বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ ৫ প্রার্থী
- আপডেট সময় : ০৩:০৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুলাই ২০২৩
- / ১০৫৭ বার পড়া হয়েছে
মানিকছড়ির যোগ্যাছোলা ইউপি নির্বাচন,
নিষ্প্রাণ ভোটের মাঠ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ ৫ প্রার্থী।
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
চলতি মাসের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ৩নম্বর যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ও উঠোন বৈঠক। তবে তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা কার্যক্রম পর্যন্ত নির্বাচনী হৈইচৈই কিংবা আলোচনা- সমালোচনা থাকলেও সম্প্রতি লক্ষ্য করা যায় ভোটের মাঠ প্রায় নিষ্প্রাণ। সংশ্লিষ্টরা এর কারণ হিসেবে দেখেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত দুই নারী সদস্য ও দুই সাধারণ সদস্যসহ ৫ জনের নির্বাচিত হওয়াকে। ফলে ৯ ওয়ার্ডের মধ্যে শুধুমাত্র ৩টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে এবং ৭টি ওয়ার্ডের জন্য সাধারণ সদস্য পদে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
গত ৩১ মে যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী (১৮ জুন) প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এতে আওয়ামী লীগ সমর্থীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মো. আবদুল মতিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. আমির হোসেন ও মো. আলমগীর হোসেন চৌধুরী নিজ নিজ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ১৯ জুন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে তাদের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। ২৫ জুন প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন।
ফলে যোগ্যাছোলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল মতিন। এদিকে ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শাহিনা আক্তার ও ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জেসমিন আক্তার এককপ্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। এছাড়াও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোঃ ইউনুছ মিয়া এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোঃ জসিম উদ্দিন একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হবেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ফলে নারী আসনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দুইজন এবং ৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্যে পদে ১৬ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেমেছে।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেম্বার পদপ্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঘুরছেন ভোটারদের ধারে ধারে। কিছু কিছু এলাকায় উঠোন বৈঠক ও নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালালেও অধিকাংশ এলাকায়ই শুনশান নীরবতা এবং নিষ্প্রাণ নির্বাচনী আমেজ। জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে ঝুলছে শুধুমাত্র সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার।
ভোটাররা বলছেন, একদিকে চেয়ারম্যান পদ এবং অন্যদিকে ৬টি ওয়ার্ডের দুই আসনে নারী সদস্যসহ ৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হওয়ায় ব্যানার-পোস্টার, প্রচার-প্রচারণা কিংবা উঠান বৈঠক করতে হচ্ছেনা। আর যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারাও প্রতিটি ওয়ার্ডে ২-৩ জন প্রার্থী রয়েছে। তাই প্রচার প্রচারণাও সীমিত। যার ফলে অন্যান্য যেকোন নির্বাচনের চেয়ে এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আমেজ খুব একটা চোখে পড়ার মতো নয়।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোঃ আবদুল মতিন বলেন, যেহেতু আমি একক প্রার্থী, সেহেতু এ পদে (চেয়ারম্যান) ভোটগ্রহণ হবে না। যার কারণে প্রচার প্রচারণাও বন্ধ। তারপরও আমি ভোটারদের কাছে যাচ্ছি, তাদের খোঁজ-খবর রাখছি। তবে ভোট গ্রহনের দিন ঘনিয়ে এলে নির্বাচনী আমেজ বাড়তে পাড়ে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ শওকত আলী চৌধুরী জানান, চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী ও সাধারণ সদস্যসহ মোট ৫জন এককপ্রার্থী রয়েছেন। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। আগামি ১৭ জুলাই ভোটগ্রহণ অনুঠিত হবে। ইউনিয়নে (ভোটার হালনাগাদ ব্যতিত) মোট ভোটার ১১ হাজার ২শ ৫৪ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৬শ ৬৩জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৫শ ৯১জন।















