ইসলামী ভাবধারায় বক্তৃতা দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৯:২২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০৫০ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশের মাটিতে পা রেখেই এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে’ আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার ১৬ মিনিটের সংক্ষিপ্ত কিন্তু সারগর্ভ বক্তৃতা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বিশেষ করে বক্তৃতায় বারবার ইসলামী পরিভাষা ও আল্লাহর প্রতি অকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
বক্তৃতার শুরুতেই তারেক রহমান পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, ‘‘রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় আজ আমি মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরেছি।’’ বক্তৃতার বিভিন্ন অংশে তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’, ‘রাব্বুল আলামিন’, ‘পরওয়ার দিগার’ এবং ‘রহমত’ এর মতো শব্দগুলো অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ব্যবহার করেন।
বিশেষ করে বক্তৃতার শেষ দিকে যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুই হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দেশবাসীর জন্য দোয়া করেন, তখন অনুষ্ঠানস্থলে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। তার বক্তৃতার সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনার দর্শন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, আগামী দিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তারা যেন নবী করিমের (সা.) ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফের আলোকে দেশ পরিচালনা করে। তার এই বক্তব্য ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তারেক রহমান বলেন, আসুন, আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি—হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ার দিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী; আজ আপনি যদি আমাদের রহমত দেন, আমরা এই মানুষ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারবো। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য আল্লাহর দয়া যদি এই দেশের মানুষের ওপরে এই দেশের ওপরে থাকে. আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।
‘আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সবাই মিলে নবী করিমের (সা.) যে ন্যায়পরায়ণতা, সে ন্যায়পরায়ণতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার চেষ্টা করবো।’
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া: ‘এক নতুন তারেক রহমান’
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বক্তৃতা প্রচার হওয়ার পর থেকেই ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইউটিউবে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী ভাবধারার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেওয়া তার এই বক্তব্যটি নেটিজেন এবং সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।অভিভুত হাজার হাজার ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, তারেক রহমানের কণ্ঠে এই বিনয় এবং মহান স্রষ্টার প্রতি সমর্পণ তাদের মুগ্ধ করেছে। এ যেন এক নতুন তারেক রহমান
অন্যদিকে, তার শান্তির বার্তাও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ এর আদলে তার ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ এবং দেশে শান্তি বজায় রাখার জন্য বারবার করা অনুরোধকে একটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ভাষা চয়ন এবং শান্তভঙ্গিও অনেকের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক আক্রমণাত্মক ভাষার পরিবর্তে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজের রূপরেখা তুলে ধরায় তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন। ইসলামী ভাবধারা বজায় রেখেও তিনি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের কথা বলেছেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানটি তাকে সব মহলে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি শহীদ হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি যেভাবে ইনসাফের দাবি তুলেছেন, তা তরুণ প্রজন্মকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। বক্তৃতার শেষে তিনি সমবেত জনতাকে নিয়ে স্লোগান দেন, ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৭ বছর পর দেশে ফেরা বিএনপির এই শীর্ষ নেতার মুখে বিনয়, দেশপ্রেম আর ইসলামী মূল্যবোধের মেলবন্ধন সাধারণ মানুষের কাছে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বক্তব্যে তিনি সমাজ সংস্কারে ইসলামের নৈতিক শিক্ষা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। সাধারণ মানুষ এবং ধর্মীয় ঘরানার ব্যক্তিদের কাছে তার এই অবস্থানটি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

















