ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত-শিবির ‘কালো শক্তি’এনসিপি তাদের সহযোগী: শোকজের জবাবে ফজলুর

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১২০৪ বার পড়া হয়েছে

জামায়াত-শিবির ‘কালো শক্তি’এনসিপি তাদের সহযোগী: শোকজের জবাবে ফজলুর

স্টাফ রিপোর্টারঃ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে দল থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার এই জবাব দেন তিনি। এতে তিনি ২০২৪‑এর গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই জবাব দেন ফজলুর রহমান।

কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ফজলুর বলেন, ‘আপনি জানতে চেয়েছেন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কেন আমি ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে এই অভিযোগটি অস্বীকার করে আমি বলতে চাই, আমি কোনোদিন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিই নাই, যা আমার স্বভাব ও চরিত্রের বিপরীতে। আমিই প্রথম ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি বুকে গুলি করে হত্যা করার পর বলেছিলাম, সে এই একুশ শতাব্দীর প্রথম ‘‘বীরশ্রেষ্ঠ’’। আমার বক্তব্যে জুলাই-আগস্ট শহীদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, আমি নাকি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কথা বলেছি, যা আমার দৃঢ় ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি অবিচার। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, আমি ইসলাম ধর্ম এবং আল্লাহ-রাসূলে বিশ্বাসী ব্যক্তি। তবে রাজনৈতিকভাবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের (যেমন জামায়াতে ইসলামী) বিরুদ্ধে চিরদিন কথা বলেছি, আগামীতেও বলব।’

এর পর দলের নেতৃবৃন্দের সু-বিবেচনার স্বার্থে কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেন ফজলুর। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পরতে পরতে সমন্ত কিছুর সঙ্গে জীবনের শঙ্কা নিয়েও যুক্ত ছিলাম, যা আমার দল এবং এ দেশের মানুষ জানে। ৫ আগস্ট আন্দোলনের বিজয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিস্ট শক্তি পালিয়ে গেল এবং জনগণ বিজয়ী হলে আমি সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম।’

বিএনপির এই নেতা লেখেন, ‘কিন্তু এর কিছুদিন পরেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সারজিস আলম ইসলামী ছাত্র শিবিরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনে দাঁড়িয়ে দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করল, জামায়াত-শিবিরই ছিল জুলাই আন্দোলনের মূল ভ্যানগার্ড। আমি সেদিনই প্রমাদ গুনলাম এবং আন্দোলনের সমস্ত বিজয়কে তারা নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করল। আমি জামায়াত-শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের এই অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে শতবার বলেছি। বিগত ১৫ বছরের আন্দোলনের জমিটি তৈরি করেছিল বিএনপি, বীজ এবং চারা রোপন করেছিল বিএনপি, তৈল-মবিল-পানি দিয়ে ধান ফলিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু ধান কাটার লগ্নে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সেই তৈরি ধানটি কেটে দিয়েছিল। তারা ছিল আমার ভাষায় ‘দাওয়াল’, কাজেই আন্দোলনের সমস্ত ফসল পাওয়ার দাবিটি অনুচিত।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতি নিয়ে ফজলুর দাবি করেন, ‘কিন্তু পরবর্তী সময়ে অবাক বিস্ময়ে সবাই দেখল, ৭১‑এর পরাজিত শক্তি জামায়াত-শিবির স্বদর্পে মাঠে হাজির হয়েছে এবং দাবি করছে সমস্ত আন্দোলনের ভ্যানগার্ড তারাই এবং শুধু একটা নির্বাচনের জন্যই তারা আন্দোলন করেনি; বরং ৭১‑এর মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকারের মতো দুঃসাহস তারা প্রদর্শন করতে লাগল। জামায়াত-শিবিরের (পরিচালিত) পত্রিকায় আহ্বান জানানো হলো–“৭১‑এ যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল তারা আল্লাহর কাছে মাফ চাও” (সূত্র: বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা)। সেদিন থেকে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে “মুক্তিযোদ্ধা” হিসেবে তাদেরকে সাবধান করার চেষ্টা করেছি। এর পর থেকে জামাত-শিবির এবং এনসিপি একসাথে বলতে শুরু করল, ১৯৪৭ হলো প্রথম স্বাধীনতা এবং ২০২৪ হলো দ্বিতীয় স্বাধীনতা, আর ১৯৭১ হলো ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া (সূত্র: বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা)। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে হলো এসব অশ্রাব্য এবং মিথ্যা তথ্য শোনার আগে আমার মৃত্যু হওয়া উচিত ছিল। তাই জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের সত্য কথাগুলো বলতে শুরু করলাম এবং জামায়াত-শিবিরকে “কালো শক্তি” চিহ্নিত করে এনসিপিকে তাদের সহযোগী বলতে শুরু করলাম। তারাই এখন দেশের সমস্ত প্রশাসন, অর্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয় দখল করেছে।’

