ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo দেড় বছর পর কার্যালয়ে আ.লীগের নেতাকর্মীরা Logo বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় পানছড়ির জিয়ানগরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল Logo রমজানে স্কুল বন্ধের বিষয়ে আগামীকাল আলোচনা করব-সাইদুর রহমান Logo শপথ অনুষ্টানে ঢাকায় আসছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা Logo পার্বত্যবাসীর স্বপ্ন পূরণে ওয়াদুদ ভূইয়াকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় পাহাড়বাসী Logo হাতিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ সঠিক নয়, দাবি পুলিশের Logo বিক্ষোভের ডাক দিল ১১ দলীয় জোট Logo চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নবনির্বাচিত এমপি Logo গনদাবীতে পরিণত হচ্ছে ওয়াদুদ ভুইয়াকে মন্ত্রী করার দাবী Logo এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের জন্য শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি

হাজী সেলিমের সংসদ সদস্য স্টিকার লাগানো গাড়িটি ট্যাক্স ফাঁকির

News Editor
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০
  • / ১১০৩ বার পড়া হয়েছে

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহম্মেদ খানকে যে গাড়ি থেকে বেরিয়ে মারধর করা হয়েছিল তাতে ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো ছিল অথচ, গাড়িটির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন হাল নাগাদ নেই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ দেয়ার পাশাপাশি যানবাহনের রোড ট্যাক্সও আদায় করে। সংস্থাটির যানবাহন নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যের বরাতে একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, সাংসদের স্টিকার লাগানো ব্রিটিশ ব্র্যান্ড ল্যান্ড রোভার গাড়িটির ইঞ্জিনক্ষমতা ২৪৯৫ সিসি। এটি প্রথমে ইউরোপের একটি দেশের দূতাবাসের জন্য আনা হয়েছিল। পরে ২০০৪ সালে দূতাবাস গাড়িটি নিলামে তুললে এটি কিনে নেয় অটোটেক লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার জন্য গাড়ি আনতে শুল্ক লাগে না। তবে বাংলাদেশে আনার পর গাড়িটি বিক্রি করা হলে ক্রেতাকে নিবন্ধনের সময় পুরো শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০০৫ সালে গাড়িটির মালিকানা বদল করা হয়।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে এই গাড়ির ফিটনেস সনদ হালনাগাদ নেই। ২০০৫ সাল থেকে রোড ট্যাক্সও দেওয়া হয়নি। এই শ্রেণির গাড়ির বর্তমান রোড ট্যাক্স বছরে ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিবছর ফিটনেস সনদও হালনাগাদ করতে হয়; সেটারও ফি আছে। ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ না থাকলে নির্ধারিত হারে জরিমানার বিধান রয়েছে।

আরো পড়ুন: ইরফানের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তের দায়িত্ব যাচ্ছে ডিবির হাতে

বিআরটিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি নিবন্ধনের সময় একসঙ্গে পাঁচ বছরের ফিটনেস সনদ দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিবছর একবার করে সনদ নবায়ন করতে হয়। ট্যাক্সও দিতে হয় প্রতিবছর। ২০০৫ সালে গাড়িটির মালিকানা বদলের পর মালিক বিআরটিএর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।

গত বছরের ১ নভেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে। এই আইনের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন হলে ৩০ দিনের মধ্যে এর মালিককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে হবে। আর ৬০ দিনের মধ্যে যানবাহনের গ্রহীতা বা ক্রেতাকে বিআরটিএ থেকে নিজ নামে নিবন্ধন করিয়ে নেয়ার আবেদন করতে হবে। ৩০ দিনের মধ্যে মালিকানা বদল করে ক্রেতার নামে নিবন্ধন দেবে বিআরটিএ।

আইনের এই ধারাটি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

আরো পড়ুন: ইরফানের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তের দায়িত্ব যাচ্ছে ডিবির হাতে

এ ছাড়া আইনে ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ না থাকলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। একই সাজা প্রযোজ্য হবে ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ না থাকলেও।

