ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুদ কারবারি আজাদ রব্বানীর বর্বরতায় অতিষ্ট পাংশাবাসী

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ মে ২০২১
  • / ১০৫৮ বার পড়া হয়েছে

সুদ কারবারি আজাদ রব্বানীর বর্বরতায় অতিষ্ট পাংশাবাসী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

আজাদ ও রব্বান দুই ব্যক্তি আলাদা আলাদা নাম হলেও দৈনিন্দন চলাচলে রয়েছে গভীর সম্পর্ক। এলাকায় আজাদ-রব্বান বলেই তারা পরিচিত। তাদের উভয়ের বাড়ি পাংশার যশাই ইউনিয়নে কিন্তু তিনি থাকেন সুদের টাকায় নির্মিত পাংশার আলিসান বাড়িতে। তাদের দুই জনের রয়েছে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকা। পাংশায় রয়েছে তাদের দুইজনের নামে আলিসান বাড়ি,রয়েছে একাধিক গোডাউন। গ্রামের রয়েছে একাধিক পুকুর, ফসলি জমি। এত সব কিছুর উৎস সুদে কারবার।
প্রথমে তারা গরীব দরিদ্র কৃষকদের তারগট করলেও এখন বড় সুদে কারবারি হয়ে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের বিপদের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা এখন রমরমা চলছে। তারা এখন যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে এলাকায় কেউ কিছু বলে সাহস পায় না, আবার বললেও কর্ণপাত করেন না।
এদের কাছে জিম্মি শত শত মানুষ,এই সুদে কারবারির হাতে অনেকেই জিম্মি হয়েছে, যার কারণে সর্বশান্ত হয়েছে অনেক পরিবার, তাদের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে মিডিয়া এই মিডিয়ার মাধ্যমে এই সুদে কারবারি তাদের সুদের টাকা বিপদ গ্রস্থ মানুষের দিয়ে থাকে। আর এদের টার্গেট হলো এলোকার বিপদগ্রস্থ মানুষ। এদের মধ্য রয়েছে ব্যবসায়ী,স্কুল শিক্ষকসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। এরা দীর্ঘদিন যাবৎ সুদে টাকা দিয়ে চক্রবৃদ্ধিহরে সুদ গ্রহন করে। এরা এক লক্ষ টাকা সুদ দিলে মাসে পনের থেকে পঁচিশ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ গ্রহন করে। এই সুদে কারবারি কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই এই ব্যবসা চালিয়ে আসছে, সরোজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী পাংশা ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে সুদে টাকা দিয়ে থাকে। নাম বলতে অনিচ্ছুক এরুপ বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়,সুদের টাকা ঠিক সময় না দিতে পারায়,তাদের মানুষীক টর্চারিং এর শিকার হতে হয়। এবং সুদের টাকা কয়েক গুন বেশি দিতে হয়। এদের কারনে অনেকই আজ ঘর ছাড়া এমন কি সর্বশান্ত হয়েছে অনেকেই।এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি বিপদে পড়ে সুদে এদের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা সুদে নিয়েছিলাম, এখন পর্যন্ত ৮ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছি কিন্তু এখনও আমাকে টাকার জন্য বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে প্রতিনিয়ত। এই সুদে কারবারিরা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসন কর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে রমরমা সুদে ব্যবসা করছে।

অভিযোগ রয়েছে আয়ুব আলী নামের এক দলিল লেখকের অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে ৭০ হাজার টাকা সুদে দিয়ে ১৫ লক্ষ দিয়েও শেষ হয় না। জানাযায় প্রায় এক যুগ আগে ব্যক্তি প্রয়োজনের জন্য এই দলিল লেখক সুদ কারবারি আজাদ রব্বানীর নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা সুদের উপর ধার নেয়। এক্ষেত্রে আমানত স্বরূপ আজাদ রব্বানীকে একটি ব্যাংক চেক প্রদান করন আয়ুব আলী । টাকা নেওয়ার দুই বছর পর সুদে আসলে ২০১৩ সালে আয়ুব আলী আজাদ রব্বানীকে ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে দেয়। কিন্তু দিনের পর দিন বছরের পর বছর ঘুরিয়েও শিক্ষক নিজামের ব্যাংক চেক ফেরত দেয়নি আজাদ রব্বানী।

বর্তমান সময়ে এসে আজাদ রব্বানী দলিল লেখক আয়ুব আলীর কাছে ১২ লক্ষ টাকা পাওনা দাবি করছে। প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে টাকা পরিশোধের জন্য। কিন্তু যে টাকা ২০১৩ সালে পরিশোধ করা হয়েছে সেই টাকার এমন দাবি সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক মনে করছেন আয়ুব আলী । স্থানীয় অনেকের কাছে অভিযোগ জানিয়েও মেলেনি এর ফল। দলিল লেখক আয়ুব আলী আর্থিক ও মানসিক নির্যাতনের কবল থেকে মুক্তির আশা ব্যক্ত করে এমনটাই অভিযোগ জানান গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক মানুষের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগ পাওয়া গেছে সুদের টাকায় নির্মিত পাংশা শহরে আলিসান বাড়ি ও একাধিক সম্পদের। তবে এব্যাপারে আজাদ রব্বানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি

পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাত হোসেন বলেন, এব্যাপারে এখনো কোনো প্রকার অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।

