লুটের অস্ত্র বিক্রি হয়েছে সন্ত্রাসীদের কাছে
- আপডেট সময় : ১১:১৩:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০০১ বার পড়া হয়েছে
লুটের অস্ত্র বিক্রি হয়েছে সন্ত্রাসীদের কাছে
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থানা থেকে লুটের বেশিরভাগ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হলেও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো বেহাতই রয়ে গেছে। এসব আগ্নেয়াস্ত্র এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, শুরুর দিকে সরকারের আহ্বান ও পুরস্কার ঘোষণার পর থানা-ফাঁড়ি ও পুলিশের স্থাপনা থেকে লুট ও খোয়া যাওয়া অস্ত্র-গুলির বেশিরভাগই জমা পড়েছে। উত্তেজিত সাধারণ মানুষের অনেকে সেদিন নানা কারণে এসব অস্ত্র-গুলি নিলেও তারা জমা দিয়েছেন বা ফেলে দিয়েছেন। এসব অস্ত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারও হয়েছে। তবে যেগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি, সেগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান চলার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে গলাকাটা মোবারক যে পিস্তলটি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছিল, সেটি থানা থেকে বেহাত হওয়া পুলিশেরই আগ্নেয়াস্ত্র। যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, লুণ্ঠিত এসব অস্ত্র-গুলি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কায় এগুলো উদ্ধারে নতুন করে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থাকে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট কাজ করছে। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন পুলিশের ৪৬০টি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছিল। এর মধ্যে ১১৪টি থানায় ভাঙচুর ও ৫৬ থানায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ওই সময় পুলিশের বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ২৪টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা থেকে বিভিন্ন ধরনের ৫ হাজার ৭৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৫২ হাজার গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হয়। এসব আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ২০২৪ সালের এপ্রিলে বান্দরবানে ব্যাংক থেকে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, লুট হওয়া এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে চলতি বছরের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৪শ ৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮শ ৯৫টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনো উদ্ধার না হওয়া ১ হাজার ৩শ ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ লাখ ৫৭ হাজার ১শ ১৩টি গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
আস্থা/এমএইচ








