ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo খাগড়াছড়িতে একমঞ্চে জনগণের মুখোমুখি ১০ প্রার্থী Logo পানছড়িতে ধানের শীষের সমর্থনে শ্রমিক দলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo শেরপুরে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত অন্তত-৪ Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ-এয়াকুব আলী Logo খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সমাবেশে Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার

শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা, ছাত্রদল কর্মী বহিষ্কার

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • / ১১৫০ বার পড়া হয়েছে

হলে ঢুকে শাবি শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা, ছাত্রদল কর্মী বহিষ্কার

আস্থা ডেস্কঃ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঢুকে ছুরি নিয়ে এক আবাসিক ছাত্রকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শেখ ফাকাব্বির সিন নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

ছাত্রদল কর্মী শেখ ফাকাব্বির সিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারের সমর্থক বলে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শেখ ফাকাব্বির সিনকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান।

প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফাকাব্বিরের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। এরপর গত ১৭ মে সিন্ডিকেটের ২৩৬তম সভায় তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে শেখ ফাকাব্বির সিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলের ৪৩৬ নম্বর কক্ষে ঢুকে ছুরি দিয়ে আমিরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান ওই কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। কক্ষটিতে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম, আতিকুজ্জামান ও আবু হুরায়রা রাতিন থাকতেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি রাত ৯টার দিকে টিউশনি থেকে এসে রুমে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ অভিযুক্ত ফাকাব্বির আমার সাথে কথা বলতে আসে। এর আগে তাকে আমি দেখিনি। তার পরনে ছিল শর্ট প্যান্ট।

তিনি আরও বলেন, আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কে? শর্ট প্যান্ট পরে হুটহাট রুমে ঢুকে পড়েছো। তখনই সে পকেট থেকে একটা ছুরি বের করে আমাকে মারার চেষ্টা করে এবং ইউটিউব থেকে একটা ভিডিও প্লে করে আমাকে বলে যে দেখ আমি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী। পরে দৌড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আমি প্রক্টরকে ফোন দিয়ে জানাই।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ ‘সাস্টিয়ান ভয়েসে’ শিবিরকে জড়িয়ে পোস্ট দেন ফাকাব্বির। পোস্টে ফাকাব্বির লেখেন, আমি শাহপরাণ হলে টাকা নিতে আসলে শিবিরের ছেলেরা আমাকে কুপিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ২টার দিকে প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্যতা পাওয়ার পর একই গ্রুপে ক্ষমা চেয়ে ফাকাব্বির লেখেন, আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিবিরকে জড়ানোর চেষ্টা করেছি। এ রকম ভবিষ্যতে আর করবেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

ফাকাব্বির বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন। তার সাথে থাকেতেন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াদ ভূঁইয়া।

রিয়াদ ভূঁইয়া জানান, ফাকাব্বির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি নিয়মিত গাঁজা সেবন করতেন রুমে।

ট্যাগস :

শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা, ছাত্রদল কর্মী বহিষ্কার

আপডেট সময় : ০৭:৪০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

হলে ঢুকে শাবি শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা, ছাত্রদল কর্মী বহিষ্কার

আস্থা ডেস্কঃ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঢুকে ছুরি নিয়ে এক আবাসিক ছাত্রকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শেখ ফাকাব্বির সিন নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

ছাত্রদল কর্মী শেখ ফাকাব্বির সিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারের সমর্থক বলে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শেখ ফাকাব্বির সিনকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান।

প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফাকাব্বিরের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। এরপর গত ১৭ মে সিন্ডিকেটের ২৩৬তম সভায় তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে শেখ ফাকাব্বির সিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলের ৪৩৬ নম্বর কক্ষে ঢুকে ছুরি দিয়ে আমিরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান ওই কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। কক্ষটিতে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম, আতিকুজ্জামান ও আবু হুরায়রা রাতিন থাকতেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি রাত ৯টার দিকে টিউশনি থেকে এসে রুমে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ অভিযুক্ত ফাকাব্বির আমার সাথে কথা বলতে আসে। এর আগে তাকে আমি দেখিনি। তার পরনে ছিল শর্ট প্যান্ট।

তিনি আরও বলেন, আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কে? শর্ট প্যান্ট পরে হুটহাট রুমে ঢুকে পড়েছো। তখনই সে পকেট থেকে একটা ছুরি বের করে আমাকে মারার চেষ্টা করে এবং ইউটিউব থেকে একটা ভিডিও প্লে করে আমাকে বলে যে দেখ আমি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী। পরে দৌড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আমি প্রক্টরকে ফোন দিয়ে জানাই।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ ‘সাস্টিয়ান ভয়েসে’ শিবিরকে জড়িয়ে পোস্ট দেন ফাকাব্বির। পোস্টে ফাকাব্বির লেখেন, আমি শাহপরাণ হলে টাকা নিতে আসলে শিবিরের ছেলেরা আমাকে কুপিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ২টার দিকে প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্যতা পাওয়ার পর একই গ্রুপে ক্ষমা চেয়ে ফাকাব্বির লেখেন, আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিবিরকে জড়ানোর চেষ্টা করেছি। এ রকম ভবিষ্যতে আর করবেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

ফাকাব্বির বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন। তার সাথে থাকেতেন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াদ ভূঁইয়া।

রিয়াদ ভূঁইয়া জানান, ফাকাব্বির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি নিয়মিত গাঁজা সেবন করতেন রুমে।