[irp]

সুদ কারবারি আজাদ রব্বানীর বর্বরতায় অতিষ্ট পাংশাবাসী

আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ মে ২০২১

সুদ কারবারি আজাদ রব্বানীর বর্বরতায় অতিষ্ট পাংশাবাসী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

আজাদ ও রব্বান দুই ব্যক্তি আলাদা আলাদা নাম হলেও দৈনিন্দন চলাচলে রয়েছে গভীর সম্পর্ক। এলাকায় আজাদ-রব্বান বলেই তারা পরিচিত। তাদের উভয়ের বাড়ি পাংশার যশাই ইউনিয়নে কিন্তু তিনি থাকেন সুদের টাকায় নির্মিত পাংশার আলিসান বাড়িতে। তাদের দুই জনের রয়েছে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকা। পাংশায় রয়েছে তাদের দুইজনের নামে আলিসান বাড়ি,রয়েছে একাধিক গোডাউন। গ্রামের রয়েছে একাধিক পুকুর, ফসলি জমি। এত সব কিছুর উৎস সুদে কারবার।
প্রথমে তারা গরীব দরিদ্র কৃষকদের তারগট করলেও এখন বড় সুদে কারবারি হয়ে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের বিপদের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা এখন রমরমা চলছে। তারা এখন যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে এলাকায় কেউ কিছু বলে সাহস পায় না, আবার বললেও কর্ণপাত করেন না।
এদের কাছে জিম্মি শত শত মানুষ,এই সুদে কারবারির হাতে অনেকেই জিম্মি হয়েছে, যার কারণে সর্বশান্ত হয়েছে অনেক পরিবার, তাদের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে মিডিয়া এই মিডিয়ার মাধ্যমে এই সুদে কারবারি তাদের সুদের টাকা বিপদ গ্রস্থ মানুষের দিয়ে থাকে। আর এদের টার্গেট হলো এলোকার বিপদগ্রস্থ মানুষ। এদের মধ্য রয়েছে ব্যবসায়ী,স্কুল শিক্ষকসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। এরা দীর্ঘদিন যাবৎ সুদে টাকা দিয়ে চক্রবৃদ্ধিহরে সুদ গ্রহন করে। এরা এক লক্ষ টাকা সুদ দিলে মাসে পনের থেকে পঁচিশ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ গ্রহন করে। এই সুদে কারবারি কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই এই ব্যবসা চালিয়ে আসছে, সরোজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী পাংশা ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে সুদে টাকা দিয়ে থাকে। নাম বলতে অনিচ্ছুক এরুপ বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়,সুদের টাকা ঠিক সময় না দিতে পারায়,তাদের মানুষীক টর্চারিং এর শিকার হতে হয়। এবং সুদের টাকা কয়েক গুন বেশি দিতে হয়। এদের কারনে অনেকই আজ ঘর ছাড়া এমন কি সর্বশান্ত হয়েছে অনেকেই।এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি বিপদে পড়ে সুদে এদের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা সুদে নিয়েছিলাম, এখন পর্যন্ত ৮ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছি কিন্তু এখনও আমাকে টাকার জন্য বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে প্রতিনিয়ত। এই সুদে কারবারিরা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসন কর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে রমরমা সুদে ব্যবসা করছে।

অভিযোগ রয়েছে আয়ুব আলী নামের এক দলিল লেখকের অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে ৭০ হাজার টাকা সুদে দিয়ে ১৫ লক্ষ দিয়েও শেষ হয় না। জানাযায় প্রায় এক যুগ আগে ব্যক্তি প্রয়োজনের জন্য এই দলিল লেখক সুদ কারবারি আজাদ রব্বানীর নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা সুদের উপর ধার নেয়। এক্ষেত্রে আমানত স্বরূপ আজাদ রব্বানীকে একটি ব্যাংক চেক প্রদান করন আয়ুব আলী । টাকা নেওয়ার দুই বছর পর সুদে আসলে ২০১৩ সালে আয়ুব আলী আজাদ রব্বানীকে ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে দেয়। কিন্তু দিনের পর দিন বছরের পর বছর ঘুরিয়েও শিক্ষক নিজামের ব্যাংক চেক ফেরত দেয়নি আজাদ রব্বানী।

বর্তমান সময়ে এসে আজাদ রব্বানী দলিল লেখক আয়ুব আলীর কাছে ১২ লক্ষ টাকা পাওনা দাবি করছে। প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে টাকা পরিশোধের জন্য। কিন্তু যে টাকা ২০১৩ সালে পরিশোধ করা হয়েছে সেই টাকার এমন দাবি সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক মনে করছেন আয়ুব আলী । স্থানীয় অনেকের কাছে অভিযোগ জানিয়েও মেলেনি এর ফল। দলিল লেখক আয়ুব আলী আর্থিক ও মানসিক নির্যাতনের কবল থেকে মুক্তির আশা ব্যক্ত করে এমনটাই অভিযোগ জানান গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক মানুষের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগ পাওয়া গেছে সুদের টাকায় নির্মিত পাংশা শহরে আলিসান বাড়ি ও একাধিক সম্পদের। তবে এব্যাপারে আজাদ রব্বানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি

পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাত হোসেন বলেন, এব্যাপারে এখনো কোনো প্রকার অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।

[irp]