ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এ্যাম্বুলেন্স অগ্নিকান্ডে নিহতের পরিজনের পাশে আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুন ২০২৩
  • / ১০৫৯ বার পড়া হয়েছে

এ্যাম্বুলেন্স অগ্নিকান্ডে নিহতের পরিজনের পাশে আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য

মামুনুর রশীদ/ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

ফেলাননগর উত্তরপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজিজার শেখের পরিবারসহ শোকে কাতর একের পর এক সাতটি পরিবার। কারো মুখে ভাষা নেই। কেমন করে কি হয়ে গেল চোখের পলকে সাজানো পরিবারে? শোক বিহ্বল পরিবারে থামছে না কান্নার রোল। গত শনিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৮জন নিহত হন। শুধু চালক মৃদুল দাসের বাড়ি ফরিদপুর জেলা সদরে। অন্যরা সবাই বোয়ালমারীর।

বেদনাদায়ক ঘটনায় নিহত তিন শোকাহত পরিবারকে সান্তনা ও সমবেদনা জানাতে সোমবার সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ছুটে গেছেন শান্তনা জানাতে। নিজেদের আপনজন প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে শোকাভিভূত পরিবারের সদস্যরা আপ্লুত হয়ে উঠেন। এসময় উপস্থিত অতিথিদের মানবিক রুদয় কেঁপে উঠে নিহতের পরিবার পরিজনের কান্নায়। অবশেষে শান্ততা জানান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য।

সকাল ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাইটকুমড়া গ্রামের আলমগীর খান এবং বেলা ১২টার দিকে গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর উত্তরপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আজিজার শেখের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে তিনি নিহত তাসলিমা বেগমের ছোট মেয়ে চায়না (২৫) ও ছেলে আনিস শেখকে (১৮) শান্তনা দেন।

আব্দুর রহমান বলেন, এই শোক বর্ণনা দেওয়া বা সইবার মতো কোন ঘটনা নয়। আটটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না। সান্তনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। একই পরিবার থেকে স্ত্রী, সোনার মতো দুটো ছেলে ও একটি মেয়ে, শালিকা ও তার ছেলে, শাশুড়ীসহ ৭জন স্বজন যেভাবে গেছেন এটা চিন্তা করলে সেদিনের ঘটনায় শিহরিত হয়ে উঠে।

আল্লাহ পাক ধৈর্য্য ধারণ করার ক্ষমতা দিন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। নিহত পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য তার নির্দেশনা পেয়ে এসেছি। কারন এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ববোধ।

 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বোয়ালমারী পৌর মেয়র সেলিম রেজা লিপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি (সাবেক) আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মৃধা মিলন, সহ-প্রচার সম্পাদক এনামুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সিদ্দিক খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল সিকদার, জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু, দাউদুজ্জামান দাউদ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর হোসেন তুশার, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মর্তুজা তমাল, সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত সিদ্দিক, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিদুল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফেলাননগর উত্তরপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আজিজার শেখের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৫০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিয়ে মেয়ের বাসায় অবস্থান করেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং সামনে ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ঢাকার কদমতলী এলাকা থেকে ফেলাননগরের উদ্দেশ্যে তার দুই মেয়ে, চার নাতি-নাতনীসহ ৭ জন গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা থেকে রওনা দেন। পথিমধ্যে বেলা ১১টার দিকে ভাঙ্গা-ঢাকা এক্সপ্রেস ওয়ের মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের অ্যাপ্রোচ সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে উঠে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায় দেহগুলো। এ দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চালকসহ ৮জন দগ্ধ হয়ে মারা যান।

নিহতরা হলেন আজিজার শেখের স্ত্রী তাসলিমা বেগম, তার বড় মেয়ে শেখর ইউনিয়নের মাইটকুমড়া গ্রামের আলমগীর খানের স্ত্রী কমলা পারভীন, কমলা পারভীনের বড় ছেলে আরিফ৷ মেঝ ছেলে হাসিব, কন্যা আফসা তাসলিমার মেঝ মেয়ে পাশ্ববর্তী উপজেলা আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নের কুচিয়াগ্রামের সেনা সদস্য মাহামুদুল হাসান রনির স্ত্রী মোসাঃ বিউটি পারভীন বিউটি পারভীনের ছেলে মেহেদী ও এম্বুল্যান্স চালক ফরিদপুরের বাসিন্দা মিতুল মালো। নিহতদের লাশ ফেলাননগর-রেনিনগর কবরস্থান, মাইটকুমরা পারিবারিক কবরস্থান এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার কুচিয়াগ্রামে রাতে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসন শনিবার রাতেই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিপুল চন্দ্র দাসকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। রবিবার দুপুরে তদন্ত কমিটি ৮জন নিহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ঘটনায় শিবচর হাইওয়ে থানায় প্রাথমিকভাবে একটি জিডি করেছে হাইওয়ে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে নিহত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে ২০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন জেলা প্রশাসন।

