ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুড়িগঙ্গা চ্যানেল সংস্কার করলে দূর হবে জলাবদ্ধতা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০২৩
  • / ১০৬১ বার পড়া হয়েছে

বুড়িগঙ্গা চ্যানেল সংস্কার করলে দূর হবে জলাবদ্ধতা

 

জিয়া হাসান আকাশ/ঢাকা দক্ষিন প্রতিনিধিঃ

 

লালবাগের ইসলামবাগ কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগ এলাকার মধ্যে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অবস্থান। কয়েক বছর আগেও বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের এমন অবস্থা ছিল যে ময়লা আর আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হয়েছিলো। শুস্ক মৌসুমে মানুষ পায়ে হেঁটেই পার হতে পারতো, এমনকি ভরা বর্ষাতেও পানি প্রবাহের কোনো অস্থিত ছিলো না।

 

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কামরাঙ্গীরচরের কুঁড়ারঘাট ৩১ শয্যা মেডিকেল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে মোতাবেক চ্যানেলটি উদ্ধারের পরিকল্পনা হাতে নেয় ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাবেক মেয়র ড্রোন দিয়ে এই চ্যানেলের ভিডিও চিত্র তৈরি করে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত করেন। তবে কাজের কাজ হয়নি। পরে বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পর চ্যানেল পুনরুদ্ধার ও সচল করতে নতুন করে কার্যক্রম হাতে নেন।

 

তবে চ্যানেল পরিষ্কার করার কার্যক্রম শুরুর আগে এটি দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানে বহুতল কয়েকটি ভবনের একাংশ অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিল দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। ফলাফল হিসেবে গত এক বছরে চ্যানেলটির চেহারা অনেকটা বদলেছে। এটি যে বুড়িগঙ্গা নদীর একটা শাখা, তা স্পষ্ট।

 

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এর একসময় প্রায় মৃত হয়ে পড়া চ্যানেলটিকে হাতিরঝিলের আদলে দৃষ্টিনন্দন করে সাজাতে চায় বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সে লক্ষ্য ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। আদি চেহারায় ফিরতে থাকা চ্যানেলটিকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। ইতিমধ্যে সেখান থেকে বর্জ্য ও পলি অপসারণ করা হয়েছে। যদিও এটি চলাচলের উপযোগী হয়নি।

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আবু নাছের বলেন, নদীর দুই পাশ দিয়ে হাঁটা, সাইকেল চালানো গণপরিসরের ব্যবস্থা করে সেখানে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যাতে ঢাকাবাসীর পাশাপাশি পর্যটকেরা স্থানটি পরিদর্শন করতে আসেন। আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের সীমানা প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলটি সচল করা গেলে লালবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

বুড়িগঙ্গা চ্যানেল সংস্কার করলে দূর হবে জলাবদ্ধতা

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০২৩

বুড়িগঙ্গা চ্যানেল সংস্কার করলে দূর হবে জলাবদ্ধতা

 

জিয়া হাসান আকাশ/ঢাকা দক্ষিন প্রতিনিধিঃ

 

লালবাগের ইসলামবাগ কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগ এলাকার মধ্যে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অবস্থান। কয়েক বছর আগেও বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের এমন অবস্থা ছিল যে ময়লা আর আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হয়েছিলো। শুস্ক মৌসুমে মানুষ পায়ে হেঁটেই পার হতে পারতো, এমনকি ভরা বর্ষাতেও পানি প্রবাহের কোনো অস্থিত ছিলো না।

 

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কামরাঙ্গীরচরের কুঁড়ারঘাট ৩১ শয্যা মেডিকেল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে মোতাবেক চ্যানেলটি উদ্ধারের পরিকল্পনা হাতে নেয় ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাবেক মেয়র ড্রোন দিয়ে এই চ্যানেলের ভিডিও চিত্র তৈরি করে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত করেন। তবে কাজের কাজ হয়নি। পরে বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পর চ্যানেল পুনরুদ্ধার ও সচল করতে নতুন করে কার্যক্রম হাতে নেন।

 

তবে চ্যানেল পরিষ্কার করার কার্যক্রম শুরুর আগে এটি দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানে বহুতল কয়েকটি ভবনের একাংশ অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিল দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। ফলাফল হিসেবে গত এক বছরে চ্যানেলটির চেহারা অনেকটা বদলেছে। এটি যে বুড়িগঙ্গা নদীর একটা শাখা, তা স্পষ্ট।

 

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এর একসময় প্রায় মৃত হয়ে পড়া চ্যানেলটিকে হাতিরঝিলের আদলে দৃষ্টিনন্দন করে সাজাতে চায় বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সে লক্ষ্য ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। আদি চেহারায় ফিরতে থাকা চ্যানেলটিকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। ইতিমধ্যে সেখান থেকে বর্জ্য ও পলি অপসারণ করা হয়েছে। যদিও এটি চলাচলের উপযোগী হয়নি।

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আবু নাছের বলেন, নদীর দুই পাশ দিয়ে হাঁটা, সাইকেল চালানো গণপরিসরের ব্যবস্থা করে সেখানে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যাতে ঢাকাবাসীর পাশাপাশি পর্যটকেরা স্থানটি পরিদর্শন করতে আসেন। আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের সীমানা প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলটি সচল করা গেলে লালবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।