ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ: নিহত-২

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / ১০৪০ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ: নিহত-২

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকেন তিনি।

পরে কারাগার থেকে বের হয়ে জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

এরপর গত ১৭ মার্চ সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এরই শোধ নিতে কয়েকদিন প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ফের বড় গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, কাছাকাছি সময়ে সংঘর্ষে আক্তার মিয়া নামেও একজন নিহত হন। এছাড়াও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নাসিরনগর উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে সকালে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুজন মারা গেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ: নিহত-২

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ: নিহত-২

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকেন তিনি।

পরে কারাগার থেকে বের হয়ে জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

এরপর গত ১৭ মার্চ সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এরই শোধ নিতে কয়েকদিন প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ফের বড় গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, কাছাকাছি সময়ে সংঘর্ষে আক্তার মিয়া নামেও একজন নিহত হন। এছাড়াও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নাসিরনগর উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে সকালে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুজন মারা গেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