ফজলুর রহমান দল হিসেবে বিএনপির প্রতি নিজের নিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার প্রিয় দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক “মেজর জিয়া” পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দল।’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে নানা বিরোধপূর্ণ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত ৬ মাস ধরে এ ব্যাপারে আমি শত শত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে দু‑একটা বক্তব্যে আমার কিছু ভুল‑ত্রুটিও থাকতে পারে; কারণ আমি তো মানুষ। আমি আরও দাবি করতে চাই সেনাবাহিনী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার অন্যায়ভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করার পারে আমি স্বৈরাচারী সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নেত্রীর মুক্তির জন্য সমগ্র বাংলাদেশে শত শত সভা ও জনসভায় বক্তব্য রেখেছি।’

ফজলুর বলেন, ‘আমি সবশেষে বলতে চাই, মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে জুলাই আন্দোলনের দুটি রূপ ছিল। প্রথমত, “বিএনপিসহ জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্বে” “গণ-আন্দোলন”, যার লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা। যার প্রধান স্লোগান ছিল–“এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই কবে যাবি”। কিন্তু আমি যাদেরকে অন্ধকারের “কালো শক্তি” বলেছি, তারা হলো জামায়াত-শিবির, যারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণ-আন্দোলনের ফসলকে কুক্ষিগত করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র এবং শক্তি সৃষ্টি করছে। জাতীয় নির্বাচন তাদের নিকট গৌণ ব্যাপার।’

সবশেষে এই নেতা বলেন, ‘আমার সার্বিক বক্তব্য উপস্থাপনায় যদি প্রমাণিত হয়, আমি কোনো ভুল বক্তব্য দিয়েছি, তবে আমি দুঃখ প্রকাশ করব। আমার প্রিয় দল বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়, এমন কোনো কথা ও কাজ আমি করিনি এবং করবও না। জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বের বিচার বিবেচনার প্রতি আমার সর্বোচ্চ আস্থা আছে, আশা করি আমি সুবিচার পাব এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদাই অনুগত থাকব।

ট্যাগস :

জামায়াত-শিবির ‘কালো শক্তি’এনসিপি তাদের সহযোগী: শোকজের জবাবে ফজলুর

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

জামায়াত-শিবির ‘কালো শক্তি’এনসিপি তাদের সহযোগী: শোকজের জবাবে ফজলুর

স্টাফ রিপোর্টারঃ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে দল থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার এই জবাব দেন তিনি। এতে তিনি ২০২৪‑এর গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই জবাব দেন ফজলুর রহমান।

কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ফজলুর বলেন, ‘আপনি জানতে চেয়েছেন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কেন আমি ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে এই অভিযোগটি অস্বীকার করে আমি বলতে চাই, আমি কোনোদিন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিই নাই, যা আমার স্বভাব ও চরিত্রের বিপরীতে। আমিই প্রথম ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি বুকে গুলি করে হত্যা করার পর বলেছিলাম, সে এই একুশ শতাব্দীর প্রথম ‘‘বীরশ্রেষ্ঠ’’। আমার বক্তব্যে জুলাই-আগস্ট শহীদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, আমি নাকি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কথা বলেছি, যা আমার দৃঢ় ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি অবিচার। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, আমি ইসলাম ধর্ম এবং আল্লাহ-রাসূলে বিশ্বাসী ব্যক্তি। তবে রাজনৈতিকভাবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের (যেমন জামায়াতে ইসলামী) বিরুদ্ধে চিরদিন কথা বলেছি, আগামীতেও বলব।’

এর পর দলের নেতৃবৃন্দের সু-বিবেচনার স্বার্থে কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেন ফজলুর। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পরতে পরতে সমন্ত কিছুর সঙ্গে জীবনের শঙ্কা নিয়েও যুক্ত ছিলাম, যা আমার দল এবং এ দেশের মানুষ জানে। ৫ আগস্ট আন্দোলনের বিজয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিস্ট শক্তি পালিয়ে গেল এবং জনগণ বিজয়ী হলে আমি সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম।’

