এর ওজন সর্বোচ্চ ১০ কেজি হয়ে থাকে।বিভিন্ন এলাকায় প্রকৃতিগত ভাবে পাওয়া গেলেও এখন বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। চিতল মাছের পোনা বানিজ্যিক ভাবে হ্যাচারিতে দেশ বিদেশে ব্যপক উৎপাদন হচ্ছে।এ মাছ সাধারণত এপ্রিলের শেষ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত অমাবশ্যা বা পূর্ণিমার রাতে ডিম দিয়ে থাকে।ডিম ফুটে বাচ্চা হতে প্রায় ১২ দিন সময় নেয়। এই চিতল মাছের নামে বাংলাদেশে একটি জনপদের নামকরন রয়েছে যেটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত ।বর্তমানে এটি উপজেরা শহর।ব্যপক জনশ্রুতি আছে যে,চিতলমারী উপজেলার মধুমতী,চিত্রা ও বলেশ্বর এই তিনটি নদীর সঙগমস্থলে অবস্থিত।এক সময় এ স্থানটি চিতলমাছের জন্যে বিখ্যাত ছিল।

জেলেরা এক সময় উক্ত স্থানটির জলাশয় থেকে প্রচুর চিতল মাছ ধরত।যে কারনে এই তিন মোহনা সংগমস্থলের তীরবর্তী জনপদকে স্থানীয় জনসাধারণ চিতলমারী নাম দেয় যা পরবর্তীতে সে নামেই রয়ে গেছে।এও জনশ্রুতি আছে ব্রিটিশ আমলে চিত্রা,মধুমতি এবং বলেশ্বরে মোহনা দিয়ে প্রচুর ভেপু বাজিয়ে সাইরেন দিয়ে ছুটে যেত যাত্রীবাহী লঞ্চ।তখন নদীতে অনেক স্রোতও ছিল।তখনকার দিনে হঠাৎ ঝড়ে একটি লঞ্চ তলিয়ে যাবার ঘটনা ঘটে।তখন ডুবন্ত জাহাজের মধ্যে সন্ধান মেলে অগনিত চিতল মাছের। এত পরিমান চিতল মাছ সেখানে উৎপাদিত হয় যে মানুষ ধরে শেষ করতে পারেনা।উক্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় তখন থেকে যুক্ত হয় চিতল মাছ আর ঝোল।তখন ওই স্থাননি চিতল মাছ মারার ও আহরনের জায়গা হিসেবে বেছে নেয় এবং ওই জায়গাটি চিহ্নিত করতে চিতলমারী নাম দেয় আজ যেটি চিতল মারি উপজেলা নামে ব্যপক পরিচিত।

বর্তামানে বাগেরহাট জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা চিতলমারী। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এখানকার ঐতিয্যবাহী চিতল মাছের উৎপাদন কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় দাড়িয়েছে।এখন আর চিতল মারিতে ধরা পড়েনা সেই রূপালী চিতল।চিতলমারী উপজেলার উত্তরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা দক্ষিণে কচুয়া ও বাগেরহাট সদর উপজেলা।পূর্বে নাজিরপুর উপজেলা পশ্চিমে মোল্লাহাট,ফকিরহাট ও বাগেরহাট সদর উপজেলা। মহান ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা একত্রিত হয়ে চিতলমারীর খালিশাখালী ও বাবুগঞ্জ বাজারে হিন্দুদের ওপর ব্যপক নিপিড়ন চালায়।তাদের বাড়ি ঘর লুটপাট করে তা জ্বালিয়ে দেয় ।এছাড়াও শত শত লোককে হত্যা করে।চিতলমারীতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সন্তোপুরে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ।

চিতলমারিতে থানা স্থাপিত হয় ১৯৮১ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর।এ উপজেলার উল্লেযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে কলাতলা, চর বানিয়ারী,বড়বাড়িয়া,শিবপুর,সন্তোষপুর ও হিজলা।চিতল মারির কিছু ঐতিহসিক ঘটনার মধ্যে রয়েছে হিজলা ইউনিয়নের নীলকুঠিতে ব্রিটিশ আমলে তৎকালিন নীল বিদ্রহীদের বুকে পাথর চাপা দিয়ে শাশ্তি দিত।এখানকার একটি প্রাচীনতম প্রত্নতত্ব নিদর্শন চর বানিয়ারীর দুর্গাপুর শিবমঠ।