ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার খবর নেয় না কেউ!

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / ১০১৯ বার পড়া হয়েছে

ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার খবর নেয় না কেউ!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাবেক মন্ত্রী, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ও বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ১৯৪৩ সালে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এসএসসি পাশ করেন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লিঙ্কনস ইন থেকে সফলভাবে ‘বার-অ্যাট-ল’ (ব্যারিস্টারি) আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করলে রফিকুল ইসলাম মিয়া শুরুতেই দলটিতে যোগ দেন। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই জিয়াউর রহমানের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট আইনজীবী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সরকার গঠন করলে রফিকুল ইসলাম মিয়াকে প্রথমে শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি পুনরায় সাংসদ হন এবং স্বল্পমেয়াদী সরকারে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক পদের পাশাপাশি তিনি বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন এবং ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াই লড়েছিলেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলন ও অন্যান্য অভিযোগে অসুস্থ এই সাধাসিধে দুর্নীতিমুক্ত নেতার বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা ছিল। সম্পদের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় ২০১৮ সালে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

গণ-অভ্যুত্থানের আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয়েছে। সেনা বাহীনি হাসিনাকে প্রতিবেশি রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিয়েছে। দলের নেতা বিদেশ থেকে দেশে এসে জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রীও হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু তার ও তার দলের সিনিয়র নেতাদের সময় হয়নি তাদের নির্যাতিত কলিগকে দেখার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ও শয্যাশয়ী। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতি ও জনসমক্ষে নিষ্ক্রিয়। শাররীক অবস্থার অবনতি হলে অতীতে তাকে রাজধানীর ইবনে সিনাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ও লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়েছিল।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার খবর নেয় না কেউ!

আপডেট সময় : ০১:১৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার খবর নেয় না কেউ!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাবেক মন্ত্রী, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ও বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ১৯৪৩ সালে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এসএসসি পাশ করেন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লিঙ্কনস ইন থেকে সফলভাবে ‘বার-অ্যাট-ল’ (ব্যারিস্টারি) আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করলে রফিকুল ইসলাম মিয়া শুরুতেই দলটিতে যোগ দেন। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই জিয়াউর রহমানের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট আইনজীবী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সরকার গঠন করলে রফিকুল ইসলাম মিয়াকে প্রথমে শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি পুনরায় সাংসদ হন এবং স্বল্পমেয়াদী সরকারে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক পদের পাশাপাশি তিনি বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন এবং ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াই লড়েছিলেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলন ও অন্যান্য অভিযোগে অসুস্থ এই সাধাসিধে দুর্নীতিমুক্ত নেতার বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা ছিল। সম্পদের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় ২০১৮ সালে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

গণ-অভ্যুত্থানের আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয়েছে। সেনা বাহীনি হাসিনাকে প্রতিবেশি রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিয়েছে। দলের নেতা বিদেশ থেকে দেশে এসে জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রীও হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু তার ও তার দলের সিনিয়র নেতাদের সময় হয়নি তাদের নির্যাতিত কলিগকে দেখার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ও শয্যাশয়ী। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতি ও জনসমক্ষে নিষ্ক্রিয়। শাররীক অবস্থার অবনতি হলে অতীতে তাকে রাজধানীর ইবনে সিনাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ও লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়েছিল।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