ট্যাগস :

এ্যাম্বুলেন্স অগ্নিকান্ডে নিহতের পরিজনের পাশে আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য

আপডেট সময় : ০৭:২৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুন ২০২৩

এ্যাম্বুলেন্স অগ্নিকান্ডে নিহতের পরিজনের পাশে আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য

মামুনুর রশীদ/ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

ফেলাননগর উত্তরপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজিজার শেখের পরিবারসহ শোকে কাতর একের পর এক সাতটি পরিবার। কারো মুখে ভাষা নেই। কেমন করে কি হয়ে গেল চোখের পলকে সাজানো পরিবারে? শোক বিহ্বল পরিবারে থামছে না কান্নার রোল। গত শনিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৮জন নিহত হন। শুধু চালক মৃদুল দাসের বাড়ি ফরিদপুর জেলা সদরে। অন্যরা সবাই বোয়ালমারীর।

বেদনাদায়ক ঘটনায় নিহত তিন শোকাহত পরিবারকে সান্তনা ও সমবেদনা জানাতে সোমবার সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ছুটে গেছেন শান্তনা জানাতে। নিজেদের আপনজন প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে শোকাভিভূত পরিবারের সদস্যরা আপ্লুত হয়ে উঠেন। এসময় উপস্থিত অতিথিদের মানবিক রুদয় কেঁপে উঠে নিহতের পরিবার পরিজনের কান্নায়। অবশেষে শান্ততা জানান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য।

সকাল ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাইটকুমড়া গ্রামের আলমগীর খান এবং বেলা ১২টার দিকে গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর উত্তরপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আজিজার শেখের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে তিনি নিহত তাসলিমা বেগমের ছোট মেয়ে চায়না (২৫) ও ছেলে আনিস শেখকে (১৮) শান্তনা দেন।

আব্দুর রহমান বলেন, এই শোক বর্ণনা দেওয়া বা সইবার মতো কোন ঘটনা নয়। আটটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না। সান্তনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। একই পরিবার থেকে স্ত্রী, সোনার মতো দুটো ছেলে ও একটি মেয়ে, শালিকা ও তার ছেলে, শাশুড়ীসহ ৭জন স্বজন যেভাবে গেছেন এটা চিন্তা করলে সেদিনের ঘটনায় শিহরিত হয়ে উঠে।

আল্লাহ পাক ধৈর্য্য ধারণ করার ক্ষমতা দিন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। নিহত পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য তার নির্দেশনা পেয়ে এসেছি। কারন এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ববোধ।

 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বোয়ালমারী পৌর মেয়র সেলিম রেজা লিপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি (সাবেক) আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মৃধা মিলন, সহ-প্রচার সম্পাদক এনামুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সিদ্দিক খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল সিকদার, জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু, দাউদুজ্জামান দাউদ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর হোসেন তুশার, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মর্তুজা তমাল, সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত সিদ্দিক, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিদুল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফেলাননগর উত্তরপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আজিজার শেখের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৫০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিয়ে মেয়ের বাসায় অবস্থান করেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং সামনে ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ঢাকার কদমতলী এলাকা থেকে ফেলাননগরের উদ্দেশ্যে তার দুই মেয়ে, চার নাতি-নাতনীসহ ৭ জন গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা থেকে রওনা দেন। পথিমধ্যে বেলা ১১টার দিকে ভাঙ্গা-ঢাকা এক্সপ্রেস ওয়ের মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের অ্যাপ্রোচ সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে উঠে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায় দেহগুলো। এ দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চালকসহ ৮জন দগ্ধ হয়ে মারা যান।

নিহতরা হলেন আজিজার শেখের স্ত্রী তাসলিমা বেগম, তার বড় মেয়ে শেখর ইউনিয়নের মাইটকুমড়া গ্রামের আলমগীর খানের স্ত্রী কমলা পারভীন, কমলা পারভীনের বড় ছেলে আরিফ৷ মেঝ ছেলে হাসিব, কন্যা আফসা তাসলিমার মেঝ মেয়ে পাশ্ববর্তী উপজেলা আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নের কুচিয়াগ্রামের সেনা সদস্য মাহামুদুল হাসান রনির স্ত্রী মোসাঃ বিউটি পারভীন বিউটি পারভীনের ছেলে মেহেদী ও এম্বুল্যান্স চালক ফরিদপুরের বাসিন্দা মিতুল মালো। নিহতদের লাশ ফেলাননগর-রেনিনগর কবরস্থান, মাইটকুমরা পারিবারিক কবরস্থান এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার কুচিয়াগ্রামে রাতে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসন শনিবার রাতেই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিপুল চন্দ্র দাসকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। রবিবার দুপুরে তদন্ত কমিটি ৮জন নিহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ঘটনায় শিবচর হাইওয়ে থানায় প্রাথমিকভাবে একটি জিডি করেছে হাইওয়ে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে নিহত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে ২০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন জেলা প্রশাসন।