ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬

সাদা ফুলে ফুলে ভরে গেছে সাজনা গাছ

Md Elias
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • / ১০৮৩ বার পড়া হয়েছে

সাদা ফুলে ফুলে ভরে গেছে সাজনা গাছ

এম ওসমান শার্শা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

সাদা ফুলে ফুলে ভরে গেছে সাজনার গাছ। থোকায় থোকায় ঝুলছে ফুল। ফুলের পরিমাণ এতোটাই যে গাছের পাতা পর্যন্ত দেখা যায় না বললেই চলে। ফুলের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

শার্শা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এ সজিনা বাহিরের জেলায় সরবরাহ করার কথা ভাবছেন চাষিরা। রোগ বালাই কম হওয়ায় এখন বাণিজ্যিক ভাবেও চাষ করা হচ্ছে সাজনা।

এক সময় বাড়ির আশপাশের উঠানে সাজনার গাছ লাগানো হতো। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং সময়ের পরিক্রমায় কৃষকরা এখন ফসলি জমিতে অনেকে সাজনার চাষ করছে। পরিকল্পিত ভাবে সাজনার চাষ করে লাভবান হচ্ছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় সাজনা। মৌসুমের শুরুতে সাজনা প্রতি কেজি ১০০/১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শেষ সময়ে দাম কমে দাঁড়ায় প্রতি কেজি ৪০/৫০ টাকা।

ফাল্গুনের শেষ ও চৈত্রের শুরুতে সাজনার ডাটা খাওয়ার উপযোগী হয়। সাধারণত শাখা কেটে রোপণ করার মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার হয়। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছ থেকে সাজনা সংগ্রহ করা যায়। ডাটার পাশাপাশি ফুল, পাতাও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সবজি হিসেবে এটি যেমন উপাদেয়, তেমনি এর ভেষজ গুণাবলী অসাধারণ। নানা রোগব্যাধি নিরাময়, রোগ প্রতিরোধ ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাজনা অত্যন্ত কার্যকর।

শার্শা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (মন্টু) বলেন, জমির পাশে রাস্তার ধারে কয়েকটি সাজনা গাছ লাগিয়েছি। বাড়িতে খাবার পর অতিরিক্ত সাজনা বাজারে বিক্রি করা হয়। রোগ বালাই কম। খরচ তেমন না হলেও দাম ভাল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছে প্রায় এক থেকে দেড় মণ সাজনা হয়।

মাটিপুকুর গ্রামের আফছার আলী বলেন, সাজনা এখন জমির আইলে ও আবাদি জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে লাগানো হচ্ছে। গাছে ফুল আসার পর এবং সাজনা ধরার পর একটু কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। এতে ভালো সাজনা হয়। গাছে যে হারে ফুল আসছে তাতে মনে হচ্ছে সাজনা আসার পর এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো সম্ভব।

উপজেলার লাউতাড়া গ্রামের মুসলিমা বেগম জানান, আগে বাড়ির উঠানে সাজনা গাছ লাগানো হতো। এখন আবাদের জন্য জমিতে লাগানো হচ্ছে। গত বছর বাড়িতে খাবারের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেছি। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো সাজনা পাবো।

উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রতাপ মন্ডল বলেন, আমরা জনগণকে সাজনার গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করছি। এবার উপজেলায় বর্তমানে দেশীয় জাতের ১৭ হাজার ৫০টির মতো সাজনা গাছ আছে। গত বছর ছিল ১৫ হাজারের মতো।

তিনি আরো জানান, যেসব এলাকায় সাজনার গাছ নেই সেসব এলাকায় কৃষকদের সাজনার গাছ লাগানোর জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সাজনার পুষ্টিগুণ অনেক। সরকারি জায়গায় সাজনার গাছ লাগানো হচ্ছে। আগামীতে সাজনার গাছ আরো বৃদ্ধি পাবে।

[irp]

ট্যাগস :

সাদা ফুলে ফুলে ভরে গেছে সাজনা গাছ

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

সাদা ফুলে ফুলে ভরে গেছে সাজনা গাছ

এম ওসমান শার্শা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

সাদা ফুলে ফুলে ভরে গেছে সাজনার গাছ। থোকায় থোকায় ঝুলছে ফুল। ফুলের পরিমাণ এতোটাই যে গাছের পাতা পর্যন্ত দেখা যায় না বললেই চলে। ফুলের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

শার্শা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এ সজিনা বাহিরের জেলায় সরবরাহ করার কথা ভাবছেন চাষিরা। রোগ বালাই কম হওয়ায় এখন বাণিজ্যিক ভাবেও চাষ করা হচ্ছে সাজনা।

এক সময় বাড়ির আশপাশের উঠানে সাজনার গাছ লাগানো হতো। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং সময়ের পরিক্রমায় কৃষকরা এখন ফসলি জমিতে অনেকে সাজনার চাষ করছে। পরিকল্পিত ভাবে সাজনার চাষ করে লাভবান হচ্ছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় সাজনা। মৌসুমের শুরুতে সাজনা প্রতি কেজি ১০০/১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শেষ সময়ে দাম কমে দাঁড়ায় প্রতি কেজি ৪০/৫০ টাকা।

ফাল্গুনের শেষ ও চৈত্রের শুরুতে সাজনার ডাটা খাওয়ার উপযোগী হয়। সাধারণত শাখা কেটে রোপণ করার মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার হয়। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছ থেকে সাজনা সংগ্রহ করা যায়। ডাটার পাশাপাশি ফুল, পাতাও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সবজি হিসেবে এটি যেমন উপাদেয়, তেমনি এর ভেষজ গুণাবলী অসাধারণ। নানা রোগব্যাধি নিরাময়, রোগ প্রতিরোধ ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাজনা অত্যন্ত কার্যকর।

শার্শা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (মন্টু) বলেন, জমির পাশে রাস্তার ধারে কয়েকটি সাজনা গাছ লাগিয়েছি। বাড়িতে খাবার পর অতিরিক্ত সাজনা বাজারে বিক্রি করা হয়। রোগ বালাই কম। খরচ তেমন না হলেও দাম ভাল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছে প্রায় এক থেকে দেড় মণ সাজনা হয়।

মাটিপুকুর গ্রামের আফছার আলী বলেন, সাজনা এখন জমির আইলে ও আবাদি জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে লাগানো হচ্ছে। গাছে ফুল আসার পর এবং সাজনা ধরার পর একটু কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। এতে ভালো সাজনা হয়। গাছে যে হারে ফুল আসছে তাতে মনে হচ্ছে সাজনা আসার পর এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো সম্ভব।

উপজেলার লাউতাড়া গ্রামের মুসলিমা বেগম জানান, আগে বাড়ির উঠানে সাজনা গাছ লাগানো হতো। এখন আবাদের জন্য জমিতে লাগানো হচ্ছে। গত বছর বাড়িতে খাবারের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেছি। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো সাজনা পাবো।

উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রতাপ মন্ডল বলেন, আমরা জনগণকে সাজনার গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করছি। এবার উপজেলায় বর্তমানে দেশীয় জাতের ১৭ হাজার ৫০টির মতো সাজনা গাছ আছে। গত বছর ছিল ১৫ হাজারের মতো।

তিনি আরো জানান, যেসব এলাকায় সাজনার গাছ নেই সেসব এলাকায় কৃষকদের সাজনার গাছ লাগানোর জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সাজনার পুষ্টিগুণ অনেক। সরকারি জায়গায় সাজনার গাছ লাগানো হচ্ছে। আগামীতে সাজনার গাছ আরো বৃদ্ধি পাবে।

[irp]