ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo জ্বালানি ব্যয় মেটাতে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার Logo এক জাহাজ থেকেই ২০ লাখ ডলার টোল আদায় করলো ইরান Logo বঙ্গভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি Logo জীবিত ছেলেকে মৃত দেখিয়ে মামলা: শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি Logo ইউনূসের মতো অযোগ্য ও বাটপার শাসক হাজার বছরেও আসেনি-আনিস আলমগীর Logo নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ চায় আওয়ামী লীগ Logo আরব মিত্রদের কাছে ২৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের Logo বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের আভাস Logo পারমাণবিক হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে জরুরি সরঞ্জাম বিতরণ Logo যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী

যুবরাজ শেখ নওয়াফ কুয়েতে নতুন আমির হিসেবে শপথ নিলেন

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • / ১১২৩ বার পড়া হয়েছে

আধুনিক কুয়েতের স্থপতি হিসেবে পরিচিত আমির শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-সাবাহর মৃত্যুর পর দেশটির যুবরাজ শেখ নওয়াফ আল-আহমদ আল-সাবাহ নতুন আমির হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বুধবার তিনি দেশটির পার্লামেন্টে নতুন আমির শপথগ্রহণ করেছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মঙ্গলবার দেশটির আমির শেখ সাবাহ (৯১) যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কুয়েতের এই আমির নানামুখী সঙ্কটে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন অন্যতম মধ্যস্থতাকারী। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর টানাপড়েন ও সংঘাতে মধ্যস্থতায় প্রায়ই এগিয়ে আসতেন তিনি।

শেখ সাবাহ যুক্তরাষ্ট্রে মারা যাওয়ার পরপরই মার্কিন অন্যতম মিত্র ও ওপেকের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী কুয়েতের মন্ত্রিসভা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরসূরী হিসেবে যুবরাজ প্রিন্স শেখ নওয়াফ আল-আহমদ আল-সাবাহকে নতুন আমির হিসেবে মনোনীত করে।

গত জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন শেখ সাবাহ। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার মরদেহ দেশে আসার কথা রয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কুয়েতের প্রয়াত এই আমিরের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০০৬ সালে দেশটির আমির শেখ জাবের আল-আহম আল-সাবাহ মারা যাওয়ার পর হাজার হাজার কুয়েতি ও প্রবাসী তার শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার সেই সুযোগ থাকছে না।

কুয়েতের এই আমিরের মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও রাজনীতির রক্ষক এবং মানবিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে মনে করা হতো শেখ সাবাহকে।

সর্বশেষ কাতারের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দেশেটির কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ও উত্তেজনা প্রশমনে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেলেও কাতারের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সেসব দেশের টানাপড়েনের অবসান ঘটেনি। সাবেক দখলদার ইরাকের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ওমানের সুলতান কাবুসের পর কুয়েতের আমির শেখ সাবাহর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে সংযমী ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখার একটি যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত-সহ অন্যান্য দেশে এখন আগ্রাসী তরুণ প্রজন্মের উত্থান ঘটবে; যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রচণ্ড। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী কঠোর মনোভাব রয়েছে তরুণ এই প্রজন্মের।

যুবরাজ শেখ নওয়াফ কুয়েতে নতুন আমির হিসেবে শপথ নিলেন

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

আধুনিক কুয়েতের স্থপতি হিসেবে পরিচিত আমির শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-সাবাহর মৃত্যুর পর দেশটির যুবরাজ শেখ নওয়াফ আল-আহমদ আল-সাবাহ নতুন আমির হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বুধবার তিনি দেশটির পার্লামেন্টে নতুন আমির শপথগ্রহণ করেছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মঙ্গলবার দেশটির আমির শেখ সাবাহ (৯১) যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কুয়েতের এই আমির নানামুখী সঙ্কটে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন অন্যতম মধ্যস্থতাকারী। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর টানাপড়েন ও সংঘাতে মধ্যস্থতায় প্রায়ই এগিয়ে আসতেন তিনি।

শেখ সাবাহ যুক্তরাষ্ট্রে মারা যাওয়ার পরপরই মার্কিন অন্যতম মিত্র ও ওপেকের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী কুয়েতের মন্ত্রিসভা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরসূরী হিসেবে যুবরাজ প্রিন্স শেখ নওয়াফ আল-আহমদ আল-সাবাহকে নতুন আমির হিসেবে মনোনীত করে।

গত জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন শেখ সাবাহ। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার মরদেহ দেশে আসার কথা রয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কুয়েতের প্রয়াত এই আমিরের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০০৬ সালে দেশটির আমির শেখ জাবের আল-আহম আল-সাবাহ মারা যাওয়ার পর হাজার হাজার কুয়েতি ও প্রবাসী তার শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার সেই সুযোগ থাকছে না।

কুয়েতের এই আমিরের মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও রাজনীতির রক্ষক এবং মানবিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে মনে করা হতো শেখ সাবাহকে।

সর্বশেষ কাতারের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দেশেটির কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ও উত্তেজনা প্রশমনে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেলেও কাতারের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সেসব দেশের টানাপড়েনের অবসান ঘটেনি। সাবেক দখলদার ইরাকের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ওমানের সুলতান কাবুসের পর কুয়েতের আমির শেখ সাবাহর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে সংযমী ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখার একটি যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত-সহ অন্যান্য দেশে এখন আগ্রাসী তরুণ প্রজন্মের উত্থান ঘটবে; যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রচণ্ড। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী কঠোর মনোভাব রয়েছে তরুণ এই প্রজন্মের।