ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতায় পাক-ভারত উত্তপ্ত
- আপডেট সময় : ১০:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ১২৪৩ বার পড়া হয়েছে
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতায় পাক-ভারত উত্তপ্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারত ২০ আগস্ট ঘোষণা করেছে, তারা পূর্ব বঙ্গোপসাগর উপকূলের উড়িষ্যা থেকে তাদের মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫ সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। মে মাসে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটি চার দিনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তান নতুন আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড (এআরএফসি) গঠনের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পরই অগ্নি পরীক্ষাটি করে। বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে বছরের পর বছর চলা উত্তেজনা তো লেগেই আছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য চীন সফর
যাচ্ছেন। দুটি দেশের সম্পর্কের অনেকটা উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে। উভয় দেশ তাদের সম্পর্ক গভীর করে তুলছে। যা বিশ্বের জন্য নতুন বার্তা।
ভারতের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের ফলে চীন-ভারত সম্পর্ক আরও ইতিবাচক হয়ে উঠেছে। রাশিয়া থেকে নয়াদিল্লির তেল ক্রয়ের ব্যাপারে উত্তেজনার মধ্যে গেল বুধবার ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এতেই চটেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শিজিপিং।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও পাকিস্তান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ক্রমাগত সমৃদ্ধ করছে। দেশ দুটি ক্রমবর্ধমান নাগালের মধ্যে থাকা নতুন পদ্ধতির উন্মোচন করছে। এআরএফসি ঘোষণার আগে পাকিস্তান ফাতাহ-৪ প্রদর্শন করেছে, যা ৭৫০ কিলোমিটার দূরে এবং প্রচলিত ও পারমাণবিক উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
ইতোমধ্যে ভারত অগ্নি-৬ নিয়ে কাজ করছে, যার পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি হবে। এ ছাড়া দেশটি লক্ষ্যবস্তুতে স্বাধীনভাবে পরিবর্তনযোগ্য একাধিক ভেহিকেল সঙ্গে নিয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে, যা অগ্নি-৫ এ আগে থেকেই রয়েছে। এমআইআরভি-সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বেশ কয়েকটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম, যা তাদের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার ও পারমাণবিক নীতি বিশেষজ্ঞ তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেশটির বিভিন্ন অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে।
দ্য ইভোলিউশন অব নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স ইন সাউথ এশিয়ার লেখক ইয়ামিনের মতে, পাকিস্তানের কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ভারতকে কেন্দ্র করে এবং প্রতিরক্ষামূলক। অন্যদিকে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা উপমহাদেশের বাইরেও বিস্তৃত।
এর দূরপাল্লার ব্যবস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী শক্তি প্রদর্শনের জন্য সাজানো। বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে এবং প্রধান রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ একটি মহান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার উদ্দেশ্য।
ক্যানবেরাভিত্তিক বিশেষজ্ঞ আহমেদ বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে পশ্চিমা শক্তিগুলো প্রকাশ্যে সমর্থন করে। ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তিগুলো ভারতকে একটি নিজ দেশ ও অন্য দেশের নিরাপত্তা চিহ্নিত করতে সক্ষম হিসেবে কাজ করে বলে দেখেছে এবং দেশটি তাদের উৎসাহিত করেছে।
তবে আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যারি উল্লেখ করেছেন, বাইডেন প্রশাসনের মতো ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা ভারতের অগ্নি-৫ পরীক্ষা সম্পর্কে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। যতক্ষণ পর্যন্ত পাকিস্তান তার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগুলো শাহীন-৩ এবং আবাবিল দ্বারা প্রদর্শিত পাল্লার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে।
তিনি মনে করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি আশা করি না যে পশ্চিমা সরকারগুলো দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের অগ্রগতি নিয়ে অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা দেখাবে। তাঁর মতে, তাদের ব্যস্ত রাখার জন্য এখানে যথেষ্ট অন্যান্য সমস্যা রয়েছে।
















