রাজপথে ফিরছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ!
- আপডেট সময় : ০৪:১৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / ১০১৩ বার পড়া হয়েছে
রাজপথে ফিরছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ!
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গত কয়েক মাসে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে সাবেক নেতাদের ছোট ছোট বৈঠক, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং সামাজিক মাধ্যমে তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি দেশবাসী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠনের পর পরই দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আওয়ামী লীগের অফিস খুলেছে।
কিছু সূত্র বলছে, দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা আসেনি।
এদিকে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের শরিকদের একটি অংশ মনে করছে দেশে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি বৃহৎ দল। তাই রাজনীতি করার অধিকার তাদের আছে। তাই অনেক স্তরেই এখনও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সক্রিয় রয়েছেন।
তাদের মতে, এসব কারণে দলটির কার্যক্রম নিয়ে নীরব প্রক্রিয়া চলতে পারে। এর সাথে বিদেশি কূটনীতিকদেরও তৎপরতা অনেকটাই দৃশ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বাংলাদেশ সফরে আসেন গত ৩ মার্চ।
তিন দিনের সেই সফরে দিল্লি ঘুরে ঢাকা এসেছিলেন পল কাপুর, পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নবগঠিত এনসিপির সাথে বৈঠকের কথা থাকলেও বৈঠক করেনি পল ক্পুর।
নির্বাচন পরবর্তী ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের মনোভাবের প্রসঙ্গ বাংলাদেশের আলোচনায় এসেছে কি না, তা জানায়নি কোন পক্ষ।
দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গঠনমূলক থাকুক, এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা। ওয়াশিংটনের এই বার্তা পল কাপুর দুই দেশেই দিয়ে গেছেন। এর নেপথ্যেও রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় দলগুলোর পুরোপুরি বিলুপ্তি সাধারণত দেখা যায় না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলগুলো নতুন নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করে। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্নে ওয়াশিংটন ঢাকার সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
তবে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র- কোনো দেশই প্রকাশ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। বরং তারা সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। এ কারণেই অনেক সময় তাদের বক্তব্য বা কূটনৈতিক যোগাযোগকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে।
অনেকেই মনে করেন, ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ-সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারিত হবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বাস্তবতা কতটা এবং কোন পথে তা এগোবে।
নির্বাচনের আগে ঢাকায় অবস্থানরত কয়েকটি পশ্চিমা দেশের কূটনীতিক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ‘ইনক্লুসিভ পলিটিক্স’ বা সব দলের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আকার-ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাতে স্বীকৃতি দিবে না।
বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিক ঘুরে ফিরে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথেই হাঁটছিলেন। নির্বাচনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয়েছে। মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে গেছে এবং নির্ভয়ে ভোট দিয়েছে। এর নেপথ্যেও রয়েছে আওয়ামী লীগ।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এ এস এম আমানউল্লাহ বলেন, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে দায় কেউ নিবে বলে আমার মনে হয় না। ভূ-রাজনৈতিক কারণে এবং বাস্তবতা মিলে এটা খুবই কঠিন কাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিত কারণে আমাদের দেশটার অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পশ্চিমারা চাইবে না বাংলাদেশের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দূরত্ব থাকুক।
তিনি বলেন, ভারতের সাথে আমাদের ঐতিহাসিকভাবেই একটা সুসম্পর্ক অনেক দিনের। তারা পলাতক হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে যে ভুল করেছে সেটা তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। এখন তারা স্বাভাবিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক।
উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, জ্বালানী সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত কিন্তু বাংলাদেশকে জ্বালানী তেল দিচ্ছে। এ থেকেই প্রমানিত হয়, ভারত বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে চায় বা চাচ্ছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















