ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাম নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২৪ বার পড়া হয়েছে

হাম নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে

আস্থা ডেস্কঃ

হাম নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। কে কার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে মিডিয়াতে ফোকাস থাকবে তাই নিয়ে প্রতিযোগীতা চলছে রাজনীতিবিদদের মাঝে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল বলেছিলেন রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালককে ফাঁসি দেয়া উচিত, সে কেন ভেন্টিলেটরের সমস্যার কথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানায়নি ইত্যাদি।

গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ) মন্ত্রী আরেকটি বেফাস মন্তব্যে বলেছেন যে, গত ৮ বছরে নাকি হামের টিকা দেয়া হয়নি। ব্যাপারটা অদ্ভুত মনে হলো কেননা ভ্যাক্সিনেশনে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে রোল মডেল মানা হয় নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মাঝে। ৮ বছর হামের টিকা দেয়া না হলে ভয়াবহ বিপদ হিসেবে দেশি বিদেশি সকল মিডিয়ায় প্রচার হতো।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা বিভাগ (ইপিআই) এর নিজস্ব ড্যাশবোর্ডে নজর দিলে দেখতে পাবেন, টিকা বিভাগের নিজস্ব অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী হামের টিকা সহ অন্যান্য টিকা সম্পন্নের হার ৮০-৯০% এর আশেপাশে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুসারে আরও বেশি (৯৩%)। কেননা সরকারি হিসাবে অনেক সময় তথ্য ইনকমপ্লিট থাকে। সুতরাং মন্ত্রী কথা মোটেও সত্য নয়।

ইপিআই এর নিজস্ব তথ্যে মতে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে শতকরা ৮০-৯০ভাগ টিকা প্রদান হলেও ২০২৫ সালে এই হার নেমে এসেছে ৬০% এর নিচে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক এর কাছাকাছি শিশু টিকা পায়নি গত বছর। এখানে ডাটা ইনকমপ্লিট, বিশ্বাস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে (২০২৫ সালের হিসাব এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে আসে নি) আনুমানিক ৭০% এ পৌঁছাবে।

আগের বছরের তুলনায় ২০% কম। সংখ্যা হিসেবে এটি অনেক বড় সংখ্যা। সুতরাং হাম ছড়ানো অস্বাভাবিক না। এমনকি কোভিডের দুই বছরেও টিকাদানের হার ৯০% এর বেশি ছিলো। ইপিআই ড্যাশবোর্ডে আরও দেখুন গতবছর ১৩.২% মানুষকে বিসিজি (যক্ষ্মা) টিকা দেয়া হয়নি যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক অনেক বেশী। তাহলে দেখা যাচ্ছে টিকাদানে সবচেয়ে বড় গাফিলতি হয়েছে গত বছরেই। ইন্টেরিম সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক অধীনে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

হাম নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

হাম নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে

আস্থা ডেস্কঃ

হাম নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। কে কার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে মিডিয়াতে ফোকাস থাকবে তাই নিয়ে প্রতিযোগীতা চলছে রাজনীতিবিদদের মাঝে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল বলেছিলেন রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালককে ফাঁসি দেয়া উচিত, সে কেন ভেন্টিলেটরের সমস্যার কথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানায়নি ইত্যাদি।

গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ) মন্ত্রী আরেকটি বেফাস মন্তব্যে বলেছেন যে, গত ৮ বছরে নাকি হামের টিকা দেয়া হয়নি। ব্যাপারটা অদ্ভুত মনে হলো কেননা ভ্যাক্সিনেশনে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে রোল মডেল মানা হয় নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মাঝে। ৮ বছর হামের টিকা দেয়া না হলে ভয়াবহ বিপদ হিসেবে দেশি বিদেশি সকল মিডিয়ায় প্রচার হতো।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা বিভাগ (ইপিআই) এর নিজস্ব ড্যাশবোর্ডে নজর দিলে দেখতে পাবেন, টিকা বিভাগের নিজস্ব অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী হামের টিকা সহ অন্যান্য টিকা সম্পন্নের হার ৮০-৯০% এর আশেপাশে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুসারে আরও বেশি (৯৩%)। কেননা সরকারি হিসাবে অনেক সময় তথ্য ইনকমপ্লিট থাকে। সুতরাং মন্ত্রী কথা মোটেও সত্য নয়।

ইপিআই এর নিজস্ব তথ্যে মতে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে শতকরা ৮০-৯০ভাগ টিকা প্রদান হলেও ২০২৫ সালে এই হার নেমে এসেছে ৬০% এর নিচে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক এর কাছাকাছি শিশু টিকা পায়নি গত বছর। এখানে ডাটা ইনকমপ্লিট, বিশ্বাস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে (২০২৫ সালের হিসাব এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে আসে নি) আনুমানিক ৭০% এ পৌঁছাবে।

আগের বছরের তুলনায় ২০% কম। সংখ্যা হিসেবে এটি অনেক বড় সংখ্যা। সুতরাং হাম ছড়ানো অস্বাভাবিক না। এমনকি কোভিডের দুই বছরেও টিকাদানের হার ৯০% এর বেশি ছিলো। ইপিআই ড্যাশবোর্ডে আরও দেখুন গতবছর ১৩.২% মানুষকে বিসিজি (যক্ষ্মা) টিকা দেয়া হয়নি যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক অনেক বেশী। তাহলে দেখা যাচ্ছে টিকাদানে সবচেয়ে বড় গাফিলতি হয়েছে গত বছরেই। ইন্টেরিম সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক অধীনে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