ভুলে ভরা ঐতিহাসিক দীঘির দীঘিনালা
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২
- / ১০৮০ বার পড়া হয়েছে
ভুলে ভরা ঐতিহাসিক দীঘির দীঘিনালা
দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধিঃ
লেখার ক্ষেত্রে ভুলে ভরা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বৃহত্তম একটি থানার নাম। যার নামকরণ করা হয়েছিলো তৎকালীন ত্রিপুরা মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্যের নিদের্শে খননকৃত ঐতিহাসিক “দীঘি” থেকে।
যদিও নামের ক্ষেত্রে নিয়ে সমস্যা নেই তবুও “দীঘি” বানানের ক্ষেত্রে প্রশ্ন রয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, যেহেতু খননকৃত “দীঘি” থেকেই এ থানার নামকরণ সেহেতু দীঘির ক্ষেত্রে-দীঘিনালা বানানটিই এককভাবে হওয়ার কথা।
খননকৃত দীঘির নামানুসারেই ১৯১৬ সালে দীঘিনালা থানা
গঠিত হয়। এর পরেই ১৯৮৪ সালে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। যার আয়তন ৬৯৪.১২ বর্গ কিঃ মিঃ। অবস্থান মাইনি নদীর তীরে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিঃ মিঃ উত্তরে এ ঐতিহাসিক “দীঘির” অবস্থান।
কিন্তু বর্তমানে দেখা গেছে এ থানা ও উপজেলার নাম লেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বানান নেই৷ লেখার ক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে সরকারি, বেসরকারি, ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই একাধিক বানানে লেখা হচ্ছে এ থানা ও উপজেলার নাম। কোথাও লেখা হচ্ছে, দীঘিনালা, দিঘিনালা, আবার কোথাও দিঘীনালা। এমনকি এ থানা ও উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের জাতীয় পরিচয় পত্রেও একাধিক বানানে লেখা আছে দিঘীনালা/দিঘিনালা। নামকরণ এবং নামের লেখা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনটি হবে সঠিক বানান এখানে হিমসিম খেতে হচ্ছে অনেকের।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৬৬০ খ্রিঃ তৎকালীন ত্রিপুরাদের ১৮৪ তম মহারাজা ছিলেন রাজর্ষি খেতাবপ্রাপ্ত গোবিন্দ মাণিক্য। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে তিনি সেচ্ছায় তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের রিয়াংদেশে নির্বাসনে চলে আসেন। যার বর্তমান পরিচিত নাম, মাইনি নদীর তীরে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা।
গোবিন্দ মাণিক্য রিয়াংদেশে এসে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে সপে দেন। পরবর্তীতে মহারাজা তার আনুগত্যের নিদর্শন প্রকাশের জন্য রিয়াংবাসীকে “দীঘি” খনন করতে নির্দেশ দেন। তখন মহারাজার নির্দেশে ১২ টি “দীঘি” খনন করা হয়। যার মধ্যে অন্যতম দীঘিটিই হচ্ছে ঐতিহাসিক দীঘিনালার “দীঘি”। মহারাজার নির্দেশে খননকৃত এ দীঘিকে কেন্দ্র করেই এ থানার নামকরণ করা হয় “দীঘিনালা”।
[irp]


























