ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজীপুররে আধিপত্য বিস্তারের জেরে স্যানেটারী মিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / ১০৭৮ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি:

গাজীপুর শহরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে সাদেক আলী (৩২) নামের এক স্যানেটারী মিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কয়েকজন যুবক। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতের এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বেশিরভাগই কলেজছাত্র।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাজীপুর সদর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পশ্চিম ভুরুলিয়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার আহমেদ আকাশ (২৩), শহরের মধ্য ছায়াবিথী এলাকার আমজাদ হোসেন মুকুলের ছেলে মেহেদী হাসান বিজয় (১৮), একই এলাকার বাদল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে নিলয় চন্দ্র বিশ্বাস (১৮), মারিয়ালী কলাবাগান এলাকার নুরুজ্জামানে ছেলে শামীম (১৮), কালীগঞ্জ উপজেলার কলাপাটুয়া এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে ঈমন আহমেদ (২০) ও সদর উপজেলার কুমুন এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে মোবা (১৯)।

এদের মধ্যে আকাশ এই মামলার প্রধান আসামি। আসামী মোবারক শহরের জজ আদালত এলাকার একটি হোটেলের বয়। কাওসার শহরের কাজী আজিম উদ্দীন কলেজ থেকে এবছর এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে, নিলয় একই কলেজের একাদশ শ্রেণীর, বিজয় রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ও ঈমন স্থানীয় লিংকন প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমার ছাত্র।

নিহত সাদেক আলী শেরপুরের ঝিনাইগাথী থানার বাঁকাকোড়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি গাজীপুর শহরের মধ্য ছায়াবিথী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হাসান জানান, সাদেক বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ছেলের জন্য বিস্কুট কিনতে বাসা সংলগ্ন দোকানে যান।

এ সময় সালাম না দেওয়া নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত যুবকদের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দিলে সাদেক বাসায় চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আসামিরা ফের সাদেককে তার বাসা থেকে ডেকে বের করে এনে মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলার ডান পাশে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং আসামিরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বড়হরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকা থেকে আরো দুইজন ও ঘটনাস্থলের পাশবর্তী ময়লার স্তুপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

জাকির হাসান আরো জানান, মামলার দুই নম্বর আসামি মেহেদী হাসান বিজয় মধ্য ছায়াবিথী এলাকার একটি প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে। সে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও তা ধরে রাখার জন্য সমবয়সী কয়েকজনের একটি গ্রুপ পরিচালনা করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

ট্যাগস :

গাজীপুররে আধিপত্য বিস্তারের জেরে স্যানেটারী মিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০৩:১৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

জেলা প্রতিনিধি:

গাজীপুর শহরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে সাদেক আলী (৩২) নামের এক স্যানেটারী মিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কয়েকজন যুবক। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতের এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বেশিরভাগই কলেজছাত্র।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাজীপুর সদর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পশ্চিম ভুরুলিয়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার আহমেদ আকাশ (২৩), শহরের মধ্য ছায়াবিথী এলাকার আমজাদ হোসেন মুকুলের ছেলে মেহেদী হাসান বিজয় (১৮), একই এলাকার বাদল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে নিলয় চন্দ্র বিশ্বাস (১৮), মারিয়ালী কলাবাগান এলাকার নুরুজ্জামানে ছেলে শামীম (১৮), কালীগঞ্জ উপজেলার কলাপাটুয়া এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে ঈমন আহমেদ (২০) ও সদর উপজেলার কুমুন এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে মোবা (১৯)।

এদের মধ্যে আকাশ এই মামলার প্রধান আসামি। আসামী মোবারক শহরের জজ আদালত এলাকার একটি হোটেলের বয়। কাওসার শহরের কাজী আজিম উদ্দীন কলেজ থেকে এবছর এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে, নিলয় একই কলেজের একাদশ শ্রেণীর, বিজয় রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ও ঈমন স্থানীয় লিংকন প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমার ছাত্র।

নিহত সাদেক আলী শেরপুরের ঝিনাইগাথী থানার বাঁকাকোড়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি গাজীপুর শহরের মধ্য ছায়াবিথী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হাসান জানান, সাদেক বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ছেলের জন্য বিস্কুট কিনতে বাসা সংলগ্ন দোকানে যান।

এ সময় সালাম না দেওয়া নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত যুবকদের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দিলে সাদেক বাসায় চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আসামিরা ফের সাদেককে তার বাসা থেকে ডেকে বের করে এনে মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলার ডান পাশে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং আসামিরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বড়হরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকা থেকে আরো দুইজন ও ঘটনাস্থলের পাশবর্তী ময়লার স্তুপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

জাকির হাসান আরো জানান, মামলার দুই নম্বর আসামি মেহেদী হাসান বিজয় মধ্য ছায়াবিথী এলাকার একটি প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে। সে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও তা ধরে রাখার জন্য সমবয়সী কয়েকজনের একটি গ্রুপ পরিচালনা করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।