রোববার রাতে ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৫৭৩৬ নম্বরের গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়েছিল নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফের মোটরসাইকেল। এরপর ওই গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে ওয়াসিফকে মারধর করেন। গাড়িতে সাংসদ হাজি সেলিমের ছেলে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান মোহাম্মদ সেলিম ছিলেন। পরে তাকে কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সোমবার হাজি সেলিমের পুরান ঢাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফান ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে ইরফানকে এক বছরের কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে ওই গাড়িটি ধানমন্ডি থানায় আটক আছে।

হাজী সেলিমের সংসদ সদস্য স্টিকার লাগানো গাড়িটি ট্যাক্স ফাঁকির

আপডেট সময় : ১০:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহম্মেদ খানকে যে গাড়ি থেকে বেরিয়ে মারধর করা হয়েছিল তাতে ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো ছিল অথচ, গাড়িটির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন হাল নাগাদ নেই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ দেয়ার পাশাপাশি যানবাহনের রোড ট্যাক্সও আদায় করে। সংস্থাটির যানবাহন নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যের বরাতে একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, সাংসদের স্টিকার লাগানো ব্রিটিশ ব্র্যান্ড ল্যান্ড রোভার গাড়িটির ইঞ্জিনক্ষমতা ২৪৯৫ সিসি। এটি প্রথমে ইউরোপের একটি দেশের দূতাবাসের জন্য আনা হয়েছিল। পরে ২০০৪ সালে দূতাবাস গাড়িটি নিলামে তুললে এটি কিনে নেয় অটোটেক লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার জন্য গাড়ি আনতে শুল্ক লাগে না। তবে বাংলাদেশে আনার পর গাড়িটি বিক্রি করা হলে ক্রেতাকে নিবন্ধনের সময় পুরো শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০০৫ সালে গাড়িটির মালিকানা বদল করা হয়।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে এই গাড়ির ফিটনেস সনদ হালনাগাদ নেই। ২০০৫ সাল থেকে রোড ট্যাক্সও দেওয়া হয়নি। এই শ্রেণির গাড়ির বর্তমান রোড ট্যাক্স বছরে ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিবছর ফিটনেস সনদও হালনাগাদ করতে হয়; সেটারও ফি আছে। ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ না থাকলে নির্ধারিত হারে জরিমানার বিধান রয়েছে।

আরো পড়ুন: ইরফানের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তের দায়িত্ব যাচ্ছে ডিবির হাতে

বিআরটিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি নিবন্ধনের সময় একসঙ্গে পাঁচ বছরের ফিটনেস সনদ দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিবছর একবার করে সনদ নবায়ন করতে হয়। ট্যাক্সও দিতে হয় প্রতিবছর। ২০০৫ সালে গাড়িটির মালিকানা বদলের পর মালিক বিআরটিএর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।

গত বছরের ১ নভেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে। এই আইনের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন হলে ৩০ দিনের মধ্যে এর মালিককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে হবে। আর ৬০ দিনের মধ্যে যানবাহনের গ্রহীতা বা ক্রেতাকে বিআরটিএ থেকে নিজ নামে নিবন্ধন করিয়ে নেয়ার আবেদন করতে হবে। ৩০ দিনের মধ্যে মালিকানা বদল করে ক্রেতার নামে নিবন্ধন দেবে বিআরটিএ।

আইনের এই ধারাটি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

আরো পড়ুন: ইরফানের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তের দায়িত্ব যাচ্ছে ডিবির হাতে

এ ছাড়া আইনে ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ না থাকলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। একই সাজা প্রযোজ্য হবে ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ না থাকলেও।

রোববার রাতে ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৫৭৩৬ নম্বরের গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়েছিল নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফের মোটরসাইকেল। এরপর ওই গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে ওয়াসিফকে মারধর করেন। গাড়িতে সাংসদ হাজি সেলিমের ছেলে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান মোহাম্মদ সেলিম ছিলেন। পরে তাকে কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সোমবার হাজি সেলিমের পুরান ঢাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফান ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে ইরফানকে এক বছরের কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে ওই গাড়িটি ধানমন্ডি থানায় আটক আছে।