ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ির দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০২:২২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী ২০২১
  • / ১০৯৪ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি:আধুনিকতার এই যুগে যান্ত্রিক গাড়ির প্রতিযোগিতায় হারিয়েই যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ি। দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এর ব্যবহার। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রত্যান্ত গ্রাম সলুয়া পশ্চিমপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ির দৌঁড় প্রতিযোগিতা। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা দেখতে হাজির হয়েছিল কয়েক হাজার দর্শক। সকাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও মূল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বিকেল চারটায়। সকাল থেকে খেলা দেখতে আশপাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা আসতে থাকে। দুপুর গড়াতেই বিলুপ্ত প্রায় এ দৌঁড় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। আর রোমাঞ্চকর এই প্রতিযোগিতা ঘিরে আনন্দ মেলা ছিল বাড়তি আকর্ষণ।
জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সলুয়া গ্রামের কয়েক তরুণের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এ গরুর গাড়ির দৌঁড় প্রতিযোগিতা। ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলা থেকে ১৮ ব্যক্তি তাঁর গরু ও গরুর গাড়ি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেন যশোর সদর উপজেলার দোহারপাড়া গ্রামের ইউছুপ আলী। দ্বিতীয় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা রজন মিয়া এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন কালীগঞ্জ মহিষাহাটি গ্রামের সেলিম উদ্দীন।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মতলেবুর রহমান এবং কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। খেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মকলেছুজ্জামান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান।
গরুর গাড়ির দৌঁড় প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ইউপি মেম্বার নাসির উদ্দীন জানান, কালীগঞ্জ উপজেলায় এই প্রথম গরুর গাড়ি দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল। হারানো ঐতিহ্য ও এলাকার মানুষকে আনন্দ দিতেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

ট্যাগস :

কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ির দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০২:২২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী ২০২১

জেলা প্রতিনিধি:আধুনিকতার এই যুগে যান্ত্রিক গাড়ির প্রতিযোগিতায় হারিয়েই যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ি। দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এর ব্যবহার। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রত্যান্ত গ্রাম সলুয়া পশ্চিমপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ির দৌঁড় প্রতিযোগিতা। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা দেখতে হাজির হয়েছিল কয়েক হাজার দর্শক। সকাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও মূল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বিকেল চারটায়। সকাল থেকে খেলা দেখতে আশপাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা আসতে থাকে। দুপুর গড়াতেই বিলুপ্ত প্রায় এ দৌঁড় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। আর রোমাঞ্চকর এই প্রতিযোগিতা ঘিরে আনন্দ মেলা ছিল বাড়তি আকর্ষণ।
জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সলুয়া গ্রামের কয়েক তরুণের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এ গরুর গাড়ির দৌঁড় প্রতিযোগিতা। ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলা থেকে ১৮ ব্যক্তি তাঁর গরু ও গরুর গাড়ি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেন যশোর সদর উপজেলার দোহারপাড়া গ্রামের ইউছুপ আলী। দ্বিতীয় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা রজন মিয়া এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন কালীগঞ্জ মহিষাহাটি গ্রামের সেলিম উদ্দীন।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মতলেবুর রহমান এবং কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। খেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মকলেছুজ্জামান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান।
গরুর গাড়ির দৌঁড় প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ইউপি মেম্বার নাসির উদ্দীন জানান, কালীগঞ্জ উপজেলায় এই প্রথম গরুর গাড়ি দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল। হারানো ঐতিহ্য ও এলাকার মানুষকে আনন্দ দিতেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।