বিএনপির এই নেতা লেখেন, ‘কিন্তু এর কিছুদিন পরেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সারজিস আলম ইসলামী ছাত্র শিবিরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনে দাঁড়িয়ে দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করল, জামায়াত-শিবিরই ছিল জুলাই আন্দোলনের মূল ভ্যানগার্ড। আমি সেদিনই প্রমাদ গুনলাম এবং আন্দোলনের সমস্ত বিজয়কে তারা নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করল। আমি জামায়াত-শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের এই অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে শতবার বলেছি। বিগত ১৫ বছরের আন্দোলনের জমিটি তৈরি করেছিল বিএনপি, বীজ এবং চারা রোপন করেছিল বিএনপি, তৈল-মবিল-পানি দিয়ে ধান ফলিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু ধান কাটার লগ্নে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সেই তৈরি ধানটি কেটে দিয়েছিল। তারা ছিল আমার ভাষায় ‘দাওয়াল’, কাজেই আন্দোলনের সমস্ত ফসল পাওয়ার দাবিটি অনুচিত।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতি নিয়ে ফজলুর দাবি করেন, ‘কিন্তু পরবর্তী সময়ে অবাক বিস্ময়ে সবাই দেখল, ৭১‑এর পরাজিত শক্তি জামায়াত-শিবির স্বদর্পে মাঠে হাজির হয়েছে এবং দাবি করছে সমস্ত আন্দোলনের ভ্যানগার্ড তারাই এবং শুধু একটা নির্বাচনের জন্যই তারা আন্দোলন করেনি; বরং ৭১‑এর মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকারের মতো দুঃসাহস তারা প্রদর্শন করতে লাগল। জামায়াত-শিবিরের (পরিচালিত) পত্রিকায় আহ্বান জানানো হলো–“৭১‑এ যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল তারা আল্লাহর কাছে মাফ চাও” (সূত্র: বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা)। সেদিন থেকে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে “মুক্তিযোদ্ধা” হিসেবে তাদেরকে সাবধান করার চেষ্টা করেছি। এর পর থেকে জামাত-শিবির এবং এনসিপি একসাথে বলতে শুরু করল, ১৯৪৭ হলো প্রথম স্বাধীনতা এবং ২০২৪ হলো দ্বিতীয় স্বাধীনতা, আর ১৯৭১ হলো ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া (সূত্র: বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা)। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে হলো এসব অশ্রাব্য এবং মিথ্যা তথ্য শোনার আগে আমার মৃত্যু হওয়া উচিত ছিল। তাই জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের সত্য কথাগুলো বলতে শুরু করলাম এবং জামায়াত-শিবিরকে “কালো শক্তি” চিহ্নিত করে এনসিপিকে তাদের সহযোগী বলতে শুরু করলাম। তারাই এখন দেশের সমস্ত প্রশাসন, অর্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয় দখল করেছে।’

ফজলুর রহমান দল হিসেবে বিএনপির প্রতি নিজের নিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার প্রিয় দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক “মেজর জিয়া” পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দল।’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে নানা বিরোধপূর্ণ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত ৬ মাস ধরে এ ব্যাপারে আমি শত শত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে দু‑একটা বক্তব্যে আমার কিছু ভুল‑ত্রুটিও থাকতে পারে; কারণ আমি তো মানুষ। আমি আরও দাবি করতে চাই সেনাবাহিনী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার অন্যায়ভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করার পারে আমি স্বৈরাচারী সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নেত্রীর মুক্তির জন্য সমগ্র বাংলাদেশে শত শত সভা ও জনসভায় বক্তব্য রেখেছি।’

ফজলুর বলেন, ‘আমি সবশেষে বলতে চাই, মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে জুলাই আন্দোলনের দুটি রূপ ছিল। প্রথমত, “বিএনপিসহ জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্বে” “গণ-আন্দোলন”, যার লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা। যার প্রধান স্লোগান ছিল–“এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই কবে যাবি”। কিন্তু আমি যাদেরকে অন্ধকারের “কালো শক্তি” বলেছি, তারা হলো জামায়াত-শিবির, যারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণ-আন্দোলনের ফসলকে কুক্ষিগত করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র এবং শক্তি সৃষ্টি করছে। জাতীয় নির্বাচন তাদের নিকট গৌণ ব্যাপার।’

সবশেষে এই নেতা বলেন, ‘আমার সার্বিক বক্তব্য উপস্থাপনায় যদি প্রমাণিত হয়, আমি কোনো ভুল বক্তব্য দিয়েছি, তবে আমি দুঃখ প্রকাশ করব। আমার প্রিয় দল বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়, এমন কোনো কথা ও কাজ আমি করিনি এবং করবও না। জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বের বিচার বিবেচনার প্রতি আমার সর্বোচ্চ আস্থা আছে, আশা করি আমি সুবিচার পাব এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদাই অনুগত থাকব।